(১) শাসকগণের সাথে আচরণ
১. আল্লাহর অবাধ্যতা ছাড়া সকল ক্ষেত্রে তার আনুগত্য করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ ‘হে মুমিনগণ! আল্লাহর আদেশ মান্য করো, রাসূলের আদেশ মান্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার শাসকদেরও’ (আন-নিসা, ৪/৫৯)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,وَمَنْ يُطِعِ الأَمِيرَ فَقَدْ أَطَاعَنِى وَمَنْ يَعْصِ الأَمِيرَ فَقَدْ عَصَانِى ‘যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল, আর যে আমীরের অবাধ্যতা করল, সে আমার অবাধ্যতা করল’।[1]
২. তাদের সঙ্গে বিরোধ ও মতভেদ সৃষ্টি না করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ ‘তোমরা বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের শক্তি চলে যাবে’ (আল-আনফাল, ৮/৪৬)।
৩. সেসব গুজব ও অপপ্রচারের ব্যাপারে সাবধান থাকা, যা কিছু মিডিয়া, চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয় এবং যা শাসক ও জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ও ফিতনা সৃষ্টি করে।
৪. তাদের জন্য দু‘আ করা, যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারেন। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘যদি আমার একটি দু‘আ কবুল হওয়ার নিশ্চয়তা থাকত, তবে আমি তা শাসকের জন্য করতাম’।[2]
৫. কথাবার্তা বা কার্যকলাপের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকা।
৬. শাসক কর্তৃক নির্ধারিত আইন ও ব্যবস্থাপনা মান্য করা; কারণ তা মানুষের জীবনের শৃঙ্খলা রক্ষা করে।
৭. তাদের সম্পর্কে অপবাদ, গালিগালাজ কিংবা গীবতের মতো জিহ্বা সংক্রান্ত গুনাহ থেকে বিরত থাকা।
(২) নিজের সাথে আচরণ
১. নিজের দ্বীনকে শিরক, বিদআত ও গুনাহ থেকে নিরাপদ রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া।
২. হৃদয়কে হিংসা, বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতার মতো রোগ থেকে পরিশুদ্ধ করা।
৩. ফিতনার স্থান থেকে দূরে থাকা, যাতে তুমি তার বিপদ থেকে নিরাপদ থাকতে পার।
৪. নিয়মিত নিজের আত্মসমালোচনা করা, যাতে নিজের ভুলত্রুটি শনাক্ত করে সংশোধন করা যায়।
৫. ভালো কাজের জন্য নিজের নাফসের সঙ্গে সংগ্রাম করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ ‘আর যারা আমার পথে সর্বশক্তি দিয়ে সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন’ (আল-আনকাবূত, ২৯/৬৯)।
৬. ইবাদতে ধৈর্য ধারণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ ‘আর তাঁর ইবাদতে ধৈর্য ধারণ করো বা অবিচল থাকো’ (মারইয়াম, ১৯/৬৫)।
৭. গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে ধৈর্য ধারণ করা। কারণ গুনাহ থেকে বিরত থাকা আল্লাহর শাস্তি সহ্য করার চেয়ে সহজ।
৮. নবী-রাসূল ও নেককার মানুষের জীবনী পাঠ করা, যাতে তাদের অনুসরণ করা যায়।
৯. আল্লাহর কাছে দু‘আ করা, যেন তিনি তোমার নাফসকে সংশোধন করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব’ (গাফির, ৪০/৬০)।
১০. এমন বন্ধু নির্বাচন করা, যে আল্লাহকে ভয় করে। কারণ একজন ব্যক্তি তার বন্ধুর দ্বীনের উপরই চলে।
১১. নিজের ভালো কাজ নিয়ে গর্ব না করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,وَلَوْلَا فَضْلُ اللهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَى مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ أَبَدًا ‘আর যদি তোমাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না থাকত, তবে তোমাদের মধ্যে কেউই কখনও পবিত্র হতে পারত না’ (আন-নূর, ২৪/২১)।
১২. খারাপ পরিকল্পনা ও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকা।
১৩. শারঈ ইলম অর্জন করা। কারণ তা তোমাকে নিজেকে সংশোধনের উপায় শেখায়।
১৪. নাফসের কিছু বৈধ বিষয়ে প্রয়োজন আছে, যেন তা ইবাদত ও কঠোর পরিশ্রমে বঞ্চিত না হয়ে যায়।
১৫. ইবাদতে বৈচিত্র্য আনা, যা নাফসের জন্য কল্যাণকর।
১৬. প্রতিটি নাফসেই দুর্বলতা (অলসতা) আসতে পারে; কিন্তু সতর্ক থাকো, যেন তা স্থায়ী না হয়।
১৭. যদি কোনো গুনাহ করে ফেলো, তাহলে দ্রুত ইস্তিগফার, তওবা ও অনুতাপ করো। কারণ হাদীছে এসেছে, النَّدَمُ تَوْبَةٌ ‘অনুতাপই হলো তওবা’।[3]
মূল: সুলতান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-উমরী
অনুবাদ: হুসাইন আহমাদ বিন সাইদুর রহমান
অধ্যয়নরত, কুল্লিয়্যাহ ২য় বর্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৩৫।
[2]. যদিও এই উক্তিটি ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়, তবে তা তার থেকে প্রমাণিত নয়। বরং এটি কাযী ইয়ায রাহিমাহুল্লাহ-এর উক্তি (হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৮/৯১)। শাই বাকর আবূ যায়েদ রাহিমাহুল্লাহও উক্তিটি ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর হওয়ার বিষয়টি নাকচ করেছেন (আত-তা‘সীল, পৃ. ৭৬)। -সম্পাদক।
[3]. ইবনে মাজাহ, হা/৪২৫২।
