নিয়্যতের মাসায়েল :
এক আমলের নিয়্যতে বিভিন্ন আমলের নেকী :
ফজরের ছালাতে মসজিদে গিয়ে কেউ যদি ফজরের দুই রাক‘আত ছালাতের নিয়্যত করে, তাহলে কি সে ওযূ করার দুই রাক‘আত ছালাত এবং তাহিয়্যাতুল মসজিদের দুই রাক‘আত ছালাতেরও নেকী পাবে? তাহিয়্যাতুল মসজিদ কি আদায় হয়ে যাবে নাকি তাকে আবার তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা লাগবে? বর্তমান যুগের দু’জন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন শায়খ ছালেহ আল-উছায়মীন রাহিমাহুল্লাহ ও শায়খ সুলায়মান আর-রুহাইলী হাফিযাহুল্লাহ-এর ফতোয়ার সারর্মম নিমেণ পেশ করা হল[1]:
কয়েকটি শর্তকে সামনে রেখে তারা জায়েয বলেছেন। যেমন-
(ক) এক আমলের মাধ্যমে যদি সকল আমলের উদ্দেশ্য হাছিল হয়, তাহলে চলবে। যেমন জুম‘আর দিন সকালে অপবিত্রতার কারণে তার উপর গোসল ফরয। পাশাপাশি সে জুম‘আর দিনের সুন্নাত গোসলও আদায় করতে চায়। উভয় আমলের উদ্দেশ্য গোসল। অতএব এই গোসলের মধ্যে দুই গোসলই আদায় হয়ে যাবে, কোন সমস্যা নেই।
(খ) অন্যদিকে আমল যদি এমন হয়, যার সাথে অন্য আমল মিলানো যাবে না। যেমন ফরয ও ক্বাযার সাথে সুন্নাত বা নফলকে মিলানো। যোহরের ফরয ৪ রাক‘আত ছালাত আদায় করলে সুন্নাত ৪ রাক‘আত আদায় হবে না। তেমনি রামাযানের ক্বাযা ছিয়ামের সাথে সোমবার বৃহস্পতিবারের নফল ছিয়ামের নেকী পাওয়া যাবে না।
(গ) আর এই জাতীয় অধিক নিয়্যত তখনই বেশী গ্রহণীয় হবে, যখন আমলকারী নিয়মিত সেই আমলগুলো করে থাকে। যেমন শাওয়াল মাসের ৬টি নফল ছিয়ামের সাথে তখনই আইয়্যামে বীযের তিনটি নফল ছিয়ামের নিয়্যত করা ও নেকী পাওয়ার আশা করা যাবে, যখন আমলকারী অন্যান্য মাসে নিয়মিত আইয়্যামে বীযের তিনটি ছিয়াম রেখে থাকেন।
এ মাসআলার সাথে সংশ্লিষ্ট আরো একটি বিষয় হচ্ছে এক আমলকে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে করা। যেমন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
دَاوُوْا مَرْضَاكُمْ بِالصَّدَقَاتِ.
‘তোমরা তোমাদের অসুস্থ ব্যক্তিদের ছাদাক্বার মাধ্যমে চিকিৎসা কর’।[2] অর্থাৎ ছাদাক্বাহ করবে মহান আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য আবার সেই ছাদাক্বাহ দিয়ে শারীরিক সুস্থতাও চাইবে মহান আল্লাহ্র কাছে। এখানে এক আমলের পিছনে দুইটি উদ্দেশ্য বা দুই ধরনের নিয়্যত। তেমনি উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কেউ মসজিদে বসে থাকে-
* ছালাতের অপেক্ষায় যাতে করে সে ছালাতের নেকী পায়।
* মহান আল্লাহ্র যিকিরের জন্য।
* মসজিদে বসে ইলম হাছিলের জন্য।
তাহলে সে উপর্যুক্ত তিনটি কাজেরই নেকী পাবে। কেননা আমরা আগেই আলোচনা করেছি, উম্মতে মুসলিমাকে মহান আল্লাহ শুধু নিয়্যতের বিনিময়েও নেকী প্রদান করেন। তাই কল্যাণকর প্রত্যেক আমলে যত সৎ নিয়্যত করা সম্ভব, করা ভাল। যেমন বুঝার সুবিধার জন্য আরো একটি উদাহরণ দিই, আপনি বাজারে যাচ্ছেন কয়েকটি নিয়্যত নিয়ে-
* মানুষকে সালাম দেওয়ার জন্য।
* পরিচিত কোন দ্বীনী দোকানদার মুসলিম ভাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য।
* নিজের অসুস্থ পিতার ঔষধ ক্রয়ের জন্য।
* পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়ের জন্য।
* নিজের স্ত্রীকে যেন বাজারে যাওয়া না লাগে, স্ত্রীর পর্দা রক্ষার জন্য নিজেই বাজারে এসেছেন। এসব নেক উদ্দেশ্য মনে মনে পোষণ করলে এবং এগুলোর পিছনে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি কামনা করলে এক আমল দিয়েই আপনি বহু নেকী অর্জন করতে পারবেন। আর মহান আল্লাহ্র দয়া অপরিসীম।
নিয়্যত কি মুখে উচ্চারণ করতে হবে? :
ভারত উপমহাদেশে প্রত্যেক ইবাদতের জন্য ‘নাওয়াইতু ..’ দিয়ে আলাদা আলাদা নিয়্যত রয়েছে। যেগুলো আরবীতে মুখস্থ করতে হয়। অনেক সময় সাধারণ মানুষ এই সমস্ত নিয়্যত মুখস্থ করার ভয়ে ছালাতই ছেড়ে দেন। অথচ স্বাভাবিক বিবেকে এটা স্পষ্ট যে, নিয়্যত অন্তরের বিষয়। অন্তরে যদি রিয়া থাকে তাহলে মুখে যতই আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কথা বলা হোক অন্তরের রিয়াই ধর্তব্য। অতএব নিয়্যতে মুখের কোন কাজ নেই। আর যেহেতু মহান আল্লাহ অন্তরের বিষয়ে সম্যক অবগত, তাই অন্তরের অবস্থা মুখে উচ্চারণ করে তাকে জানানোর প্রয়োজন নেই। আমি জানাই অথবা না জানাই মহান আল্লাহ সবই জানেন। নিমেণ এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের মন্তব্য পেশ করা হল-
ইমাম হাসকাফী, ইমাম ইবনু আবিদীন,[3] হেদায়ার গ্রন্থকার,[4] ইমাম যায়লাঈসহ অনেক হানাফী আলেম এমনকি বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ইমাম কাসতাল্লানীও[5] মুখে উচ্চারণ করে জোরে নিয়্যত করাকে জায়েয বা ভাল বলেছেন। তবে কেউই যরূরী বা ফরয বা ওয়াজিব বলেননি। অন্যদিকে বহু মুহাক্কিক্ব আলেম মুখে নিয়্যত উচ্চারণ করাকে বিদ‘আত বলেছেন, যথা-
(ক) শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وَهَذَا الْقَوْلُ أَصَحُّ، بَلْ التَّلَفُّظُ بِالنِّيَّةِ نَقْصٌ فِي الْعَقْلِ وَالدِّينِ: أَمَّا فِي الدِّينِ فَلِأَنَّهُ بِدْعَةٌ، وَأَمَّا فِي الْعَقْلِ فَلِأَنَّ هَذَا بِمَنْزِلَةِ مَنْ يُرِيدُ أَكْلَ الطَّعَامِ فَقَالَ: أَنْوِي بِوَضْعِ يَدِي فِي هَذَا الْإِنَاءِ أَنِّي آخُذُ مِنْهُ لُقْمَةً، فَأَضَعُهَا فِي فَمِي فَأَمْضُغُهَا، ثُمَّ أَبْلَعُهَا لِأَشْبَعَ فَهَذَا حُمْقٌ وَجَهْلٌ.
‘আর এই মতটিই সঠিক। কেননা মুখে নিয়্যত উচ্চারণ করা বিবেক ও দ্বীনের স্বল্পতা। দ্বীনের স্বল্পতা এভাবে যে, এটা একটি বিদ‘আত। আর বিবেকের স্বল্পতা এভাবে যে, মুখে নিয়্যত উচ্চারণ করা সেই ব্যক্তির মত, যে খাবার খাওয়ার নিয়্যত মুখে বলে এভাবে যে, আমি নিয়্যত করছি আমার হাত এই পাত্রের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে আমি এক লোক্বমা খাবার নিয়ে তা আমার মুখে দিব, তারপর তাকে চাবিয়ে গিলে খাব। আর এই ধরনের নিয়্যত বোকামি ও মূর্খতা বৈ কিছুই নয়।[6]
এমনকি অনেক হানাফী আলেমও মুখে নিয়্যত উচ্চারণের অসারতা স্বীকার করে নিয়েছেন। যেমন আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وقد صرح ابن تيمية وغير واحد من العلماء: أن التلفظَ بالنية لم يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلّم مدة عُمُره، ولا عن واحد من الصحابة والتابعين، ولا من الأئمة الأربعة رحمهم الله تعالى.
‘ইবনু তায়মিয়াসহ একাধিক আলেম স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মুখে নিয়্যত উচ্চারণ করা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমগ্র জীবনে প্রমাণিত হয়নি। তেমনি ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈন ইযাম ও আয়েম্মায়ে কেরাম থেকেও প্রমাণিত হয়নি।[7]
বিখ্যাত হানাফী মুহাক্কিক্ব ইবনুল হুমাম রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
قَالَ بَعْضُ الْحُفَّاظِ: لَمْ يَثْبُتْ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِطْرِيقٍ صَحِيحٍ، وَلَا ضَعِيفٍ أَنَّهُ كَانَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ يَقُولُ عِنْدَ الِافْتِتَاحِ: أُصَلِّي كَذَا، وَلَا عَنْ أَحَدٍ مِنَ الصَّحَابَةِ، وَالتَّابِعِينَ، بَلِ الْمَنْقُولُ أَنَّهُ كَانَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ كَبَّرَ.
‘কিছু হাফেয বলেছেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ছহীহ বা যঈফ কোন সূত্রেই প্রমাণিত হয়নি যে, তিনি কোন আমলের শুরুতে মুখে উচ্চারণ করে বলতেন যে, আমি এই এই ছালাত আদায় করছি। তেমনি কোন ছাহাবী ও তাবেঈ থেকেও প্রমাণিত নয়। বরং রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, যখন তিনি ছালাতে দাঁড়াতেন, তখন তিনি তাকবীর দিতেন।[8]
আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وَقَدْ ثَبَتَ أَنَّهُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ فَكَبَّرَ فَلَوْ نَطَقَ بِشَيْءٍ آخَرَ لَنَقَلُوهُ وَوَرَدَ فِي حَدِيثِ الْمُسِيءِ صَلَاتِهِ أَنَّهُ قَالَ لَهُ إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ فَكَبِّرْ فَدَلَّ عَلَى عَدَمِ وُجُودِ التَّلَفُّظِ.
‘রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, তিনি যখন ছালাতে দাঁড়াতেন, তখন তিনি তাকবীর দিতেন। যদি তিনি তাকবীরের সাথে আরো কিছু বলতেন, তাহলে সেটা অবশ্যই বর্ণিত হত। যেমন ছালাতে ভুলকারী ব্যক্তির হাদীছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তুমি ছালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবীর দিবে’। তার এই হাদীছ প্রমাণ করে, মুখে নিয়্যত উচ্চারণের কোন স্থান শরী‘আতে নেই।[9]
ইমাম ইবনুল ক্বাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
وكان صلى الله عليه وسلم إذا قام إلى الصلاة قال "الله أكبر" ولم يقل شيئاً قبلها ولا تلفظ بالنية ألبتة، ولا قال أصلي لله كذا مستقبل القبلة أربع ركعات إماماً أو مأموماً، ولا قال أداءً ولا قضاء، ولا فرض الوقت، وهذه عشر بدع لم ينقل عنه أحد قط بإسناد صحيح ولا ضعيف ولا سند مرسل لفظةً واحدة منها ألبتهَ، بل ولا عن أحدٍ من أصحابه، ولا استحسنه أحد من التابعين، ولا الأئمة الأربعة، وإنما غرَّ بعض المتأخرين.
‘রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ছালাতে দাঁড়াতেন, তখন তিনি আল্লাহু আকবার বলতেন এবং এর পূর্বে তিনি কিছুই বলতেন না। আর কখনই তিনি মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যত বলেননি এভাবে যে, আমি আল্লাহ্র জন্য কিববলামুখী হয়ে ফরয ওয়াক্তে ইমাম বা মামূম হিসাবে ৪ রাক‘আত ক্বাযা/আদা ছালাত আদায় করছি। প্রায় ১০টি বিদ‘আতী শব্দ যা ছহীহ, যঈফ, মুসনাদ ও মুরসাল কোন সূত্রেই রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়। এমনকি কোন ছাহাবী থেকেও বর্ণিত নয়। কোন তাবেঈ এবং চার ইমামের কেউই এটাকে ভাল বলেছেন বলে জানা যায় না। বরং এটি হচ্ছে পরবর্তী কিছু আলেমের এক প্রকার ধোঁকাবাজি।[10]
জ্ঞাতব্য : আশ্চর্য হতে হয় তাদেরকে দেখে, যাদের নিকটে অনেক আমল নিয়্যত ছাড়াও হয়ে যায় আবার কোন আমলে মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যত লাগে। অথচ তাদের এই দু’টি ফৎওয়াই মধ্যপন্থার বিপরীত।
আমলের শুরুতে রিয়া ছিল না; মাঝামাঝিতে রিয়া প্রবেশ করেছে সেই আমলের হুকুম কী?
এই বিষয়ে শায়খ ছালেহ আল-উছায়মীন রাহিমাহুল্লাহ সহ ওলামায়ে কেরাম[11] বলেছেন, প্রথমত দেখতে হবে ইবাদতটির প্রথম অংশ কি তার শেষ ভাগের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত? যদি জড়িত হয়, তাহলে পুরো ইবাদতটিই বাতিল বলে গণ্য হবে। যেমন কেউ চার রাক‘আত যোহরের ছালাতের জন্য দাঁড়াল, প্রথম দুই রাক‘আত ইখলাছের সাথে আদায় করল, পরবর্তী দুই রাক‘আতে রিয়া প্রবেশ করল। এখন যেহেতু চার রাক‘আত ছালাতের প্রতিটি রাক‘আতই পরস্পরের সাথে জড়িত, সেহেতু পুরো ছালাতটিই বাতিল বলে গণ্য হবে। কিন্তু যদি দেখা যায়, ইবাদাতটির প্রথম অংশ থেকে শেষ অংশ পৃথক করা যাচ্ছে, যেমন কেউ ২০০ টাকা হাতে নিয়ে দান করা শুরু করল। ১০০ টাকা দান করার পরে তার মনের মধ্যে রিয়া প্রবেশ করল, এখন তার প্রথম ১০০ টাকা দান মহান আল্লাহ্র দরবারে গ্রহণীয় হবে বলে আশা করা যায়। তার পুরো আমলটিই বাতিল হবে না; বরং যখন থেকে রিয়া প্রবেশ করেছে, তখন থেকে পরের অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। ওয়াল্লাহু আ‘লাম!
বিশুদ্ধ নিয়্যত না থাকলে কি আমলই ছেড়ে দিব?
অনেক মানুষকে দেখা যায় রিয়া থেকে বাঁচার জন্য ইবাদতই ছেড়ে দেন। কোন ইবাদত করতে গেলে তার মনে হয় রিয়া হয়ে যাচ্ছে না-তো। তাই রিয়ার ভয়ে ইবাদতই পরিত্যাগ করেন। এটিও মূলত শয়তানের এক প্রকার ওয়াসওয়াসা। ইবাদত করতে থাকতে হবে এবং বারবার নিয়্যত শুদ্ধ করতে হবে। যখনই মনে হবে রিয়া হচ্ছে, তখনই আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়্যতকে নবায়ন করতে হবে। সাধ্য অনুযায়ী নিয়্যত নবায়নের এই চেষ্টাই আমাদের ইবাদতকে মহান আল্লাহ্র দরবারে গ্রহণীয় করে তুলবে। কেননা যতক্ষণ রিয়ার চিন্তা আমি বা আপনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করে হৃদয়ে স্থান না দিচ্ছি, ততক্ষণ ইনশাআল্লাহ রিয়ার গুনাহে গুনাহগার হব না। সুতরাং এই জাতীয় শয়তানী ওয়াসওয়াসায় পড়ে আমল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হবে বোকামি।
আমলের পরে কি নিয়্যত করা যাবে?
নিয়্যত করার বিষয়ে প্রায় সকল আলেম এই বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন যে, আমলের আগে নিয়্যত করতে হবে। তবে সেটা কত আগে হবে তা নিয়ে মতভেদ আছে। হানাফী মাযহাব মতে, আমল করার অনেক আগে নিয়্যত করলেও চলবে। অন্যদিকে শাফেঈ মাযহাব মতে, আমলের কিছু পূর্বে নিয়্যত করতে হবে। তবে কিছু কিছু আমল আছে যা শুরু করার পরেও নিয়্যত করা যায়।
(ক) আর তা হচ্ছে নফল ছিয়াম। এই মর্মে দলীল হচ্ছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদীছ -
عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ذَاتَ يَوْمٍ «يَا عَائِشَةُ، هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ؟» قَالَتْ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا عِنْدَنَا شَيْءٌ قَالَ: «فَإِنِّي صَائِمٌ»
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, বাড়ীতে তোমাদের নিকটে কি কিছু আছে? আমি বললাম, না, আল্লাহ্র রাসূল! কিছুই নেই। তখন তিনি জবাবে বললেন, তাহলে আমি ছিয়াম থেকে গেলাম।[12]
এই হাদীছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিয়ামের নিয়্যত করেছেন ছিয়াম শুরু হওয়ার সময়ের অনেক পরে।
(খ) ইহরাম বাঁধার পরে হজ্জে ইফরাদের নিয়্যতকে হজ্জে ক্বিরানে পরিণত করা যায়। তথা শুধু ওমরার ইহরাম বেঁধেছে এবং ওমরাও সম্পন্ন করেছে। এখন সে তার নিয়্যতকে পরিবর্তন করে হজ্জে ক্বিরানের নিয়্যত করে নিতে পারে এবং ইহরাম না ভেঙ্গে হজ্জের জন্য প্রস্ত্ততি নিবে। এখানে হজ্জে ক্বিরানের নিয়্যত আমল শুরু হওয়ার পর করা হচ্ছে।
وهذا هو ما وقع لعائشة رضي الله عنها ، فإنها كانت متمتعة ثم حاضت ولم تتمكن من الاعتمار قبل الحج فأدخلت الحج على العمرة فصارت قارنة . رواه البخاري ومسلم.
‘এমনটিই ঘটেছিল আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর ক্ষেত্রে। তিনি হজ্জে তামাত্তুর নিয়্যত করেছিলেন। ওমরা শুরুও করেছিলেন কিন্তু হায়েযের কারণে পূর্ণ করতে পারেননি। তখন তিনি ইহরাম না ভেঙ্গে তামাত্তুর নিয়্যতকে পরিবর্তন করে ক্বিরানে পরিণত করে দেন এবং হায়েয থেকে সুস্থ হওয়ার পর হজ্জের কাজ শুরু করেন।[13]
(গ) কারো উপর যদি দু’টি কাফফারা থাকে- একটি যিহারের এবং একটি ছিয়াম ভঙ্গের। উভয় কাফফারাই সে গোলাম আযাদ করার মাধ্যমে দিতে চায়। এখন সে কাফফারার উদ্দেশ্যে একটি গোলাম আযাদ করেছে কিন্তু এখনো নির্ধারিত করেনি যে, এই গোলামটি কোন্ কাফফারার জন্য। এই নির্ধারণের নিয়্যতটা সে পরেও করে নিতে পারে কোন সমস্যা নেই।
وَإِنَّمَالِكُلِّامْرِئٍمَانَوَى‘আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে, যার সে নিয়্যত করে’ :
এটি হাদীছের দ্বিতীয় বাক্য। আমরা এতক্ষণ হাদীছের প্রথম বাক্য ‘ইন্নামাল আ‘মালু বিন নিয়্যাত’-এর অধীনে নিয়্যত সংশ্লিষ্ট প্রায় ১১টি মাসআলা দেখলাম। ফালিল্লাহিল হামদ। হাদীছের দ্বিতীয় বাক্যটিও নিয়্যত সংশ্লিষ্ট, তবুও মুহাদ্দিছগণ এই বাক্যটির আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন অনুভব করেছেন। কেননা ‘সকল আমল নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল’ প্রথম বাক্যে একথা বলার পরে আবার দ্বিতীয় বাক্যে একথার কী প্রয়োজন? একই অর্থবোধক বাক্য পরপর দু’বার উল্লেখ করার কারণ ও বাস্তবতা বিশ্লেষণই এই বাক্যের অধীনে মুহাদ্দিছগণের আলোচনার মূল অংশ। নিমেণ এই বাক্যকে সামনে রেখে মুহাদ্দিছগণের মন্তব্য পেশ করা হল-
(ক) ইমাম ক্বাসতাল্লানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
واستشكل الإتيان بهذه الجملة بعد السابقة لاتحاد الجملتين فقيل تقديره وإنما لكل امرىء ثواب ما نوى، فتكون الأولى قد نبهت على أن الأعمال لا تصير معتبرة إلا بنية، والثانية على أن العامل يكون له ثواب العمل على مقدار نيته، ولهذا أخّرت عن الأولى لترتبها عليها.
‘প্রথম বাক্যের পর দ্বিতীয় বাক্য আনার কারণে একটু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কেননা দু’টি বাক্যের অর্থ প্রায় একই রকম। অতএব দ্বিতীয় বাক্যের ব্যাখ্যা এমন করা যেতে পারে যে, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ততটুকু নেকী রয়েছে, যতটুকু সে নিয়্যত করবে। তাহলে প্রথম বাক্যের অর্থ দাঁড়াবে, নিশ্চয় আমলসমূহ নিয়্যত ব্যতীত গ্রহণীয়ই হয় না আর দ্বিতীয় বাক্যের অর্থ দাঁড়াবে নেকীর কম-বেশী নির্ধারিত হবে নিয়্যতের উপর। আর এজন্যই দ্বিতীয় বাক্যকে পরে আনা হয়েছে।[14] তথা প্রথম বাক্যটি আমলটির শুদ্ধতা বিশুদ্ধতার জন্য আর দ্বিতীয় বাক্যটি আমলটির নেকীর পরিমাণের জন্য।
(খ) ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
فَائِدَةُ ذِكْرِهِ بَعْدَ إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ بَيَانُ أَنَّ تَعْيِينَ الْمَنَوِيِّ شَرْطٌ فلو كان على انسان صلوة مقضية لايكفيه أن ينوى الصلوة الْفَائِتَةَ بَلْ يُشْتَرَطُ أَنْ يَنْوِيَ كَوْنَهَا ظُهْرًا أَوْ غَيْرَهَا وَلَوْلَا اللَّفْظُ الثَّانِي لَاقْتَضَى الْأَوَّلُ صِحَّةَ النِّيَّةِ بِلَا تَعْيِينٍ أَوْ أَوْهَمَ ذَلِكَ.
‘ইন্নামাল আ‘মাল বিন নিয়্যাত’ বাক্যটির পর দ্বিতীয় বাক্যটি নিয়ে আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রত্যেক আমলের জন্য নিয়্যতকে নির্দিষ্ট করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ যদি কোন মানুষ ক্বাযা ছালাত আদায়ের নিয়্যত করে, তাহলে তার জন্য শুধু ক্বাযার নিয়্যত যথেষ্ট হবে না বরং তাকে নির্দিষ্ট করতে হবে যে সে কোন্ ওয়াক্তের ক্বাযা আদায় করছে। যোহর, আছর নাকি মাগরিব। যদি শুধু প্রথম বাক্যকে যথেষ্ট মনে করা হত, তাহলে নির্দিষ্ট করা ছাড়াই ইবাদত সঠিক হওয়ার অবকাশ থাকত বা সন্দেহ থেকে যেত।[15]
একই রকম মন্তব্য করেছেন ছহীহ বুখারীর প্রাচীন ব্যাখ্যাগুলোর অন্যতম ব্যাখ্যা গ্রন্থ আলামুল হাদীছের লেখক ইমাম খাত্ত্বাবী।[16]
(গ) ইমাম কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
قَالَ الْقُرْطُبِيُّ فِيهِ تَحْقِيقٌ لِاشْتِرَاطِ النِّيَّةِ وَالْإِخْلَاصِ فِي الْأَعْمَالِ.
‘দ্বিতীয় বাক্যের মধ্যে আমলের ক্ষেত্রে নিয়্যত ও ইখলাছের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে’।[17] তথা তিনি দ্বিতীয় বাক্যকে প্রথম বাক্যের তাকীদ বা গুরুত্বস্বরূপ বলেছেন। অর্থ একই কিন্তু একই অর্থবোধক বাক্য দু’বার ব্যবহারের মাধ্যমে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
(ঘ) ইমাম ত্বীবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
ففهم من الأول أن الأعمال لا تكون محسوبة ومسقطة للقضاء إلا إذا كانت مقرونة بالنيات، ومن الثانى أن النيات إنما تكون متعددة ومقبولة إذا كانت مقرونة بالإخلاص، مبعدة عن الرياء، فالأول قصر المسند إليه في المسند، والثاني عكسه.
‘প্রথম বাক্য থেকে বুঝা গেছে, কোন আমল নিয়্যত ব্যতীত আমল হিসাবেই গণ্য হবে না। আর দ্বিতীয় বাক্য দ্বারা বুঝানো হয়েছে, নিয়্যত অনেক উদ্দেশ্যে হতে পারে। তবে ততক্ষণ আমল কবুল হবে না, যতক্ষণ না নিয়্যত শুধুমাত্র মহান আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য হয় এবং রিয়ার লেশমাত্র না থাকে। প্রথম বাক্যের ‘উদ্দেশ্য’ তথা আমল সীমাবদ্ধ হয়েছে ‘বিধেয়’ তথা নিয়্যতের উপর। আর দ্বিতীয় বাক্যের ‘উদ্দেশ্য’ তথা ‘যা সে নিয়্যত করে’ সীমাবদ্ধ হয়েছে দ্বিতীয় বাক্যের ‘বিধেয়’ ‘প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে’-এর মধ্যে।[18]
অর্থাৎ প্রথম বাক্যের ‘বিধেয়’ দ্বিতীয় বাক্যের ‘উদ্দেশ্য’। সেই হিসাবে প্রথম বাক্যের অর্থ দাঁড়াবে, আমল নির্ভরশীল নিয়্যতের উপর। আর দ্বিতীয় বাক্যের অর্থ দাঁড়াবে, নিয়্যত তথা নিয়্যতের নেকী নির্ভরশীল মানুষের নিয়্যতের ধরনের উপর।
(ঙ) ইমাম ইবনুল মুলাক্কিন রাহিমাহুল্লাহও এই দ্বিতীয় বাক্যের কয়েকটি ফায়েদা বলেছেন, তন্মধ্যে প্রায় সবগুলো উপরের ইমামগণের বক্তব্যে চলে এসেছে। শুধুমাত্র একটি নতুন বিষয় তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন,
منع الاستنابة في النية، فإن اللفظ إنما يقتضي اشتراط النية في كل عمل، وذلك لا يقتضي منع الاستنابة في النية، إذ لو نوى واحد عن غيره صدق عليه أنه عمل بنية وذلك ممتنع، فأفاد بالثاني مَنْعَ ذلك. وقد استثني من هذا نية الولي عن الصبي في الحج.
‘দ্বিতীয় বাক্যটির কারণে কেউ কারো পক্ষ থেকে নিয়্যত করে দিতে পারবে না। কেননা প্রথম বাক্যের দাবী হচ্ছে, প্রত্যেক কাজে নিয়্যত থাকতে হবে। কে নিয়্যত করল এটা যরূরী নয়। সেই হিসাবে নিয়্যতে স্থলাভিষিক্ততা চলতে পারে। অতএব কেউ যদি অন্যের পক্ষ থেকে নিয়্যত করে দেয়, তাহলে তার নিয়্যতও প্রথম বাক্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু ইসলামী শরী‘আতে নিয়্যতের স্থলাভিষিক্ততা নিষিদ্ধ। আর এই নিষিদ্ধতা দ্বিতীয় বাক্যের দ্বারা প্রমাণিত হয়। তবে ছোট নাবালক শিশুর পক্ষ থেকে তার অভিভাবক হজ্জের নিয়্যত করে দিবে। নাবালক শিশুর হজ্জের নিয়্যতের বিষয়টি এই নিষিদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত নয়।[19]
(চ) ড. আব্দুল করীম আল-খুযাইর বলেন,
)وإنما لكل امرئ ما نوى (ليس لك إلا ما قصدته واستحضرت فيه هذه النية، ولذا الإنسان يأتي إلى الصلاة مخلصاً لله -عز وجل-، ويدخل فيها بنية صالحة خالصة، هنا تصح هذه العبادة، لكن استمرار النية ليس للإنسان من عمله إلا ما عقله، يعني إنما يحسب له من الأجر على هذه العبادة بقدر ما حضرته هذه النية، ولذا جاء في الحديث الصحيح أن من الناس من ينصرف من الصلاة وليس له إلا نصفها ربعها عشرها، بقدر ما عقله من هذه الصلاة.
‘আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে, যা সে নিয়্যত করে’ এই বাক্যের অর্থ হচ্ছে, তোমার জন্য ততটুকুই আছে, যতটুকু তুমি নিয়্যত কর এবং যতক্ষণ এই নিয়্যত ধরে রাখতে পার। আর যে মানুষ আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য ছালাত আদায় করছে এবং ছালাতে প্রবেশ করেছে সৎ নিয়্যত নিয়ে, তার এই নিয়্যত তার ছালাতকে বিশুদ্ধ করবে। কিন্তু এই নিয়্যতের উপর মনোযোগ ধরে রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জন্য ততটুকুই আছে, যতটুকুর উপর সে তার মনোযোগ ধরে রাখতে পারে। তথা তার ইবাদতের ততটুকু নেকী তাকে দেয়া হবে, যতটুকু সময় সে মনোযোগের সাথে এই নিয়্যত ধরে রেখেছিল। এজন্যই তো হাদীছে বলা হয়েছে, মানুষের মধ্যে অনেকেই রয়েছে, যে ছালাত শেষ করে অর্ধেক নেকী নিয়ে আবার কেউ এক-চতুর্থাংশ নেকী নিয়ে। ছালাতের নেকীর এই কমবেশী মূলত মনোযোগের সাথে নিয়্যত ধরে রাখার উপর নির্ভর করে।[20]
(চলবে)
[1]. ইউটিউবে তাদের ফৎওয়ার ভিডিও থেকে সংগৃহীত।
[2]. ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৪৪।
[3]. হাশিয়া ইবনু আবেদীন, ১/১২৭, অধ্যায়,‘সুনানুল ওযূ’।
[4]. মোল্লা আলী ক্বারী, মিরকাতুল মাফাতীহ, ১/৪২।
[5]. ইরশাদুস সারী, ১/৫৪।
[6]. ইবনু তায়মিয়া, মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২২/২৩২।
[7]. আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী, ফায়যুল বারী, ১/৮৪।
[8]. ইবনু তায়মিয়া, মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২২/২৩২।
[9]. মোল্লা আলী ক্বারী, মিরকাতুল মাফাতীহ, ১/৪২।
[10]. ইবনুল ক্বাইয়্যিম, যাদুল মা‘আদ, ১/১৯৪।
[11]. ইউটিউবে তাদের ফৎওয়ার ভিডিও থেকে সংগৃহীত।
[12]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৪।
[13]. ইবনু হাজার, ফাতহুল বারী, ৩/৬০৯; মুবারকপুরী, মির‘আতুল মাফাতীহ, ৯/৬৪।
[14]. ক্বাসতাল্লানী, ইরশাদুস সারী, ১/৫৪।
[15]. নববী, মিনহাজ, ১৩/৫৪।
[16]. ইমাম খাত্ত্বাবী, আলামুল হাদীছ, ১/১১৪।
[17]. হাফিয ইরাকী, তরহুস তাসরীব শারহুত তাক্বরীব, ২/১০।
[18]. ইমাম ত্বীবী, শারহুল মিশকাত, ২/৪১৮।
[19]. ইবনুল মুলাক্কিন, আত-তাওযীহ, ২/১৮৭।
[20]. আব্দুল করীম আল-খুযাইর, শারহু ছহীহিল বুখারী, ১০/১০।
