গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সাদা সন্ত্রাসীর ব্রাশফায়ারে ৩ বাংলাদেশীসহ ৪৯ জন শাহাদাতবরণ করেছেন। এসব ঘটনায় অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলায় জড়িত থাকার দায়ে ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামক অস্ট্রেলীয় এক শ্বেতাঙ্গ জঙ্গিসহ ৪ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন একে সন্ত্রাসী হামলা হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেন, এটি দেশটির ইতিহাসের ‘কালো দিনগুলোর’ একটি। সাদা সন্ত্রাসীর ব্রাশফায়ার থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সেদেশে সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা। শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী লাইভে এসে পুরো হামলার দৃশ্য প্রচার করে। ১৭ মিনিটের এই হামলাকে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা ঠাণ্ডা মাথায় খুন বলে আখ্যায়িত করেছেন। এদিকে এ সাদা সন্ত্রাসীর ব্রাশফায়ারে মানুষ হত্যার নিন্দা ও নিহতদের প্রতি শোক জানিয়েছেন বিশ্বের মুসলিম, খ্রীস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের নেতৃবৃন্দ, রাষ্ট্রপ্রধান থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ক্রিকেট ঘরানা ও সাধারণ মানুষ।
আল-নূর নামের ঐ মসজিদে হামলাকারী সন্দেহে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আরো হামলাকারী পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। ৪৯ জনের মধ্যে ৪১ জন ডিন এভিনিউয়ে অবস্থিত আল-নূর মসজিদে এবং ৭ জন লিনউড মসজিদে শাহাদাতবরণ করেন। এছাড়া একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি সন্দেহভাজন হামলাকারীকে একজন ‘মৌলবাদী, অতি-ডানপন্থী, সহিংস সন্ত্রাসী’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। ইশতেহারে তিনি বলেন, আমি মুসলিমদের অপছন্দ করি। আমি সেসব মুসলিমকে ঘৃণা করি, যারা অন্য ধর্ম থেকে এসে মুসলিম হয়। হামলাকারী এসব মুসলিমকে রক্তের সঙ্গে প্রতারণাকারী বলে উল্লেখ করেছেন। এসব প্রতারণাকারীর বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই। লিনউড মসজিদে হামলার পর এক তরুণ বনদুকধারীর অস্ত্র কেড়ে নিয়ে অনেকের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন সাহসী ঐ তরুণ। ঐদিন জুম‘আর ছালাতের সময় যখন এই হামলার ঘটনা ঘটে তখন তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে বন্দুকধারীর সঙ্গে খালি হাতে লড়াই করে অস্ত্র কেড়ে নেন। আর তার কারণেই প্রাণে বেঁচে যায় অনেক মানুষ। নইলে লিনউড মসজিদেও অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটতো।
