কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪২) : আমি না বুঝে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হাউজ বিল্ডিং লোন গ্রহণ করেছি এবং জমি কেনার কাজে সহযোগিতার জন্য তা আমার বাবাকে দিয়েছি। পরে বুঝতে পেরে এই অপরাধের জন্য তওবা করেছি। এমতাবস্থায় উক্ত জমি কি আমার জন্য হালাল হবে? উল্লেখ্য যে, লোনকৃত টাকা আমার বেতন বা পেনশনের টাকা দিয়ে পরিশোধ করতে হবে। তাছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

উত্তর : সূদ একটি যুলুমভিত্তিক লেনদেন, যা ধনীকে আরো ধনী বানায় এবং গরীবকে আরো গরীব বানায়। মহান আল্লাহ সূদী লেনদেনকে হারাম করেছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে করেছেন হারাম (আল-বাক্বারা, ২/২৭৫)। জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, লেখক ও সাক্ষী সবার উপর অভিশাপ করেছেন এবং বলেছেন, এরা সকলেই অপরাধে সমান (ছহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৮; আত-তারগীব, হা/১৮৪৭; মিশকাত, হা/২৮০৭)। সুতারাং অতি সত্বর এ ধরনের লেনদেন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আর যদি সম্ভব হয় পুরো ঋণ পরিশোধ করার বা ঋণের টাকা ফেরত দেওয়ার তাহলে এক্ষুণি ফেরত দিতে হবে। দুনিয়ায় কুঁড়ে ঘরে বাস করা কোটি কোটি গুণে উত্তম, পরকালে জাহান্নামে বাস করার চেয়ে। যেহেতু ব্যক্তি এই অপরাধ থেকে তওবা করেছে, সেহেতু আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন বলে আমরা আশাবাদী। মহান বলেন, ‘হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজের উপর যুলুম করেছ তোমরা আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন (আয-যুমার, ৩৯/৫৩)। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘গুনাহ থেকে তওবাকারী ঐ ব্যক্তির মতো যার কোনো গুনাহ নাই’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০; আত-তারগীব, হা/৩১৪৫; মিশকাত, হা/২৩৬৩)।

-রবিউল আলম

নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।


Magazine