‘অলা এবং বারা’-এর ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহ্র রূঢ় বাস্তবতা :
মুমিনদের সাথে কেমন ‘অলা’ বজায় রেখে চলতে হবে, কাফেরদের সাথে কেমন ‘বারা’ পোষণ করতে হবে এবং বাস্তবতা কী? কেউ যদি এ নিয়ে ভাবে, তাহলে খুব আশ্চর্য হয়ে যাবে। কেননা ‘অলা-বারা’ সম্পর্কে কুরআন-হাদীছের বক্তব্য এবং এর বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ঢের তফাৎ সে দেখতে পাবে; বরং এতদুভয়ের মধ্যে তেমন কোন মিলই সে খুঁজে পাবে না। একদিকে যেমন মুসলিমদের পারস্পরিক ‘অলা’ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে, অন্যদিকে তেমনি কাফেরদের সাথে ‘বারা’ না হয়ে ‘অলা’র ভিত্তি মযবূত হয়েছে। দিনে দিনে মুসলিমদের পারস্পরিক মায়া-মমতা, স্নেহ-ভালবাসা, সাহায্য-সহযোগিতা, সহানুভূতি-দয়া, মান-মর্যাদা, সম্মান-শ্রদ্ধা ইত্যাদিকে ফেতনার উত্তাল তরঙ্গ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা একে অন্যের শত্রুতে পরিণত হচ্ছে। অথচ কাফেরদের সাথে তাদের মিত্রতা বেশ জমে উঠছে, মুসলিম দেশে কাফেররা ঠিকই শান্তি, নিরাপত্তা ও সুখে বসবাস করছে। অথচ মুসলিমরা নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হচ্ছে!
সাধারণ কাফের-মুশরিকদের সাথে চলাফেরার ক্ষেত্রে ইসলামী রীতি-নীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। কেউ তাদের সাথে আন্তরিক মিতালি বজায় রেখে চলছে, কেউবা এর সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করছে, আবার কেউবা তাদের সাথে ইসলাম সমর্থিত আচরণকেও হারাম মনে করছে। ইসলামে ‘আহলুয-যিম্মাহ’, ‘মু‘আহাদ’ ও ‘মুসতা’মিন’দের অধিকার সুরক্ষিত আর মুসলিম দেশে তাদের রক্ত নিরাপদ এবং তাদের মাল-সম্পদে হস্তক্ষেপ করা হারাম হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশে তাদের জান-মালের উপর নগ্ন হামলা চালানো হচ্ছে!
এ গেলো মুসলিম ও কাফেরদের ক্ষেত্রে অলা-বারার সংক্ষিপ্ত রূপ। এক্ষণে আমি মুসলিমদের পারস্পরিক সম্পর্কের একটি চিত্র তুলে ধরার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।
মুসলিমদের নিজেদের মধ্যকার ‘অলা এবং বারা’র বেহাল দশা চরম পর্যায়ে। মুসলিম উম্মাহ আজ শতধাবিভক্ত জাতিতে পরিণত হয়েছে। ইসলামের শাখা-প্রশাখাগত কোন মাসআলার কারণে, মাযহাব ও দলাদলির কারণে বা অন্য কোন ঠুনকো কারণে এই মহান ঈমানী মূলনীতির গলায় তারা আজ নির্দ্বিধায় ছুরি চালাচ্ছে!
আমি ছোট্ট কয়েকটি পয়েন্টের উপর এ বিষয়ে কথা বলতে চাই :
১. এখানে ‘মুসলিম উম্মাহ’ বলতে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত উদ্দেশ্য। ইসলামের দাবীদার শী‘আ-খারেজীদের মত বিভ্রান্ত ফেরক্বাগুলোর কথা আমি এখানে আনছি না। এসব বিভ্রান্ত ফেরক্বা ইসলামের সাথে কতটুকু সম্পর্ক রাখে এবং তাদের সাথে অলা-বারা কেমন হবে সে বিষয়ে বিষদ আলোচনা গত হয়ে গেছে।
২. আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত বিভিন্ন সময় এবং বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগত নামে অভিহিত হয়েছে। যেমন : আত-ত্বয়েফাহ আল-মানছূরাহ, আল-ফেরক্বাহ আন-নাজিয়াহ, আহলুল হাদীছ/আহলেহাদীছ, আছহাবুল হাদীছ, আহলুল আছার, সুন্নী, সালাফী ইত্যাদি। এসবগুলো নামেই তারা পরিচিত।
এই ব্যাপক অর্থে প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের প্রকৃত অনুসারীদের উপরও এসব নাম প্রযোজ্য হবে। কারণ, ইমাম চতুষ্টয় আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ইমাম ছিলেন। আক্বীদা ও আমলের ক্ষেত্রে তারা ছিলেন রাসূল (ছাঃ), খুলাফায়ে রাশেদীন এবং ছাহাবায়ে কেরামের মূলনীতির ধারক ও বাহক। তবে প্রসিদ্ধ চার ইমামের কোন একজনের অনুসারী যদি তার ইমামের আক্বীদা গ্রহণ না করে ভ্রান্ত ভিন্ন কোন আক্বীদা গ্রহণ করে, তাহলে তার হিসাব ভিন্ন। কেউ মাতুরীদী, মু‘তাযিলী, আশ‘আরী বা অন্য কোন আক্বীদা মেনে চললে সে তার দায়িত্ব বহন করবে। অনুরূপভাবে এসব নামে গঠিত কোন সংগঠন যদি কুরআন ও ছহীহ হাদীছের নিঃস্বার্থ অনুসারী হয়ে থাকে, তাহলে তারাও আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে। তবে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত বলতে কস্মিনকালেও নির্দিষ্ট কোন দল, মাযহাব, সংগঠন বা জামা‘আতকে বুঝাবে না। কেউ কুরআন-হাদীছ ও সালাফে ছালেহীনের মূলনীতি থেকে সরে গেলে সে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে না; সে যে যুগের, যে দেশের, যে মাযহাবের বা যে দলেরই হোক না কেন। অনুরূপভাবে কোন দল যদি নিজেদেরকে ‘আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত’ নামে নামকরণ করে হরহামেশা আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের নীতি বিরোধী কাজ করে এবং নানামুখী শিরক-বিদ‘আতই তাদের সাধনা হয়, তাহলে এই নামকরণ তাদের বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না; বরং তারা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে।
যে ব্যক্তি সালাফে ছালেহীনের মূলনীতি অনুযায়ী কুরআন ও হাদীছ বুঝবে এবং তদ্নুযায়ী আমল করবে, সে-ই আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে, পৃথিবীর যে প্রান্তেই তার অবস্থান হোক না কেন। এমনকি গভীর জঙ্গলে একাকী অবস্থানকারী ব্যক্তিও যদি সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী নিঃস্বার্থভাবে কুরআন ও ছহীহ হাদীছ মেনে চলে, তবে সেও আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে।
মনে রাখতে হবে, প্রচলিত সংগঠনগুলোর মত আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত হতে হলে কাউকে কোন নেতার অনুমতির প্রয়োজন হয় না এবং কোন সদস্য ফরম বা ভর্তি ফরমও পূরণ করতে হয় না। প্রয়োজন হয় না কোন আমীর বা নেতার হাতে বায়‘আতের ও শপথ বাক্য পাঠের। শুধুমাত্র সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী নিঃশর্তভাবে কুরআন-হাদীছ মেনে চললেই হয়। অনুরূপভাবে প্রচলিত কোন সংগঠন থেকে বের হয়ে গেলে কেউ অমুসলিম হয়ে যায় না, হয় না দলত্যাগী ও জামা‘আতত্যাগীও। কিন্তু আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মূলনীতি থেকে বের হয়ে গেলে সে আসলে মুসলিমই থাকে না।
বড় আফসোসের কথা হচ্ছে, খোদ আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের লোকেরাই এই মহান অর্থ অনুধাবনে চরম ব্যর্থ হচ্ছে এবং আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মূলনীতি ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের বেশ অভাবও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটি মুসলিম উম্মাহ্র বিভক্তির অন্যতম কারণও বটে।
৩. এসব নামের বেলায় বেশীরভাগ মানুষ বিপরীতমুখী দু’টি অবস্থান গ্রহণ করেছে :
(ক) এক শ্রেণীর মানুষ নিজেদেরকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত দাবী করা সত্তেবও উপরিউক্ত কোন কোন নামের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ করছে, সেগুলো সম্পর্কে বিষোদগার করছে এবং নিজেদের ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রয়োগকে অস্বীকার করছে। এটা আসলে পিতৃ পরিচয় অস্বীকারের শামিল। কারণ, যে নিজেকে আহলুস-সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত দাবী করে, সে নিজেকে আহলেহাদীছ, আছহাবুল হাদীছ, সুন্নী ইত্যাদি পরিচয় দিতে বাধ্য। কেননা, এগুলো বিপরীতমুখী পরিভাষা নয়; বরং সমার্থক পরিভাষা, যেগুলো একই আদর্শ ও আক্বীদার মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(খ) কেউ আবার সেগুলোকে গুটিকয়েক মানুষ নিয়ে গঠিত কোন দল, সংগঠন, মাযহাব বা জামা‘আতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার অপচেষ্টা করছে। মূলত সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী এই দুই পক্ষ উল্লেখিত পরিভাষাগুলো অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে। আর তা না হলে কোন হীন উদ্দেশ্যে তারা সেগুলো না বুঝার ভান করেছে। মুসলিম উম্মাহ কারা, সে সম্পর্কে সংক্ষেপে একটা ধারণা আমরা পেলাম। এখানে এই প্রসঙ্গ টানার উদ্দেশ্য হচ্ছে, গোটা মুসলিম উম্মাহ্র সাথে ‘অলা’ বজায় রেখে চলতে হবে। তারা পরস্পর ভাই ভাই। তারা সবাই একটি দেহের মত, একটি নির্মিত ভবনের মত।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলিম উম্মাহ আজ নিজেদের মধ্যে চুল ছেড়াছেড়ি নিয়ে ব্যস্ত। হানাফী-আহলেহাদীছ, হানাফী-মালেকী, শাফেঈ-হাম্বলী, মালেকী-শাফেঈ দ্বন্দ্বের অন্ত নেই। কবি কাজী নজরুল ইসলাম (রহঃ) যথার্থই বলেছেন,
‘হানাফী শাফেয়ী মালেকী হাম্বলী
মিটেনি তখনও গোল
এমনি সময় আজরাইল এসে
হাকিলো, তলপি তোল’।
কিছু কিছু মাযহাব, মত, পথ ও দলের মধ্যে আবার কত যে দলাদলি সৃষ্টি হয়েছে, তার হিসাব কে রাখে! সবার কাছে তার দল, মাযহাব ও সংগঠনের ভ্রাতৃত্বই মুখ্য; ঈমানী ভ্রাতৃত্ব গৌণ! ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজে‘ঊন!
৪. মুসলিম উম্মাহ্র পারস্পরিক বন্ধনের স্বরূপ : ইসলাম মুসলিম উম্মাহকে এমন অটুট বাঁধনে বেঁধেছে, কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, দল, জামা‘আত, মাযহাব, সংগঠন বা অন্য কারো পক্ষে কখনই তার ধারেকাছে যাওয়াও সম্ভব নয়। ইসলামে ঈমান এবং আক্বীদাই হচ্ছে মিত্রতা ও শত্রুতা পোষণের মানদণ্ড। চিনুক বা না চিনুক একজন মুমিন অপর মুমিনের ভাই। এ সম্পর্কে কুরআন, হাদীছ ও সালাফে ছালেহীনের বেশ কিছু বক্তব্য লেখাটির শুরুতে গত হয়ে গেছে। এখানে একটি ঘটনা উল্লেখ না করলেই নয়; আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ) বলেন, ‘যখন মুহাজিরগণ মদীনায় আগমন করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ও সা‘দ ইবনুর রবী‘ (রাঃ)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করে দিলেন। তখন তিনি [সা‘দ রাঃ] আব্দুর রহমান (রাঃ)-কে বললেন, আনছারদের মধ্যে আমিই সব থেকে বেশী সম্পদের অধিকারী। আমি আমার সম্পদকে দু’ভাগে ভাগ করে নিব। আমার দু’জন স্ত্রী রয়েছে, আপনার যাকে পসন্দ হয় বলুন, আমি তাকে তালাক্ব দিয়ে দিব। উদ্দত শেষে আপনি তাকে বিয়ে করে নিবেন। আব্দুর রহমান (রাঃ) বললেন, আল্লাহ আপনার পরিবারে এবং সম্পদে বরকত দান করুন। আপনাদের বাজার কোথায়? তারা তাঁকে বনু ক্বায়নুক্বার বাজার দেখিয়ে দিলেন। যখন তিনি ঘরে ফিরলেন, তখন কিছু পনির ও কিছু ঘি সাথে নিয়ে ফিরলেন। এরপর প্রতিদিন সকাল বেলা বাজার যেতে লাগলেন। একদিন নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে এমন অবস্থায় আসলেন যে, তাঁর শরীর ও কাপড়ে হলুদ রঙের চিহ্ন ছিল। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, ব্যাপার কী? তিনি বললেন, আমি বিয়ে করেছি। নবী করীম (ছাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তাকে কী পরিমাণ মোহর দিয়েছ? তিনি বললেন, খেজুরের এক আঠির পরিমাণ অথবা খেজুরের এক আঠির ওযন পরিমাণ স্বর্ণ দিয়েছি’।[1] আল্লাহু আকবার! এই হচ্ছে মুসলিম উম্মাহ্র পরস্পরের মধ্যে গভীর সম্পর্কের ইলাহী ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগ। এরপরও ইসলামে নতুন কোন ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধনের দরকার আছে কী? ঈমান ও আক্বীদার বন্ধন যথেষ্ট নয় কি?
৫. ভিন্নমত, মতভেদ, মতানৈক্য থাকবেই; কিন্তু বিভক্তি, দলাদলি চলবে না। ছাহাবায়ে কেরাম, তাবে‘ঈনে ইযাম, আতবা‘উত-তাবে‘ঈন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, বিশেষ করে প্রসিদ্ধ মহামতি ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে কত মাসআলাতেই না মতপার্থক্য হয়েছে! কিন্তু তাঁদের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি, স্নেহ-ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সামান্যতমও কমতি হয়নি। এ প্রসঙ্গে, হজ্জের সফরে ছালাত পূর্ণ করে পড়া বা কছর করে পড়া নিয়ে ওছমান এবং ইবনে মাসঊদ (রাঃ)-এর মধ্যকার প্রসিদ্ধ ঘটনাটি আমাদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় হওয়া উচিত। যেখানে ওছমান (রাঃ) ছালাত পূর্ণ করে আদায় করেছেন; কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) তাঁর সাথে একমত না হওয়া সত্ত্বেও বিভক্তি সৃষ্টি করেননি। বরং তাঁর পেছনে ছালাত পূর্ণ করেই আদায় করেছেন এবং বলেছেন, الْخِلَافُ شَرٌّ ‘বিভক্তি অকল্যাণ’।[2]
ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, اَلْخَلْقُ كُلُّهُمْ عِيَالُ أَبِيْ حَنِيْفَةَ فِى الْفِقْهِ ‘সমগ্র মানব জাতি ফিক্বহ-এর ক্ষেত্রে আবু হানীফার কাছে ঋণী’।[3] ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, كَأَنَّ اللهَ تَعَالَى قَدْ جَمَعَ فِي الشَّافِعِيِّ كُلَّ خَيْرٍ ‘মহান আল্লাহ শাফেঈ-এর মধ্যে যেন যাবতীয় কল্যাণের সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন’।[4]
দেখলেনতো, হাজার হাজার মাসআলায় মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা পরস্পরের প্রতি কত শ্রদ্ধাশীল! ফলে, বিখ্যাত চার মাযহাবের ফিক্বহী মতভেদ নিষিদ্ধ ফের্কাবন্দীর অন্তর্ভুক্ত নয়।
৬. আমরা যারা আহলেহাদীছ হিসাবে পরিচিত, আমি তাদের সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। সম্মানিত পাঠকের কাছে আমার প্রশ্ন, আমাদের ‘অলা-বারা’র অবস্থা কী? আমাদের কয়টি দল এবং সংগঠন রয়েছে? তাদের পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক কেমন? আমাদের আহলেহাদীছদের একটা খুব আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের মধ্যে মতভেদ নেই; কিন্তু বিভক্তি আছে! আমাদের আক্বীদা, আমল, মাসআলা-মাসায়েল সবই এক, অথচ বিভক্তির শেষ নেই! এটা আশ্চর্যের বিষয় নয় কী? আমাদের আহলেহাদীছদের অবস্থা বলতে গেলে কয়েকটি দিক নিয়ে কথা বলতে হবে :
(ক) সংগঠন কী? ‘সংগঠন দা‘ওয়াতী কার্যক্রমের জন্য সহায়ক এবং একটি মাধ্যম’। কোন সংগঠনকে এর বাইরে অন্য কিছু প্রমাণ করা সম্ভব নয়। বক্তব্য, লেখালেখি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক পাঠদান, মসজিদ ভিত্তিক দার্স ইত্যাদি যেমন দ্বীন প্রচারের একটি মাধ্যম, সংগঠন তেমনি একটা সহায়ক মাধ্যম।
(খ) সংগঠন যেহেতু দা‘ওয়াতের একটি মাধ্যমের বাইরে অন্য কিছু নয়, সেহেতু প্রত্যেকটি দাঈর সেখানে যোগ দেওয়াও অপরিহার্য নয়। বরং একজন দাঈ তার সাধ্যানুযায়ী দা‘ওয়াতের যে কোন বৈধ মাধ্যমে দা‘ওয়াতী কার্যক্রম চালাতে পারেন। তবে দাঈদের মধ্যে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা একান্ত কাম্য। নানামুখী দা‘ওয়াতী কার্যক্রমে পরস্পর পরস্পরকে আহবান করতে হবে এবং আহবানে সাড়া দিতে হবে। মনে কারো প্রতি হিংসার আশ্রয় দেওয়া যাবে না।
(গ) কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই মাধ্যম এক সময় পরিণত হয় মূল লক্ষ্যে, শুরু হয় দলের প্রতি অন্ধভক্তি এবং অন্যদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও অভক্তি। সংগঠনে থাকলে অসৎ মানুষটিও হয়ে যায় দুধে ধোয়া তুলশী পাতা। কিন্তু সংগঠনের বাইরে চলে গেলে সোনার মানুষটিও পরিণত হয় নিকৃষ্ট ব্যক্তিত্বে। এই মিত্রতা ও শত্রুতার মানদণ্ড হয় কেবল দলীয় গণ্ড; এখানে আক্বীদা, আমল, পরহেযগারিতা ও যোগ্যতার কোন মূল্য থাকে না।
(ঘ) মনে রাখতে হবে, ইসলামে কোন ‘বৈধ কাজ’ করতে গিয়ে কোন ‘হারাম কাজ’ করা নিষেধ। এমনকি কোন সুন্নাত ও মুস্তাহাব কাজ করতে গিয়েও কোন হারাম কাজ করা নিষেধ। যেমন কা‘বার ‘হাজারে আসওয়াদ’ বা কালো পাথর চুমু খাওয়া সুন্নাত আর কাউকে কষ্ট দেওয়া হারাম। ফলে, কাউকে কষ্ট দিয়ে তাতে চুমু খাওয়া যাবে না। কিন্তু সংগঠন নামক এই বৈধ মাধ্যমটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমরা কী করছি? :
১. ছাগীরা-কাবীরা মিলে ঝুড়ি ঝুড়ি গোনাহ করে চলেছি নির্দ্বিধায়। হিংসা-বিদ্বেষ, গর্ব-অহঙ্কার, গীবত-তোহমত, চোগলখোরী, গালিগালাজ, মিথ্যা অপবাদ, মিথ্যাচার, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন, অসৎকাজে আদেশ-সৎকাজে নিষেধ আরো কত কী! ছোটবেলায় কুরআন তেলাওয়াত অবস্থায় মুখ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিতে দেখে কচি হৃদয়ে দাগ কেটেছিল। আমার এলাকায় সাইকেল কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় আশ্চর্য হয়েছিলাম। এর ধারাবাহিকতা আজও চালু আছে। নিজ গণ্ডির বাইরের কাউকে দা‘ওয়াত দেওয়ার সৎসাহস তো নেই-ই; বরং কাউকে দা‘ওয়াত দেওয়া হলেও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না! অথচ এই দা‘ওয়াত কিন্তু কোন মঞ্চনাটক, যাত্রাপালা বা কনসার্টের জন্য নয়; বরং ইসলামী মাহফিলের জন্য! সেখানে যাওয়া তো দূরে থাক, এমনকি এসব দ্বীনী প্রোগ্রাম বন্ধের সবধরনের নোংরা পথ অবলম্বন করতেও আমাদের বুক কাঁপছে না!
আমি সংগঠনকে সরাসরি দূষি না; দূষি আমাদের বাস্তবতাকে! বাস্তবতা হচ্ছে, যখনই কোন ব্যক্তির মধ্যে দলীয় চিন্তা প্রবেশ করে, তখনই তার মন সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং সে মানবীয় গুণ সে হারাতে বসে। এক পর্যায়ে তার হৃদয় সংকীর্ণতার চরমসীমায় পৌঁছে যায়; তখন দলের বাইরে আর কোন চিন্তা সে করতে পারে না। সে বদ্ধমূল বিরূপ ধারণা নিয়ে বসে থাকে, সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যায়; তার কল্যাণচিন্তা, পরোপকারিতা, সাহায্য-সহযোগিতা, বেদনা-সহমর্মিতা, সেণহ-ভালবাসা, সম্মান-মর্যাদা কোনকিছুই দলীয় দেওয়াল টপকাতে পারে না। মুমিনদের বৈশিষ্ট্য তো অনেক দূরের ব্যাপার, এমনকি মানবীয় গুণও সে হারিয়ে ফেলে; অন্যের অনিষ্ট সাধন, হিংসা-প্রতিহিংসা, যুলম-নির্যাতন, লাঞ্ছনা-অপমান এসব পশুত্বের স্বভাব তার মধ্যে ভর করে। দল মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ শেখায়, শত্রুতা শেখায়, শান্তি-নিরাপত্তা নষ্ট করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে। দলীয় গণ্ডর সংকীর্ণ সীমানায় অন্যায় ন্যায়ে পরিণত হয়, যুলম ইনছাফে রূপ নেয়, সম্মানিত ব্যক্তি অসম্মানিত হয় আর অসম্মানিত ব্যক্তি সম্মানিত হয়। এখানে পরহেযগারিতা, দ্বীনদারিতা, আমানতদারিতা, সততা, ন্যায়নিষ্ঠতা ইত্যাদির কোন মূল্য থাকে না, সবই ফিকে হয়ে যায়। কারণ সবকিছুই যে দেখা হয় দলীয় রঙ্গীন চশমায়! এসবই হচ্ছে, জাহেলিয়াত। এসবই হচ্ছে, ফেরক্বাবন্দী। এগুলোই হচ্ছে, আছাবিয়্যাত বা অন্ধভক্তি ও গোঁড়ামি। এসবই হচ্ছে হিযবিইয়্যাত ও নিষিদ্ধ দলাদলি।
মনে রাখতে হবে, দা‘ওয়াতী কাজে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা কাম্য, হিযবিয়্যাত ও দলাদলি কাম্য নয়।
২. জেনেবুঝে বা অজান্তে আমরা শরী‘আতের কিছু বক্তব্যের কখনও অপব্যাখ্যা, কখনও একপেশে ও তীর্যক ব্যাখ্যা, কখনও বা মনগড়া ব্যাখ্যা করছি! যেমন-
আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا أَطِيْعُوْا اللهَ وَأَطِيْعُوْا الرَّسُوْلَ وَأُوْلِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ.
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের’ (নিসা ৪/৫৯)।
হাদীছে এসেছে,
أَبُوْ رَجَاءٍ العُطَارِدِيُّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ رَأَى مِنْ أَمِيْرِهِ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَصْبِرْ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ مَنْ فَارَقَ الجَمَاعَةَ شِبْرًا فَمَاتَ إِلَّا مَاتَ مِيْتَةً جَاهِلِيَّةً.
‘যে ব্যক্তি নিজ আমীরের কাছ থেকে অপসন্দনীয় কোন কিছু দেখবে, সে যেন তাতে ধৈর্যধারণ করে। কেননা, যে ব্যক্তি জামা‘আত থেকে এক বিঘতও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, অবশ্যই তার মৃত্যু হবে জাহেলী মৃত্যু’।[5]
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ خَرَجَ مِنَ الطَّاعَةِ وَفَارَقَ الْجَمَاعَةَ فَمَاتَ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً....
‘যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাবে এবং জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করবে, তার মৃত্যু হবে জাহেলী মৃত্যু’।[6]
عَنِ الْحَارِثِ الْأَشْعَرِيِّ أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ... فَإِنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنَ الْجَمَاعَةِ قِيْدَ شِبْرٍ فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْإِسْلَامِ مِنْ عُنُقِهِ إِلَّا أَنْ يَرْجِعَ وَمَنْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ فَهُوَ مِنْ جُثَاءِ جَهَنَّمَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَإِنْ صَامَ وَإِنْ صَلَّى قَالَ وَإِنْ صَامَ وَإِنْ صَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ...
‘কেউ যদি জামা‘আত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বের হয়ে যায়, তাহলে সে তার গর্দান থেকে ইসলামের বন্ধন খুলে ফেলে; তবে যদি সে ফিরে আসে, তাহলে তা ভিন্ন কথা। আর যে ব্যক্তি জাহেলী রীতি-নীতির দিকে আহবান জানায়, সে জাহান্নামীদের দলভুক্ত। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল? সে যদি ছিয়াম পালন করে, ছালাত আদায় করে, তবু কি (জাহান্নামীদের দলভুক্ত)? তিনি বললেন, সে যদি ছিয়াম পালন করে, ছালাত আদায় করে এবং নিজেকে মুসলিম বলে মনে করে, তবুও সে (জাহান্নামীদের দলভুক্ত)’।[7]
أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَطَاعَنِيْ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ وَمَنْ عَصَانِيْ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَمَنْ أَطَاعَ أَمِيْرِيْ فَقَدْ أَطَاعَنِيْ وَمَنْ عَصَى أَمِيْرِيْ فَقَدْ عَصَانِيْ.
‘যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল। যে আমার নাফরমানি করল, সে আল্লাহর নাফরমানি করল। যে আমার আমীরের আনুগত্য করল, সে আমার আনুগত্য করল। আর যে আমার আমীরের নাফরমানি করল, সে আমার নাফরমানি করল’।[8]
يَقُوْلُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَلَعَ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ لَقِيَ اللهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا حُجَّةَ لَهُ وَمَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِي عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيْتَةً جَاهِلِيَّةً.
‘যে ব্যক্তি আনুগত্যের হাত ছিন্ন করে নিল, সে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে এমনভাবে সাক্ষাত করবে যে, তার কোন দলীল থাকবে না। আর যে ব্যক্তি তার কাঁধে বায়‘আত না থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তার মৃত্যু হবে জাহেলী মৃত্যু’।[9]
আমরা শরী‘আতের এজাতীয় বক্তব্যের কখনও অপব্যাখ্যা করছি, আবার কখনও করছি তীর্যক ও একপেশে ব্যাখ্যা, কখনও আবার মনগড়া ব্যখ্যা করছি! এক ঘাটের পানি আরেক ঘাটে নিয়ে যাচ্ছি! এখানে ‘জামা‘আত’, ‘আমীর’, ‘বায়‘আত’ ইত্যাদির ব্যাখ্যা প্রত্যেকেই নিজের মত করে করছি! অথচ আমাদের মূলনীতি ছিল,فَهْمُ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ عَلَى فَهْمِ سَلَفِ الْأُمَّةِ ‘সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী কুরআন-সুন্নাহ বুঝা’। তবে এই অপব্যাখ্যা কিভাবে করছি, তার বিস্তারিত আলোচনার দিকে আমি আপাতত যেতে চাচ্ছি না; এ সম্পর্কে একটি নিরপেক্ষ গবেষণার তাওফীক্ব আল্লাহ উলামায়ে কেরামকে দান করুন। তাহলে গোঁমর ফাঁস হয়ে যাবে, ভুল ভেঙে যাবে, হক্ব প্রকাশ পাবে ইনশাআল্লাহ। আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই, এখানে وَأُوْلِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ ‘আর (আনুগত্য কর) তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের’ (আন-নিসা ৪/৫৯) বলতে নির্দিষ্ট কোন পীর, মাশায়েখ অথবা নির্দিষ্ট কোন দল, মাযহাব, সংগঠন বা তরীক্বার নেতা, সভাপতি বা আমীরকে বুঝানো হয়নি। বরং এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমীর-উমারা (মুসলিম শাসকশ্রেণী) এবং উলামায়ে কেরাম।[10] তবে, তাদের আনুগত্য হতে হবে সৎকাজে; আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে নয়।[11]
অনুরূপভাবে, এসব হাদীছে ‘জামা‘আত’ বলতে নির্দিষ্ট কোন দল, মাযহাব বা সংগঠনকে বুঝানো হয়নি। আর বায়‘আত আমীর-উমারা ছাড়া অন্য কারো জন্য বৈধ নয়।[12]
এখানে আরেকটি ভাববার বিষয় হচ্ছে, সব সংগঠন যদি এসব বক্তব্যকে নিজেদের পক্ষের দলীল হিসাবে গ্রহণ করে, তাহলে পরিস্থিতি কী হবে বলুনতো?! পরিবেশ খুব জটিল হয়ে যাবে। একে অপরকে গোমরাহ, পথভ্রষ্ট, জামা‘আতত্যাগী, বায়‘আত ছিন্নকারী, আমীরের অবাধ্য, জাহেলী অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ইত্যাদি ফৎওয়া দেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে! এমনকি অমুসলিম ফৎওয়া দিতেও কারো কারো হয়তো বুক কাঁপবে না!
৩. আমরা আর কী করছি? পারস্পরিক ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা; অপরপক্ষে হিংসা-বিদ্বেষ ও অপমান-অপদস্থের পথ পরিহার সম্পর্কিত ইসলামের বক্তব্যগুলো শুধু কুরআন-হাদীছের পাতায় রেখে দিচ্ছি। মেনে চলছি না বিভক্তি ও দলাদলি নিষিদ্ধ সম্পর্কিত বক্তব্যগুলো। মনে হচ্ছে, আহলেহাদীছ মানে শুধু রফঊল ইয়াদাইন, জোরে আমীন বলা আর বুকের উপর হাত বাঁধার হাদীছ মেনে চলা!
মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ إِخْوَةٌ ‘অবশ্যই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই’ (হুজুরাত ৪৯/৯-১০)। অন্য আয়াতে এসছে,
وَالْمُؤْمِنُوْنَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ.
‘আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু’ (তাওবাহ ৯/৭১)।
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَحَاسَدُوْا وَلَا تَنَاجَشُوْا وَلَا تَبَاغَضُوْا وَلَا تَدَابَرُوْا وَلَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ وَكُوْنُوْا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ وَلَا يَحْقِرُهُ التَّقْوَى هَاهُنَا وَيُشِيْرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ.
‘তোমরা পরস্পরে হিংসা পোষণ করো না, পরস্পর ধোঁকাবাজি করো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না। একে অপরের পশ্চাতে শত্রুতা করো না এবং একের বেচাকেনার উপর অন্যের বেচাকেনার চেষ্টা করবে না। তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসাবে ভাই ভাই হয়ে যাও। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার উপর যুলম করবে না, তাকে অপদস্থ করবে না এবং হেয় করবে না। তাক্বওয়া এখানে, একথা বলে রাসূল (ছাঃ) তাঁর বুকের দিকে ইশারা করলেন তিনবার। একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার ভাইকে হেয় করে। কোন মুসলিমের জন্য প্রত্যেক মুসলিমের জান-মাল, ইযযত-আবরুর উপর হস্তক্ষেপ করা হারাম’।[13]
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَبَاغَضُوْا وَلَا تَحَاسَدُوْا وَلَا تَدَابَرُوْا وَكُوْنُوْا عِبَادَ اللهِ إِخْوَانًا وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثٍ.
‘তোমরা পরস্পর হিংসা করবে না, বিদ্বেষ করবে না এবং পরস্পর পশ্চাতে শত্রুতা করবে না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা হিসাবে ভাই ভাই হয়ে যাও। আর কোন মুসলিম ব্যক্তির পক্ষে তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশী কথাবার্তা পরিত্যাগ করা হালাল নয়’।[14]
এজাতীয় আয়াত ও হাদীছের উপর আহলেহাদীছদের আমল না করলেও চলে, তাই তো?! শুধু সাংগঠনিক কারণে কতজনের যে কতজনের সাথে যোগাযোগ, কথাবার্তা, এমনকি সালাম ও কুশল বিনিময়ও বন্ধ আছে, তার কোন ইয়ত্তা নেই! হায়রে আহলেহাদীছ!
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত না হয়ে একতাবদ্ধভাবে থাকতে বলেছেন এবং একতাবদ্ধ হওয়ার মানদণ্ডও বাৎলে দিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে,
وَاعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيْعًا وَلَا تَفَرَّقُوْا.
‘আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ (আলে ইমরান ১০৩)। উক্ত আয়াতে একতাবদ্ধ হওয়ার মানদণ্ড হিসাবে আল্লাহর রজ্জু তথা কুরআন ও হাদীছের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক সঠিক আক্বীদার বাইরে গিয়ে একতাবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়।
অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ দলাদলি ও বিভক্তির নিন্দা করে বলেন,
وَلَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ تَفَرَّقُوْا وَاخْتَلَفُوْا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيْمٌ.
‘আর তাদের মত হয়ো না, যারা তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পরও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বিরোধ করেছে। আর তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি’ (আলে ইমরান ১০৫)। অন্য আয়াতে এসেছে,
إِنَّ الَّذِيْنَ فَرَّقُوْا دِيْنَهُمْ وَكَانُوْا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِيْ شَيْءٍ.
‘নিশ্চয়ই যারা নিজেদের ধর্মকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই’ (আল-আন‘আম ১৫৯)। এসব আয়াতের উপর আহলেহাদীছদের বোধ হয় আমল করা লাগে না!
৪. আহলেহাদীছ সংগঠনগুলোর অবদান :
সম্মানিত পাঠক! সংগঠনগুলোর অবদান অস্বীকার করলে তা হবে বড়ই অন্যায়। নির্ভেজাল তাওহীদের প্রচার ও প্রসারে এবং এদেশের মাটি থেকে শিরক, বিদ‘আত ও নানা কুসংস্কার দূরীকরণে আহলেহাদীছ সংগঠনগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। তারা জাতিকে অনেক কিছুই দিয়েছে এবং দিচ্ছে। কমবেশী সবাই কাজ করেছেন এবং এখনও করে যাচ্ছেন। একদিকে যেমন তারা শিরক-বিদ‘আতমুক্ত খাঁটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে বহুমুখী কর্মকাণ্ড অংশগ্রহণ করে চলেছেন। আর সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে তো তাদের সবচেয়ে বড় ও অগ্রণী ভূমিকা রয়েছেই। এদেশের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম কথা বলেছেন এবং এখনও বলে যাচ্ছেন আহলেহাদীছরাই। আসলে এই সংক্ষিপ্ত কলেবরে তাদের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। আল্লাহ তাদের সবাইকে জাযায়ে খায়ের দান করুন। সংগঠন চলছে, আমি দো‘আ করি আরো ভাল চলুক, তাওহীদ প্রতিষ্ঠিত হোক, শিরক-বিদ‘আত নিপাত যাক। তবে, আমাদের ভুলগুলো অবশ্যই সংশোধন করে নিতে হবে। আর ভুল টের পেয়ে সেখান থেকে ফিরে আসাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-এর নিকট প্রেরিত একটি চিঠির এক পর্যায়ে লিখেছিলেন,اَلرُّجُوْعُ إِلَى الْحَقِّ خَيْرٌ مِّنَ التَّمَادِيْ فِي الْبَاطِلِ ‘বাত্বিলে নিমজ্জিত থাকার চেয়ে হক্বে ফিরে আসা উত্তম’।[15]
তবে সাংগঠনিকভাবে দা‘ওয়াতী কার্যক্রম চালাতে হলে অতীব যরূরী কয়েকটি বিষয়ের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে :
(১) সংগঠনে কুরআন-হাদীছ ও সালাফে ছালেহীনের মূলনীতি পরিপন্থী কোন কার্যক্রম থাকা চলবে না।
(২) সংগঠনে বায়‘আত বলে কিছু থাকবে না। কারণ, বায়‘আত মুসলিম উম্মাহ্র একক খলীফা এবং দেশের সরকারের সাথে নির্দিষ্ট; কোন সংস্থা, সংগঠন, দল বা জামা‘আতের নেতার জন্য তা আদৌ বৈধ নয়।
(৩) ঈমানী মহান ও প্রশস্ত ভ্রাতৃত্বের গণ্ডিকে সাংগঠনিক সংকীর্ণ ভ্রাতৃত্বের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অপচেষ্টা থেকে দূরে থাকতে হবে।
(৪) সংগঠনের ভেতরের এবং বাইরের সকল মুমিন ভাইয়ের মধ্যে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা থাকতে হবে, একে অন্যের দোষত্রুটি না বলে বরং ভাল দিকগুলো বলতে হবে এবং কারো মধ্যে বিদ্যমান ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনের জন্য হিকমতের সাথে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
(৫) অপরের দোষ-ত্রুটি মাঠে-ময়দানে, পেপার-পত্রিকা, লেখনীতে প্রকাশ না করে গোপনে শরী‘আত নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে।
(৬) পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা, সেণহ, মমতা, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি দেখাতে হবে। কারো মানহানিকর কিছু করা চলবে না।
(৭) সংগঠনকে দা‘ওয়াতের একটি মাধ্যমের বাইরে অন্য কিছু মনে করা যাবে না; সংগঠন কখনই হক্ব-বাতিলের মানদণ্ড বিবেচিত হবে না।
(৮) মানুষকে সংগঠনের পতাকাতলে আহবান না জানিয়ে কুরআন ও ছহীহ হাদীছের শীতল ছায়াতলে আহবান জানাতে হবে।
(৯) সংগঠনে পূর্ববর্ণিত জাহেলিয়্যাত, আছাবিয়্যাত ও হিযবিয়্যাত থাকা যাবে না।
সুধী পাঠক! গোটা আহলেহাদীছ জামা‘আতের প্রতি আমার উদাত্ত আহবান হচ্ছে, আমাদেরকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। আচ্ছা, বলুনতো আমাদের সবার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কি এক নয়? আমাদের আক্বীদা-আমল কি এক নয়? পরকালে জান্নাতপ্রাপ্তি কি আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য নয়? তাহলে কেন পারব না একসাথে কাজ করতে?
এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হচ্ছে, সংগঠনগুলোকে ভেঙ্গে ফেলার আহবান জানালে তা হবে বোকামির পরিচায়ক। আবার কাউকে তার সংগঠন ছেড়ে আসতে বললে তাতেও সফলতার মুখ দেখা যাবে না। নবীন বা প্রবীণ সেজে হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও কাজ হবে না। সেজন্য, দিলটাকে প্রশস্ত করতে হবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, প্রত্যেকে তার নিজ সংগঠন ও পরিম-লে থেকেই কাজ করে যাক, তবে মনটাকে বড় করুক। পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করুক, কারো বদনাম না করুক, একে অন্যের কল্যাণ কামনা করুক, পরস্পর পরস্পরের সাথে মিশুক, একে অন্যকে আহবান করুক, একে অন্যের মঞ্চে উপস্থিত হোক। তাহলেই আস্তে আস্তে বৃহত্তর ‘অলা’ প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।
এক বিশ্বাস, এক ধর্ম
ভিন্ন কেন তোদের মত!
একতার অভাবে ছিন্নভিন্ন
হারিয়েছ শান্তির পথ।
...
ওহে মুসলিম এক হও
ভুলে যাও সকল দ্বন্দ্ব,
হাতে হাত রেখে ঘুরে দাঁড়াও
হটাও সকল মন্দ।[16]
আমি সংগঠন বিরোধী নই, তবে হিযবিয়্যাত ও বিভক্তি বিরোধী। আমি সংগঠন বিরোধী নই, তবে আছাবিয়্যাত ও গোঁড়ামি বিরোধী। আমি সংগঠন বিরোধী নই, তবে আমি সংস্কার চাই, সংশোধন চাই। আমি কারো ক্রীড়ানক নই, আমি কারো চাটুকারিতা করি না। আমি কোন ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্ধভক্তি দেখাই না। আমি কারো প্রতি হিংসা করি না, আমি গুরুজনদের-বড়দের শ্রদ্ধা করতে চাই, ছোটদের সেণহ করতে চাই, সকলকে ভালোবাসতে চাই। সবার সাথে কাজ করতে চাই। সবাইকে সাহায্য করতে চাই। সবার মঞ্চে যেতে চাই। আমার এ আহবান ঐক্যের আহবান, আমার এ আহবান ঈমানী ভ্রাতৃত্বের আহবান। আমার এ আহবান সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহবান।
আল্লাহ আমাদের এ আয়াতটির উপর আমল করার তাওফীক্ব দিন :
وَالَّذِيْنَ جَاءُوْا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِيْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِلَّذِيْنَ آمَنُوْا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوْفٌ رَحِيْمٌ.
‘যারা তাদের পরে আগমন করেছেন, তারা বলেন, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদেরকে এবং ঈমানে অগ্রবর্তী আমাদের ভ্রাতাগণকে তুমি ক্ষমা কর আর ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রেখ না। হে আমাদের পালনকর্তা! নিশ্চয় তুমি দয়ালু, পরম করুণাময়’ (হাশর ৫৯/১০)।
আল্লাহ গোটা মুসলিম উম্মাহকে ‘অলা ও বারা’ বুঝার এবং বাস্তবায়নের তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!
[1]. ছহীহ বুখারী হা/৩৭৮০।
[2]. সুনানে আবুদাঊদ হা/১৯৬০।
[3]. আল-জাওয়াহের আল-মুযিইয়াহ ফী ত্ববাক্বাতিল হানাফিইয়া, ১/৪৫৬।
[4]. ইমাম নববী, আল-মাজমূ, ১/১২।
[5]. ছহীহ বুখারী হা/৭০৫৪।
[6]. ছহীহ মুসলিম হা/১৮৪৮।
[7]. মুসনাদে আহমাদ হা/১৭১৭০।
[8]. ছহীহ বুখারী হা/৭১৩৭।
[9]. ছহীহ মুসলিম হা/১৮৫১।
[10]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, ২/৩৪৫, সূরা নিসা ৫৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ।
[11]. মুসনাদে আহমাদ, হা/১০৯৪, সনদ ‘ছহীহ’।
[12]. বিস্তারিত দ্রষ্টব্য: সিলসিলা ছহীহাহ (সংক্ষিপ্ত) হা/৯৮৪-এর ব্যাখ্যা; শায়খ ইবনে বায, মাজমূউ ফাতাওয়া, ২৮/২৫১।
[13]. ছহীহ মুসলিম হা/২৫৬৪।
[14]. ছহীহ মুসলিম হা/২৫৫৮।
[15]. বাগাবী, শারহুস-সুন্নাহ, ১০/১১৪।
[16]. কবি এম, আর, তালুকদার রচিত ‘ঐক্যের আহবান’ কবিতা থেকে পংক্তিগুলো সংগৃহীত।
