প্রয়োজনের তাগিদে মানুষকে পরিশ্রম করতে হয়।*আর পরিশ্রম করার ফলে শরীর হয়ে যায় ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। এই ক্লান্তি দূর করার জন্য আল্লাহ তাআলা ঘুমের ব্যবস্থা করেছেন। ঘুমের মাঝে মানুষ বিভিন্ন ধরনের স্বপ দেখে। কখনো আকাশে চলে, আবার কখনো বাঘের সাথে পাঞ্জা লড়ে। বর্তমানে কিছু লোক স্বপ্নের অবান্তর কিছু ব্যাখ্যা করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাই এ বিষয়ে সামান্য কিছু আলোচনা করার প্রয়োজন অনুভব করছি।
স্বপ্নের প্রকারভেদ : স্বপ্ন তিন প্রকার- ১. আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদস্বরূপ স্বপ্ন, ২. শয়তানের প্ররোচণায় দুশ্চিন্তাগ্রস্তের স্বপ্ন ও ৩. মানুষের চিন্তা-ভাবনা প্রসূত স্বপ্ন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرُّؤْيَا ثَلاَثٌ فَالرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ بُشْرَى مِنَ اللَّهِ وَالرُّؤْيَا مِنْ تَحْزِينِ الشَّيْطَانِ وَالرُّؤْيَا مِمَّا يُحَدِّثُ بِهَا الرَّجُلُ نَفْسَهُ فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُمْ وَلْيَتْفُلْ وَلاَ يُحَدِّثْ بِهَا النَّاسَ.
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘স্বপ্ন তিন প্রকার, ১. ভালো স্বপ্ন হলো আল্লাহ তাআলার নিকট হতে সুসংবাদস্বরূপ, ২. আরেক প্রকার স্বপ্ন হলো শয়তানের প্ররোচণায় দুশ্চিন্তাস্বরূপ, ৩. আরেক প্রকার স্বপ্ন হলো মানুষের কল্পনা প্রসূত (সে যা চিন্তা করে, তা-ই স্বপ্নে দেখে)। অতএব, তোমাদের কেউ যদি অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে, তাহলে সে যেন উঠে যায় এবং (বাম দিকে) থুথু ফেলে এবং তা লোকের নিকট না বলে’।[1]
ভালো স্বপ্ন দেখলে করণীয় : কখনো মানুষ ভালো স্বপ্ন দেখে আবার কখনো খারাপ স্বপ্ন দেখে। ভালো স্বপ্ন সাধারণত আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। এজন্য আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালো স্বপ্ন দেখলে কী করতে হবে তা বলে গেছেন। যেমন- তিনি বলেন,إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا يُحِبُّهَا فَإِنَّمَا هِيَ مِنَ اللَّهِ فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ عَلَيْهَا وَلْيُحَدِّثْ بِهَا ‘যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে, তাহলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তাই সে যেন এজন্য আল্লাহর প্রশংসা করে এবং অন্যের কাছে তা বর্ণনা করে’।[2] এ হাদীছ থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আর কেউ ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর প্রশংসা করা ও বিজ্ঞ কোনো আলেমের কাছে তার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া উচিত। এ হাদীছের টীকায় আল্লামা ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘ভালো স্বপ্ন দেখলে বিজ্ঞ আলেমদের নিকট বলা মুস্তাহাব’।[3] উল্লেখ্য, বিজ্ঞ আলেম যদি স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা জানেন, তাহলে বলবেন, অন্যথা অহেতুক ব্যাখ্যা করা থেকে বিরত থাকবেন। কেননা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ أَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ وَهِيَ عَلَى رِجْلِ طَائِرٍ مَا لَمْ يَتَحَدَّثْ بِهَا فَإِذَا تَحَدَّثَ بِهَا سَقَطَتْ قَالَ وَأَحْسَبُهُ قَالَ وَلاَ يُحَدِّثُ بِهَا إِلاَّ لَبِيبًا أَوْ حَبِيبًا ‘মুমিনের স্বপ্ন নবুঅতের ৪০ ভাগের এক ভাগ। স্বপ্নের ব্যাপারে যে পর্যন্ত আলোচনা করা না হয়, সে পর্যন্ত এটা পাখির পায়ে (ঝুলে) থাকা জিনিসের মতো। আলোচনা করার সাথে সাথে তা যেন পা হতে পড়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, তিনি এ কথাও বলেছেন, আর স্বপ্নদ্রষ্টা যেন জ্ঞানী ব্যক্তি অথবা পছন্দীয় ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো নিকট স্বপ্নের আলোচনা না করে’।[4] বর্তমানে আমাদের সমাজে কিছু লোক স্বপ্নের অহেতুক ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের এই হাদীছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।
মন্দ স্বপ্ন দেখলে করণীয় : মন্দ স্বপ্ন সাধারণত শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। কারণ শয়তানের কাজই হলো মানুষকে দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মাঝে রাখা। কেউ যদি অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে, তাহলে তাকে কী করতে হবে সে সম্পর্কে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,إِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ الرُّؤْيَا يُحِبُّهَا فَإِنَّهَا مِنْ اللهِ فَلْيَحْمَدْ اللهَ عَلَيْهَا وَلْيُحَدِّثْ بِهَا وَإِذَا رَأَى غَيْرَ ذَلِكَ مِمَّا يَكْرَهُ فَإِنَّمَا هِيَ مِنْ الشَّيْطَانِ فَلْيَسْتَعِذْ مِنْ شَرِّهَا وَلاَ يَذْكُرْهَا لِأَحَدٍ فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ ‘যখন কেউ এমন কোনো স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে, তবে মনে করবে যে, তা আল্লাহর তরফ থেকে হয়েছে। তখন যেন সে এজন্য আল্লাহর শোকর আদায় করে এবং তা বর্ণনা করে। আর যখন এর বিপরীত কোনো স্বপ্ন দেখে, যা সে অপছন্দ করে, মনে করবে তা শয়তানের তরফ থেকে হয়েছে। তখন যেন সে এর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায় এবং তা কারো কাছে বর্ণনা না করে। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করবে না’।[5] এই হাদীছের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘কেউ মন্দ স্বপ্ন দেখলে তাকে পাঁচটি কাজ করতে হবে। ১. আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে, অথাৎ আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম বলবে, ২. বাম দিকে তিনবার থুতু নিক্ষেপ করবে, ৩. পার্শ্ব পরিবর্তন করবে, ৪. ছালাত আদায় করবে ও ৫. কারো কাছে তা বর্ণনা করবে না। যদি এই পাঁচটি কাজ করে, তাহলে শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।[6]
স্বপ্ন বানিয়ে বলার পরিণতি : অনেক মানুষ আছে, যারা ঠাট্টা-মশকারাচ্ছলে বা কাউকে হাসানোর উদ্দেশ্যে বানিয়ে স্বপ্ন বলে থাকে; অথচ সে জানে না তার পরিণতি কী হবে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَنْ تَحَلَّمَ بِحُلْمٍ لَمْ يَرَهُ كُلِّفَ أَنْ يَعْقِدَ بَيْنَ شَعِيرَتَيْنِ وَلَنْ يَفْعَلَ ‘যে লোক এমন স্বপ্ন দেখার ভান করল, যা সে দেখেনি তাকে দুটি যবের দানায় গিট দেওয়ার জন্য বাধ্য করা হবে; অথচ সে তা কখনও পারবে না’।[7] ভাই মানুষকে হাসানোর জন্য কেন আপনি মিথ্যা কথা বলেন? রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদীছে বলেছেন, وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ بِالْحَدِيثِ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ فَيَكْذِبُ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ ‘সেই লোক ধ্বংস হোক, যে মানুষদের হাসানোর উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে। সে নিপাত যাক, সে নিপাত যাক’।[8] অতএব, বানিয়ে মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কি স্বপ্নে দেখা যায় : অনেকের মুখ থেকে শোনা যায় নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দর্শনের কথা; বিশেষ করে আলেম সমাজে। আসলেই কি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখা যায়? হ্যাঁ, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখা যায়। একটি হাদীছে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
عَبْدَانُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ عَنْ يُونُسَ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَسَيَرَانِي فِي الْيَقَظَةِ وَلاَ يَتَمَثَّلُ الشَّيْطَانُ بِي.
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘যে লোক আমাকে স্বপ্নে দেখে, সে শীঘ্রই জাগ্রত অবস্থাতেও আমাকে দেখবে। কেননা শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না’।[9] এ হাদীছের ব্যাখ্যা স্বয়ং ইমাম বুখারী করেছেন। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেছে, সে মূলত তাকেই দেখেছে। অর্থাৎ ছহীহ হাদীছে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে দেহাবয়ব বর্ণনা করা হয়েছে, সেই আকৃতিতে যে ব্যক্তি দেখেছে সে মূলত নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছে। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন ও ইবনু আব্বাস রযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কাছে কেউ যদি বলতেন যে, আমি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখেছি, তাহলে তারা জিজ্ঞেস করতেন তুমি কেমন আকৃতিতে তাকে দেখেছ? যদি ঐ ব্যক্তির বর্ণনা হাদীছে বর্ণিত দেহাবয়বের সাথে মিলে যেত, তাহলে তারা সত্যায়ন করতেন। আর যদি না মিলত তাহলে বলতেন, তুমি মিথ্যা বলছ।[10]
উল্লেখ্য, হাদীছে বলা হয়েছে যে, শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। হাদীছে কিন্তু একথা বলা হয়নি যে, শয়তান দাবি করতে পারে না। অর্থাৎ শয়তান স্বপ্নে দাবি করতে পারবে যে, আমি নবী। কিন্তু সে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসল আকৃতি ধারণ করতে পারবে না। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য একটি উদাহরণ দেই- একজন লোক স্বপ্নে দেখছে যে, একজন ধবধবে সাদা দাড়িওয়ালা ব্যক্তি বলছে, আমি নবী। তুমি অনেক ভালো মানুষ, ইবাদত করতে করতে তুমি কামেল দরজায় পৌঁছে গেছো। অতএব এখন তোমার আর ছালাত, ছিয়াম, হজ্জ, যাকাত ও শরীআতের কোনো বিধান পালন করা জরুরী না। আমরা বলব, ঐ ব্যক্তি স্বপ্নে যাকে দেখেছে, তিনি নবী নন। কারণ নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাড়ি ধবধবে সাদা ছিল না। হাদীছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ২০টির অধিক দাড়ি পাকেনি। আমরা আগেও বলেছি যে, শয়তান কিন্তু নিজেকে নবী দাবি করতে পারবে। সে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসল আকৃতি ধারণ করতে পারবে না। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমূর্ষু অবস্থায়ও দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে ছালাতে উপস্থিত হয়েছেন। আর এই স্বপ্নের মাঝে তাকে ইবাদত করতে নিষেধ করা হচ্ছে।
অতএব বুঝাই যাচ্ছে, এটা নবী নয়; বরং শয়তান তার কাছে উপস্থিত হয়েছে। আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য যে, কেউ যদি স্বপ্ন দেখে, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোনো কাজ করতে আদেশ করছেন বা নিষেধ করছেন, তাহলে এক্ষেত্রে তার করণীয় কী? এক্ষেত্রে ব্যক্তিকে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে যে, আদিষ্ট বা নিষেধকৃত বিষয়টি ইসলামের বিধি-বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কিনা। যদি সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে করা যাবে না, আর যদি সাংঘর্ষিক না হয় তাহলে করা যাবে। যেমন- কেউ স্বপ্নে দেখল নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দান করার জন্য বলছেন, তাহলে ঐ লোকটি দান-ছাদাক্বা করবে। কারণ, দান-ছাদাক্বা শরীআতের সাথে সাংঘর্ষিক না; বরং শরীআত দান-ছাদাক্বা করার জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বাণী উচ্চারণ করেছে। আর কেউ যদি স্বপ্নে দেখে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাযারে গিয়ে গরু জবাই করার জন্য আদেশ করছেন, তাহলে এটা বাস্তবায়ন করা যাবে না। কারণ, এটা শরীআতের সাথে সাংঘর্ষিক (ফাতহুল বারী, ১৫/৫০৮)।
বিবেকবিরোধী স্বপ্ন : কোনো ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল ফেরেশতা তাকে মন্দ কাজ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে এই স্বপ্নের উপর ভিত্তি করে মন্দ কাজ করা যাবে না। কারণ, ফেরেশতা কখনো মানুষকে মন্দ কাজ করার জন্য আহ্বান জানান না। সুতরাং এটা বিবেকবিরোধী স্বপ্ন, এর উপর আমল করা যাবে না। পরিশেষে পাঠকদের প্রতি অনুরোধ রইল, আপনারা স্বপ্নের ব্যাপারে সাবধান হোন! যার তার স্বপ্ন শুনেই তার উপর আমল শুরু করবেন না; বরং দেখবেন স্বপ্নটি শরীআতের সাথে সাংঘর্ষিক কিনা। যদি সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে এর উপর ভিত্তি করে কোনো কাজ করা যাবে না। আর যদি সাংঘর্ষিক না হয়, তাহলে বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ গ্রহণ করবেন। মনে রাখবেন, অনেক সময় স্বপ্নে যা দেখা যায়, হুবহু তা বাস্তবে সংঘটিত হয় না; বরং এর ব্যাখ্যা ভিন্ন ধরনের হয়। তাই এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। আল্লাহ সকলকে তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!
সাঈদুর রহমান
শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, বীরহাটাব-হাটাব, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
[1]. তিরমিযী, হা/২২৭০, হাদীছ ছহীহ।
[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৯৮৫।
[3]. ফাতহুল বারী, ১৫/৪৮২।
[4]. তিরমিযী, হা/২২৭৮, হাদীছ ছহীহ।
[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৭০৪৫।
[6]. ফাতহুল বারী, ১৫/৪৮৩।
[7]. ছহীহ বুখারী, হা/৭০৪২।
[8]. তিরমিযী, হা/২৩১৫, হাদীছ হাসান।
[9]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৯৯৩।
[10]. ফাতহুল বারী, ১৫/৫০১।