উত্তর : ইলমে আক্বীদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঈমান বা ঈমানের স্বরূপ। ঈমান-এর শাব্দিক অর্থ, ‘নিশ্চিত বিশ্বাস’। পরিভাষায়- অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি ও কর্মে বাস্তবায়নের সমন্বিত নাম ‘ঈমান’, যা আনুগত্যে বৃদ্ধি পায় ও গুনাহে হ্রাসপ্রাপ্ত হয় (ইবনু ঈসা, তাওযীহুল কাফিয়্যাহ আশ-শাফিয়্যাহ, ২/১৩৯; মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু মান্দাহ, আল-ঈমান, ১/৩৩১)। আবু উসামাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, ঈমান কী? তিনি বললেন, ‘যখন তোমার সৎকর্ম তোমাকে আনন্দ দিবে এবং তোমার অসৎকর্ম তোমাকে পীড়া দিবে, তখন তুমি মুমিন’। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, গুনাহ কী? রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যখন কোনো কাজে তোমার মনে বাধা সৃষ্টি হবে, তখন তুমি সেটা ছেড়ে দাও’ (আহমাদ, হা/২২২২০; মিশকাত, হা/৪৫)। পক্ষান্তরে, ‘আক্বীদা’ শব্দটির উৎপত্তিগত অর্থ- সুদৃঢ় বন্ধন, নিগূঢ় বিশ্বাস, গিরা বা বাঁধন। পরিভাষায়- মহান আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখিরাত ও তাক্বদীরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাকে ‘আক্বীদা’ বলা হয়। এটাকে ‘আরকানুল ঈমান’ও বলা হয়ে থাকে (ছালেহ ইবনু ফাওযান আল-ফাওযান, আক্বীদাতুত তাওহীদ, পৃ. ১-২; আল-মু‘জামুল ওয়াসীত্ব, পৃ. ৬৩৬-৬৩৭)।
-রবীউল ইসলাম
মিরপুর, কুষ্টিয়া।
