রামাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করা সুন্নাত ও মুস্তাহাব আমল। এটি কল্যাণ লাভের আশায় ও লায়লাতুল ক্বদর পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন,
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ - وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ - لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ - تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ - سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ
‘আমরা একে নাযিল করেছি ক্বদরের রাত্রিতে। আপনি কি জানেন, ক্বদরের রাত্রি কী? ক্বদরের রাত্রি হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ রাতে অবতরণ করেন ফেরেশতাগণ এবং রূহ, তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে বিভিন্ন নির্দেশনা সহকারে। এ রাতে কেবলই শান্তি বর্ষণ হয়, যা চলতে থাকে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত’ (আল-ক্বদর, ৯৭/১-৫)।
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُجَاوِرُ فِي العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ وَيَقُولُ تَحَرَّوْا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ.
‘আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন এবং বলতেন, তোমরা রামাযানের শেষ দশকে লায়লাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করো’।[1]
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,تَحَرَّوْا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي الوِتْرِ مِنَ العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ ‘তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লায়লাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করো’।[2]
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লায়লাতুল ক্বদরে ক্বিয়ামের প্রতি উৎসাহ দিতেন এবং তা পালনে আগ্রহ সৃষ্টি করতেন। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,مَنْ قَامَ لَيْلَةَ القَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‘যে ব্যক্তি লায়লাতুল ক্বদরে ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় ছালাতে রত থাকবে, তার বিগত সকল (ছগীরা) গুনাহ ক্ষমা করা হবে’।[3]
ই‘তিকাফ শুধু মসজিদেই করা শরী‘আতসিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ‘তোমরা মসজিদসমূহে ই‘তিকাফরত অবস্থায় তাদের (স্ত্রীদের) প্রতি সংগত হয়ো না’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৭)। এছাড়া রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ই‘তিকাফ মসজিদেই হতো।
ই‘তিকাফরত ব্যক্তির জন্য সুন্নাত হলো, তিনি নিজেকে আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত রাখবেন। যেমন- ছালাত, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল, তাকবীর, ইস্তিগফার, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরূদ পাঠ, দু‘আ, দ্বীনি আলোচনা ও জ্ঞানার্জন।
ই‘তিকাফকারীর জন্য অপছন্দনীয় হলো, সে এমন কথা বা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখবে, যা তার জন্য উপকারী নয়। আবার তার জন্য এ কথাও অপছন্দনীয় যে, সে মনে করবে—‘কম কথা বলা’ই যেন আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার বিশেষ উপায়—এই ধারণায় নীরব থেকে যাবে।[4]
জরুরী প্রয়োজনে ই‘তিকাফের স্থান (মসজিদ) থেকে বাইরে বের হওয়া, যেমন- প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া, ওযূ বা গোসলে যাওয়া, খাবার বা ঔষধ আনা ইত্যাদি। চুল আচড়ানো, মাথা মুণ্ডানো, নখ কাটা, শরীর পরিষ্কার করা- এসবও ই‘তিকাফকারীর জন্য বৈধ।
তবে ই‘তিকাফ বাতিল হয়ে যাবে যদি তিনি অপ্রয়োজনে মসজিদ থেকে বাইরে যান অথবা তিনি স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করেন।
মূল: ড. আব্দুল আযীম আল-বাদাবী
অনুবাদ: হাফীযুর রহমান বিন দিলজার হোসাইন
প্রিন্সিপ্যাল, দারুস সালাম ইসলামী কমপ্লেক্স, পিরুজালী ময়তাপাড়া, গাযীপুর।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/২০২০; ছহীহ মুসলিম, হা/১০২৬।
[2]. ছহীহ বুখারী, হা/২০১৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬৯।
[3]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯০১,২০১৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৬০।
[4]. ফিক্বহুস সুন্নাহ, ৪/৪০৪ (সংক্ষেপিত)।
