কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪০) : জনৈক ব্যক্তি নিজের বোনের নাতনীকে বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তাদের ৫টি সন্তানও হয়েছে। প্রশ্ন হলো, উক্ত বিবাহ কি বৈধ হবে? যদি বৈধ না হয় তাহলে বর্তমানে করণীয় কী?

উত্তর : বোনের নাতনীকে বিবাহ করা হারাম। কারণ সে মাহরামের অন্তর্ভুক্ত (নিসা, ২৩)। এছাড়া সহোদরা, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন, তাদের কন্যা এবং এ ধারাগুলো যত নিমেণর হোক না কেন তাদের বিয়ে করা হারাম (তাফসীর ফতহুল ক্বাদীর, ১/৪৪৫; কুরতুবী, ৫-৬/৭১; ফতহুল বারী, ৯/১৯২)। অজ্ঞতাবশত এরূপ করে থাকলে উক্ত বিবাহ বিচ্ছেদ হবে। এ ক্ষেত্রে মেয়েটি মোহর পাবে। সন্তানগুলো পুরুষটির সন্তান বলে গণ্য হবে। যদি তারা জেনে বুঝে এরূপ কাজ করে থাকে, তাহলে তাদের সন্তানরা জারজ সন্তান এবং অপরাধটিও হত্যাযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। বারা ইবনু আযিব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সাথে সাক্ষাৎ করলাম, যার হাতে একটি পতাকা ছিল। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন এক ব্যক্তির কাছে পাঠাচ্ছেন, যে তার সৎ মাকে বিয়ে করেছে। তিনি আমাকে তার শিরশ্ছেদ করতে এবং তার ধন-সম্পদ নিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন (আবুদাঊদ, হা/৪৪৫৭; নাসাঈ, হা/৩৩৩২)। এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, মাহরাম মহিলার সাথে বিবাহ করা হারাম ও হত্যাযোগ্য অপরাধ। এমতাবস্থায় জানার সাথে সাথে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/৮৮)। আর অপরাধের জন্য খালেছ অন্তরে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।

-জাহাঙ্গীর

ফুলবাড়ী, দিনাজুপুর।


Magazine