কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৫) : রামাযান মাসে ৩০ দিনে ৩০ পারা কুরআন খতম করার নির্দিষ্ট কোনো হুকুম ও ছওয়াব আছে কি?

উত্তর : রামাযান মাসে ৩০ দিনে ৩০ পারা কুরআন খতম করার পক্ষ নির্দিষ্ট কোনো হুকুম ও ফযীলত নেই। তবে প্রত্যেক ব্যক্তি রামাযানে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করবে এটাই সুন্নাত। আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রামাযানের প্রত্যেক রাতেই জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তিনি তাঁকে কুরআন শুনাতেন (ছহীহ বুখারী, হা/১৯০২, ৪৯৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩০৮)। মাসরূক্ব রাহিমাহুল্লাহ আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর মাধ্যমে ফাতেমা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, নাবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে গোপনে বলেছেন, প্রতি বছর জিবরীল আলাইহিস সালাম আমার সঙ্গে একবার কুরআন শুনান ও শুনেন; কিন্তু এ বছর তিনি আমার সঙ্গে দুবার এ কাজ করেছেন। মনে হচ্ছে আমার মৃত্যু আসন্ন (ছহীহ বুখারী, ৬৬/৭, ‘জিবরীল আলাইহিস সালাম নাবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কুরআন মাজীদ শুনতেন ও শুনাতেন’ পরিচ্ছেদ)। উল্লেখ্য যে, ‘রামাযানের প্রত্যেক রাতেই জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কুরআন তেলাওয়াত শুনতেন ও শুনাতেন’ -মর্মে বর্ণিত হাদীছের দোহাই দিয়ে আমাদের সমাজে তারাবীহর ছালাতে কুরআন খতম করার আমল চালু হয়েছে। যাকে বলা হয় ‘খতমে তারাবীহ’। অথচ ধর্মের নামে সমাজে এটি একটি নতুন প্রথা। এতে ইমাম যেমন তারতীলসহ তেলাওয়াত করতে পারেন না, তেমনি মুক্তাদীরা কিছু বুঝতে পারেন না। তাছাড়া এতে ছালাতের খুশূ-খুযূ ঠিক থাকে না। তবে তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ ছালাতে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ছাহাবায়ে কেরাম বেশি বেশি তেলাওয়াত করতেন মর্মে অনেক দলীল রয়েছে (মুওয়াত্ত্বা মালেক, ১/১১৫; মিশকাত, হা/১৩০২; ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ, ৪/১৮৬)। সাথে সাথে যে কোনো সময় কুরআন তেলাওয়াত করলে তাতে ছওয়াবের কোনো তারতম্য ঘটে না। বরং তেলাওয়াতের ছওয়াব সর্বাবস্থায় সমান। কেননা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পড়বে তার বিনিময়ে ১০টি ছওয়াব পাবে। আমি বলছি না যে, الم একটি হরফ বরং ‘আলিফ’ একটি হরফ ‘লাম’ একটি হরফ, ‘মীম’ একটি হরফ’ (তিরমিযী, হা/২৯১০; সিলসিলা ছহীহা, হা/৩৩২৭; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হা/১৪১৬; ছহীহ আল-জামে‘, হা/৬৪৬৯; সুনানে দারেমী, হা/৩৩১১)।

মাহমুদা বেগম

বাগমারা, রাজশাহী।


Magazine