কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

জ্ঞানার্জনে সাবধানতা

অবতরণিকা :

পৃথিবীতে তারাই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট, যারা দ্বীনী ইলম অর্জন করে, মানুষের মাঝে তার অর্জিত জ্ঞান বিলিয়ে দেয় এবং নিজে সে অনুযায়ী আমল করে। ফেরেশতারা তাদের পায়ের নিচে ডানা বিছিয়ে দেয়। আল্লাহ্র সৃষ্টি জীবসমূহ তাদের কল্যাণের দু‘আ করতে থাকে। সর্বোপরি জ্ঞানার্জনকারীর মর্যাদা অনেক। আল্লাহ যাদের কল্যাণ কামনা করেন, কেবলমাত্র তাদেরকেই এ জ্ঞানার্জনের তাওফীক্ব দান করে থাকেন।

তবে দ্বীনী জ্ঞান অন্বেষণে কিছু বিষয়ের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। আর এগুলোর মধ্যে হতে এখানে সামান্য কয়েকটি আলোকপাত করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ। এখানে আলোচিত হবে সেই বিষয়গুলো, যা থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক জ্ঞানার্জনকারীর জন্য আবশ্যক। কাউকে কষ্ট দেওয়ার জন্য নয়; বরং এটা উৎসাহিত করবে ঐসব ভাই-বোনদেরকে যারা ক্ষতিকর জ্ঞানার্জন হতে মুক্ত থেকে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির লক্ষ্যেয জ্ঞানার্জন করতে চান। আল্লাহ আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস কবুল করুন- আমীন!

বাহাদুরী, ঝগড়া ও বড়ত্ব প্রকাশের জন্য জ্ঞানার্জন :

জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, কেননা জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য বাহাদুরী, ঝগড়া অথবা বড়ত্ব প্রকাশের জন্য হওয়া যাবে না। মানুষেরা আমাকে বড় আলেম বলবে, বিখ্যাত আলেম হিসাবে পরিচিতি লাভ করব, আমাকে শ্রেষ্ঠ আলেম হিসাবে খেতাব দেওয়া হবে, সবাই আমাকে ভাল একজন আলেম বলবে, এ ধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে জ্ঞানার্জন করা যাবে না। এ সম্পর্কে হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوْا بِهِ الْعُلَمَاءَ وَلَا لِتُمَارُوْا بِهِ السُّفَهَاءَ وَلَا تَخَيَّرُوْا بِهِ الْمَجَالِسَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَالنَّارُ النَّارُ.

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা আলেমদের উপরে বাহাদুরী প্রকাশের জন্য, নির্বোধদের সাথে ঝগড়া করার জন্য এবং জনসভার উপরে বড়ত্ব প্রকাশের জন্য ধর্মীয় জ্ঞানার্জন কর না। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, তার জন্য রয়েছে আগুন আর আগুন’।[1] অপর হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُمَارِىَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ لِيُبَاهِىَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيَصْرِفَ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ فَهُوَ فِى النَّارِ.

ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি নির্বোধের সাথে ঝগড়া করার জন্য অথবা আলেমদের উপরে বাহাদুরী প্রকাশের জন্য অথবা তার প্রতি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জ্ঞানার্জন করে, সে জাহান্নামী’।[2] অপর হাদীছে পাওয়া যায়,

 عَن كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُجَارِىَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِىَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللهُ النَّارَ.

কা‘ব বিন মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘যে লোক আলেমদের সাথে তর্ক-বাহাছ করার জন্য অথবা মূর্খদের সাথে বাক-বিতণ্ডা করার জন্য এবং মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্য ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ করে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন’।[3]

প্রিয় পাঠক! হাদীছগুলো থেকে আরো স্পষ্ট হয় যে, গ্রাম্য মূর্খ লোকেরা ইসলামের অনেক বিধান নিয়ে তর্ক করে থাকে, তাদেরকে তর্কে হারানোর জন্য বা তাদের সাথে তর্ক করার জন্য জ্ঞানার্জন করা যাবে না। দেশের আলেমদের মাঝে আমাকেই যেন বড় আলেম বলা হয় এজন্য বা এ উদ্দেশ্য নিয়ে জ্ঞানার্জন করা যাবে না। এমনকি সাধারণ মানুষেরা অন্য আলেমদের তুলনায় আমাকেই সবচাইতে বেশি পসন্দ করবে এবং বেশি বেশি তাদের মাঝে খেদমতে ডাকবে, বড় মাওলানা বলে দেশের সর্বস্তরের মানুষ আমাকেই সম্মান করবে এমন সব উদ্দেশ্য নিয়ে জ্ঞানার্জন করা নিষিদ্ধ। আর যদি কারো উদ্দেশ্য এমন হয়, তাহলে হাদীছের আলোকে সেই জ্ঞানী হবে জাহান্নামী!

পার্থিব স্বার্থ সিদ্ধির জন্য জ্ঞানার্জন :

অনেকেই জ্ঞানার্জন করে থাকেন দুনিয়া লাভের আশায়। দুনিয়ার ক্ষমতা, সম্পদ, অর্থ, সম্মান ইত্যাদি পাওয়ার জন্য, যা মোটেও উচিত নয়। মূলত জ্ঞানার্জন করতে হবে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির লক্ষ্যে। অথচ অধিকাংশ জ্ঞান অন্বেষণকারী এ ব্যাপারে গাফেল। জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যই যেন দুনিয়া পাবার জন্য। চাকুরী, বাড়ী, গাড়ি ইত্যাদি হাছিল করাই যেন জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সম্পর্কে কুরআনে পাওয়া যায়,

مَنْ كَانَ يُرِيْدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيْهَا لَا يُبْخَسُوْنَ- أُوْلَئِكَ الَّذِيْنَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ.

‘যে কেউ পার্থিব জীবন ও উহার শোভা কামনা করে, দুনিয়ায় আমি তাদের কর্মের পূর্ণফল দান করি এবং সেখানে তাদেরকে কম দেওয়া হবে না। তাদের জন্য আখিরাতে জাহান্নাম ব্যতীত অন্য কিছুই নেই এবং তারা যা করে, আখিরাতে তা নিষ্ফল হবে এবং তারা যা করে থাকে, তা নিরর্থক’ (হূদ, ১৫-১৬)

প্রিয় পাঠক! ভেবে দেখেছেন কি? এই আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ তা‘আলা কী বলতে চেয়েছেন? তাই আমাদের জ্ঞানার্জন করাটা আল্লাহ্র জন্য হতে হবে, দুনিয়া লাভের জন্য হওয়া একেবারেই ঠিক হবে না। আপনি এবার বলতে পারেন যে, শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য এবং পরকালের জন্য জ্ঞানার্জন করব, তাহলে দুনিয়ার জীবন কীভাবে অতিবাহিত করব? দুনিয়ায় চলতে গেলে তো সম্পদ, সম্মান সব কিছুই প্রয়োজন রয়েছে! একথার জবাবে বলা যেতে পারে, আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জন করলে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে যাবেন। শুধু তাই নয় আল্লাহই তখন খুশি হয়ে তাকে দুনিয়াবী অনেক কিছু দিয়ে দিবেন। এ সম্পর্কে হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ لَوْ أَنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ صَانُوا الْعِلْمَ وَوَضَعُوْهُ عِنْدَ أَهْلِهِ لَسَادُوْا بِهِ أَهْلَ زَمَانِهِمْ وَلَكِنَّهُمْ بَذَلُوْهُ لْأَهْلِ الدُّنْيَا لِيَنَالُوْا بِهِ مِنْ دُنْيَاهُمْ فَهَانُوا عَلَيْهِمْ سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ مَنْ جَعَلَ الْهُمُوْمَ هَمًّا وَاحِدًا هَمَّ آخِرَتِهِ كَفَاهُ اللهُ هَمَّ دُنْيَاهُ وَمَنْ تَشَعَّبَتْ بِهِ الْهُمُوْمُ فِىْ أَحْوَالِ الدُّنْيَا لَمْ يُبَالِ اللهُ فِى أَىِّ أَوْدِيَتِهَا هَلَكَ.

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলেমরা যদি জ্ঞানার্জনের পর তা সংরক্ষণ করে এবং তা যোগ্য আলেমদের সামনে রেখে দেয়, তাহলে অবশ্যই তারা নিজ যুগের জনগণের নেতৃত্ব দিবে। কিন্তু তারা তা দুনিয়াদারদের নিকট পেশ করেছে পার্থিব স্বার্থ লাভের জন্য। ফলে তারা তাদের নিকট হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে! আমি তোমাদের নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি তার সমস্ত চিন্তাকে একই চিন্তার জন্য অর্থাৎ আখিরাতের চিন্তায় কেন্দ্রীভূত করেছে, আল্লাহই তার দুনিয়ার চিন্তার জন্য যথেষ্ট, অপর দিকে যে ব্যক্তি যাবতীয় পার্থিব চিন্তায় নিমগ্ন থাকবে, সে কোন উন্মুক্ত মাঠে ধ্বংস হোক তাতে আল্লাহ্র কিছুই আসে যায় না’।[4] অপর হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ لَا يَتَعَلَّمُهُ إِلَّا لِيُصِيْبَ بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَجِدْ عَرْفَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَعْنِىْ رِيْحَهَا.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে জ্ঞান দ্বারা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয়, যদি কেউ সেই জ্ঞান পার্থিব স্বার্থ সিদ্ধির জন্য শিক্ষা করে, তাহলে সে ক্বিয়ামতের দিন জান্নাতের সুবাসও পাবে না’।[5] অপর হাদীছে পাওয়া যায়, সুলায়মান ইবনে ইয়াসার রাহিমাহুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা লোকজন যখন আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছিল, তখন সিরিয়া অধিবাসী নাতিল রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হে শায়খ! আপনি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন এমন একটি হাদীছ আমাদেরকে শুনান। তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হ্যাঁ, আমি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হচ্ছে শহীদ, তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তার নিয়ামতরাজির কথা তাকে বলবেন, সে তার সব চিনতে পারবে (যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে), তখন আল্লাহ বলবেন, এর বিনিময়ে কী আমল করেছিলে? তখন সে বলবে, আমি তোমারই পথে যুদ্ধ করেছি এমনকি তোমার পথেই শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছো, বরং তুমি এজন্যই যুদ্ধ করেছিলে, যাতে লোকে তোমাকে বলে তুমি বীর, তা বলা হয়েছে। অতঃপর নির্দেশ মোতাবেক তাকে উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অপর এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হবে, যে জ্ঞানার্জন ও তা বিতরণ করেছে এবং কুরআন অধ্যয়ন করেছে। তাকে হাযির করে আল্লাহ তার প্রদত্ত নিয়ামতের কথা বলবেন এবং সে তা চিনতে পারবে (যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও দিবে), তখন আল্লাহ বলবেন, ‘এতবড় নিয়ামতের বিনিময়ে তুমি কী করেছো? সে বলবে, আমি জ্ঞানার্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি ও কুরআন অধ্যয়ন করেছি তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছো। তুমি তো জ্ঞানার্জন করেছিলে এজন্য যে, লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলবে। কুরআন অধ্যয়ন করেছিলে এজন্য যে, যাতে লোকে বলে তুমি একজন ক্বারী, তা তো বলা হয়েছে! অতঃপর নির্দেশ মোতাবেক তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর এমন এক ব্যক্তির বিচার হবে, যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা এবং সার্বিক বিত্ত-বৈভব দান করেছেন, তাকে প্রদত্ত নিয়ামতরাজির কথা বলবেন, সে তা চিনতে পারবে (স্বীকারোক্তিও দিবে), তখন আল্লাহ বলবেন, এসব নিয়ামতের বিনিময়ে তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, সম্পদ ব্যয়ের এমন কোন খাত নেই, যাতে সম্পদ ব্যয় করা তুমি পসন্দ কর, আমি সে খাতে তোমার সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করেছি। আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছো। বরং তুমি এজন্য তা করেছিলে, যাতে লোকে তোমাকে দানবীর বলে অভিহিত করে। অতঃপর তাকেও নির্দেশ মোতাবেক উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’।[6]

প্রিয় পাঠক! হাদীছগুলো হতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, দুনিয়া লাভের আশায় বা দুনিয়ার কোন কিছু পাওয়ার আশায় জ্ঞানার্জন করলে সে জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না অর্থাৎ জাহান্নামী হবে। পক্ষান্তরে আল্লাহ্র জন্যই জ্ঞানার্জন করলে, আল্লাহ্র পক্ষ হতে তাকে উভয়কালে সফলতা প্রদান করা হবে। তাই সবাইকে জ্ঞানার্জন করতে হবে একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য।

ইলম বা জ্ঞান গোপন করা :

বর্তমান সময়ের আলেম সমাজের সবচাইতে বড় সমস্যা হচ্ছে, ইলম বা জ্ঞান গোপন করা অর্থাৎ জানা বিষয় অন্যের কাছে গোপন রাখা। আলেম সমাজের কিছু কিছু লোক বিভিন্ন কারণে জ্ঞান গোপন করে যাচ্ছেন। কেউ চাপে পড়ে, কেউ ভয়ে, কেউ ফিৎনা হতে বাঁচতে, কেউ নিজ স্বার্থ রক্ষার্থে আবার কেউ নিজ নেতৃত্ব রক্ষার্থে, কেউ আবার নিজ মাযহাব, দল বা সংগঠন এর স্বার্থে। যা করা ঠিক নয়। এ সম্পর্কে কুরআনে এসেছে,

إِنَّ الَّذِيْنَ يَكْتُمُوْنَ مَا أَنْزَلَ اللهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُوْنَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيْلًا أُوْلَئِكَ مَا يَأْكُلُوْنَ فِيْ بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ - أُوْلَئِكَ الَّذِيْنَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ فَمَا أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ.

‘আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন রাখে ও বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ব্যতীত আর কিছুই পুরে না। ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না। তাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি। তারাই সৎপথের বিনিময়ে ভ্রান্তপথ এবং ক্ষমার পরিবর্তে শাস্তি ক্রয় করেছে! আগুন সহ্য করতে তারা কতইনা ধৈর্যশীল!’ (বাক্বারা, ১৭৪-১৭৫)। প্রিয় জ্ঞানার্জনকারী! বর্তমানে সময়ে উক্ত আয়াতদ্বয়ের দিকে খেয়াল রেখে চলতে হবে, যাতে করে নিজেদের দ্বারা ইসলামের কোন বিধান গোপন না হয়। কেননা আপনারাই হচ্ছেন আগামী দিনের আলেম সমাজ। মহানবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ছাহাবীদেরকে এ সম্পর্কে সাবধান করে গেছেন। হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ عَلِمَهُ ثُمَّ كَتَمَهُ أُلْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে লোক এমন ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়, যা সে জানে, অতঃপর সে তা গোপন করে, তাকে ক্বিয়ামতের দিন আগুনের লাগাম পরানো হবে’।[7] অপর হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ رَجُلٍ يَحْفَظُ عِلْمًا فَيَكْتُمُهُ إِلَّا أُتِىَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلْجَمًا بِلِجَامٍ مِنَ النَّارِ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কোন ব্যক্তি (দ্বীনের) জ্ঞানের কথা শিক্ষা করার পর তা গোপন করে রাখলে ক্বিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো অবস্থায় উপস্থিত করা হবে’।[8] অপর হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ يَعْلَمُهُ فَكَتَمَهُ أُلْجِمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোন ব্যক্তি তার জানা জ্ঞানের কথা জিজ্ঞাসিত হয়ে তা গোপন করলে ক্বিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে’।[9]

প্রিয় পাঠক! উক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জ্ঞান গোপন করা যাবে না। অতএব, জ্ঞান গোপন করার মত জঘন্য কাজ হতে বেঁচে থাকা অতীব যরূরী।

ফৎওয়া প্রদান করা :

মুসলিম সমাজের কল্যাণার্থে ফৎওয়া প্রদান করতে হবে। কিন্তু সকলেই ফৎওয়া প্রদান করতে পারবে না। কেবলমাত্র জ্ঞানী, যোগ্য আলেম এ কাজের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে ফৎওয়া প্রদানে নিজ মতামতকে উপেক্ষা করে কেবলমাত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের মাধ্যমে সমাধান দিতে হবে। বর্তমানে কিছু আলেম ফৎওয়া প্রদান করে যাচ্ছেন মনগড়া বক্তব্য দিয়ে। নিজ দল, মত, সম্মান ইত্যাদি রক্ষার্থে, যা একেবারেই ঠিক নয়। জ্ঞানার্জনকারীরা যেহেতু আগামী দিনের আলেম সমাজ, তাই তাদেরকে উক্ত বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,

فَاسْأَلُوْا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ- بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ.

‘তোমরা যদি না জান, তাহলে জ্ঞানীগণকে জিজ্ঞেস কর (জেনে নাও), স্পষ্টভাবে দলীল-প্রমাণ সহ’ (নাহ্ল, ৪৩-৪৪)

প্রিয় পাঠক! মহান আল্লাহ্র বাণী হতে প্রতীয়মান হয় যে, যারা কুরআন ও হাদীছের পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখে, কেবলমাত্র তাঁরাই দলীল ও প্রমাণ সহ ফৎওয়া প্রদান করতে পারবেন। যিনি জানেন না, তিনি ফৎওয়া প্রদান করবেন না। সালাফে ছালেহীনের জীবনের দিকে লক্ষ্য করলে জানা যায়, তারা কোন বিষয় না জানলে সরাসরি বলে দিতেন, আমি জানি না। এ সম্পর্কে হাদীছে পাওয়া যায়,

عن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إِنَّ اللهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ النَّاسِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يَتْرُكْ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا فَسُئِلُوْا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوْا وَأَضَلُّوْا.

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আছ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘শেষ যামানায় আল্লাহ মানুষের নিকট হতে একটানে ইলম (জ্ঞান) উঠিয়ে নিবেন না। বরং আলেমগণকে উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নিবেন। অবশেষে যখন কোন আলেমই অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষেরা অজ্ঞ-জাহেলদেরকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তাদের নিকটে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে, আর তারা (নেতারা) ইলম ছাড়াই ফৎওয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে’।[10] অপর হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أُفْتِىَ بِفُتْيَا غَيْرَ ثَبَتٍ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى مَنْ أَفْتَاهُ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘দলীল-প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ব্যতীত কাউকে ফৎওয়া দেওয়া হলে তার পাপের বোঝা ফৎওয়া প্রদানকারীর উপরে বর্তাবে’।[11]

প্রিয় পাঠক! ফৎওয়া প্রদান করার মহৎ দায়িত্বে নিজেকে নিয়োজিত করার পূর্বে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সমাজে, রাষ্ট্রে অর্থাৎ জীবনের সর্বক্ষেত্রে সকল বিষয় বিবেচনা করে কুরআন ও হাদীছ হতে সঠিক সমাধান দিতে হবে। তাই ফৎওয়া প্রদানে সবাইকে যথাযথ সতর্ক থাকতে হবে।

যে জ্ঞান অর্জন করা উচিত :

জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন যে, যে জ্ঞানটি অর্জন করা হচ্ছে তা যেন উপকারী জ্ঞান হয়। যার দ্বারা নিজে এবং অন্যরাও উপকার লাভ করতে পারে। যে জ্ঞান দ্বারা উভয়কালে উপকার এবং মুক্তি লাভ করা যাবে, ঠিক সেই জ্ঞানটাই অর্জন করতে হবে। আর উপকারী ও কল্যাণকর জ্ঞান লাভের জন্য মহান আল্লাহ্র বিশেষ সাহায্য কামনা করতে হবে। কেননা মহানবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও উপকারী জ্ঞানের জন্য প্রতিপালকের দরবারে দু‘আ করতেন। এ সম্পর্কে হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ مِنْ دُعَاءِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْأَرْبَعِ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ وَمِنْ دُعَاءٍ لاَ يُسْمَعُ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি দু‘আ এই যে ‘হে আল্লাহ! আমি সেই জ্ঞান থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই, যা কোন উপকারে আসে না, এমন দু‘আ থেকে, যা শোনা হয় না, সেই অন্তর থেকে, যা ভীত হয় না এবং সেই দেহ থেকে, যা তৃপ্ত হয় না’।[12] অপর হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ انْفَعْنِىْ بِمَا عَلَّمْتَنِىْ وَعَلِّمْنِىْ مَا يَنْفَعُنِىْ وَزِدْنِىْ عِلْمًا.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন ‘হে আল্লাহ! তুমি যে জ্ঞান আমাকে শিখিয়েছ, তার দ্বারা আমাকে উপকৃত কর, আমাকে এমন জ্ঞান দান কর, যা আমার উপকারে আসে, আমার জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে দাও’।[13] অপর হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِىْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ مَا يُخَلِّفُ الرَّجُلُ مِنْ بَعْدِهِ ثَلَاثٌ وَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ وَصَدَقَةٌ تَجْرِىْ يَبْلُغُهُ أَجْرُهَا وَعِلْمٌ يُعْمَلُ بِهِ مِنْ بَعْدِهِ .

আব্দুল্লাহ ইবনে আবু ক্বাতাদাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ তার (মৃত্যুর) পরে যা কিছু রেখে যায়, তার মধ্যে তিনটি জিনিস কল্যাণকর: সৎকর্মপরায়ণ সন্তান, যে তার জন্য দু‘আ করে, ছাদাক্বায়ে জারিয়া, যার ছওয়াব তার কাছে পৌঁছে এবং এমন জ্ঞান, যা তার মৃত্যুর পরও কাজে লাগানো যায়’।১৪ অপর হাদীছে পাওয়া যায়,

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ إِذَا صَلَّى الصُّبْحَ حِيْنَ يُسَلِّمُ اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا.

উম্মু সালামাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের ছালাত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে বলতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক ও কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি’।১৫

হাদীছগুলো হতে স্পষ্ট হয় যে, এমন জ্ঞান আমাদেরকে অর্জন কতে হবে, যা দুনিয়া ও পরকালে উপকারে আসবে। প্রকৃতপক্ষে এখানে উপকারী জ্ঞান বলতে এমন জ্ঞানকে বুঝানো হয়েছে, যার মাধ্যমে পরকালে মুক্তি লাভ করা যাবে। উপকারী ইলম (জ্ঞান) অর্জন করতে হলে স্বয়ং মহান আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করা প্রয়োজন। তাইতো আমাদের নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই উপকারী ইলম লাভের জন্য প্রতিপালকের দরবারে প্রার্থনা করেছেন। অতএব, জ্ঞানার্জনকারী প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, মহান আল্লাহ্র কাছে সবসময় উপকারী জ্ঞানার্জনের তাওফীক্ব চাওয়া। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন- আমীন!


[1]. ইবনু মাজাহ, হা/২৬৩।

[2]. ইবনু মাজাহ, হা/২৬২; মিশকাত, হা/২২৫।

[3]. তিরমিযী, হা/২৬৫৪।

[4]. ইবনু মাজাহ, হা/২৫৭; মিশকাত, হা/২৬৭।

[5]. আবুদাঊদ, হা/৩৬৬৬; মিশকাত, হা/২২৭।

[6]. ছহীহ মুসলিম, হা/৫০৩২; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩৫১৮।

[7]. তিরমিযী, হা/২৮৬১; মিশকাত, হা/২২৩।

[8]. ইবনু মাজাহ, হা/২৭২।

[9]. ইবনু মাজাহ, হা/২৭৮।

[10]. ইবনু মাজাহ, হা/৫৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৯৭১।

[11]. ইবনু মাজাহ, হা/৫৩।

[12]. আবুদাঊদ, হা/১৫৪৮; মিশকাত, হা/২৪৬৪।

[13]. তিরমিযী, হা/ ৩৫৯৯; ইবনু মাজাহ, হা/২৫১; মিশকাত, হা/২৪৯৩।

[14]. ইবনু মাজাহ, হা/২৪৭।

[15]. ইবনু মাজাহ, হা/৯২৫।

Magazine