উত্তর : জুম‘আর ছালাতের জন্য দুই আযান দেয়ার যে প্রথা সমাজে চালু আছে তা সুন্নাত সম্মত নয়। জুম‘আর আযান হবে একটি। ইমাম খুৎবা দেয়ার জন্য যখন মিম্বারে বসবেন, তখন মুয়ায্যিন এই আযান দিবেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবুবকর ও ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর আমলে এবং ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর খেলাফতের প্রথমাংশে জুম‘আর আযান একটিই ছিল। অতঃপর মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মসজিদে নববীর অদূরে ‘যাওরা’ নামক বাজারে ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু এ আযান দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে উক্ত আযান শুনে লোকেরা যথাসময়ে মসজিদে উপস্থিত হতে পারে। সায়েব ইবনু ইয়াযীদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জুম‘আর দিন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবুবকর ও ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর যুগে যখন ইমাম মিম্বরে বসতেন তখন প্রথম আযান দেয়া হত। অতঃপর যখন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল তখন ওছমান যাওরাতে তৃতীয় আযান বৃদ্ধি করেন (ছহীহ বুখারী, হা/৯১২; তিরমিযী, হা/৫১৬; ইবনু মাজাহ, হা/২১১৩৫; মিশকাত, হা/১৪০৪)।
খলীফার এই হুকুম ছিল স্থানীয় প্রয়োজনের কারণে একটি সাময়িক রাষ্ট্রীয় ফরমান মাত্র এবং তা ছিল মসজিদ থেকে অনেক দূরে। সেকারণ মক্কা, কূফা ও বাছরা সহ ইসলামী খেলাফতের বহু গুরুত্বপূর্ণ শহরে এ আযান তখন চালু হয়নি। ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু এটাকে সর্বত্র চালু করার প্রয়োজন মনে করেননি বা উম্মতকে বাধ্য করেননি। তাই সর্বদা সর্বত্র চালু করার পিছনে কোন যুক্তি নেই।
অতএব তিনি যে কারণে আরেকটি আযান যাওরাতে চালু করেছিলেন সে কারণ এখনও থাকলে তা চালু করা জায়েয। তাকে না-জায়েয কিংবা বিদ‘আত বলা যাবে না। কিন্তু উক্ত কারণ যদি না থাকে তাহলে বিদ‘আত হিসাবে গণ্য হবে। বর্তমানে সে কারণ না থাকায় ওছমানী আযান দেয়ার প্রয়োজন নেই। বলা বাহুল্য যে, বর্তমান আমরা কি উক্ত আযান চালু করে ছাহাবীদের ছেয়ে বেশী দ্বীনদারী ভাব দেখাতে চাই? এজন্যই হয়ত ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু উক্ত আযানকে বিদ‘আত বলেছেন (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, হা/৫৪৭৭-৫৪৮৩)। অনুরূপ ইমাম কুরতুবী ইমামের সামনে মিম্বারের নিকটে দেওয়া প্রচলিত আযানকে বিদ‘আত বলেছেন (তাফসীরে কুরতুবী, ১৮/১০১ পৃঃ; সূরা জুমু‘আ ৯নং আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রঃ)। উল্লেখ্য যে, অত্র হাদীছে খুৎবার পূর্বের আযানটিকে তৃতীয় আযান বলা হয়েছে। কেননা মূল আযান হল প্রথম আযান। আর ইক্বামত হল দ্বিতীয় আযান। অতএব আযান বলতে তিনটি আযান নয় বরং দু’টি আযান ও একটি ইক্বামত।
-শাহাদত হোসেন
মহিমাগঞ্জ, গাইবান্ধা।
