প্রথম পরিচ্ছেদ
ইসলাম-পূর্ব আরবে দলপ্রীতি ও গোষ্ঠীপ্রথা
ইসলাম-পূর্ব যুগে (জাহিলী যুগে) সামাজিক সহাবস্থানের প্রধান বন্ধন গড়ে উঠেছিল বংশধারা, ভৌগোলিক পরিচয়, গায়ের রং, পেশার বৈচিত্র্য এবং ভাষার ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে।
আরব উপদ্বীপে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হতো গোত্রীয় প্রথা এবং শহর ও মরুচারী উভয় অঞ্চলের গোত্রীয় সংহতির (আছাবিয়্যাহ/اَلْعَصَبِيَّةُ) মাধ্যমে। রক্ত ও বংশীয় সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই এটি টিকে ছিল। এর সূত্র ধরেই একটি গোত্র তার যাবতীয় উপাদান ও জীবন-জীবিকার উপকরণের ক্ষেত্রে এমন একজন নেতার অধীনে ঐক্যবদ্ধ হতো, যার শ্রেষ্ঠত্ব তারা নির্বাচনের মাধ্যমে অথবা প্রভাব-প্রতিপত্তির জোরে মেনে নিত।
আর এই গোত্রীয় সমাবেশগুলোর মূল বা কেন্দ্রীয় দল ছিল ‘কুরাইশ’। তাদের হাতেই ন্যস্ত ছিল হাজীদের পানি পান করানো (سِقَايَةٌ), কা‘বার চাবি সংরক্ষণ ও গিলাফ পরানো (حِجَابَةٌ), হাজীদের আতিথেয়তা (رِفَادَةٌ), পরামর্শ সভা আয়োজন (نَدْوَى) এবং রণপতাকা বহন (لِوَاء)-সহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব। এছাড়া তারা অন্যদের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ববন্ধন, অধিকার সুরক্ষা, আক্রমণ প্রতিহত করা এবং রক্তের বদলা নেওয়ার ক্ষেত্রেও যুক্ত থাকত।
কখনও আবার সেখানে পার্থিব স্বার্থ রক্ষা ও রক্তপাত বন্ধের উদ্দেশ্যে ভিন্ন প্রকৃতির কিছু জোট বা দল দেখা যেত। যেমন: ‘হিলফুল মুতায়্যাবিন’ (حِلْفُ الْمُطَيَّبِيْنَ), ‘লা‘ক্বাতুদ দাম’ (لَعْقَةُ الدَّمِ) এবং ‘হিলফুল ফুযূল’(حِلْفُ الْفَضَوْلِ)। তবে এতকিছুর পরও সেই গোত্রীয় জোটগুলোর মাঝে এমন কোনো ব্যাপকতা ছিল না, যা আদনান, কাহতান কিংবা কুযা‘আ-এর মতো বিশাল বংশীয় ধারাগুলোকে এককভাবে ধারণ করত; বরং তা ছিল কেবল ছোট ছোট শাখা ও নির্দিষ্ট গোত্রীয় ও উপগোত্রীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও এগুলোর তেমন বিশেষ প্রভাব ছিল না। যেমন: কাহতানীদের ওপর আদনানীদের কিংবা ইয়ামানীদের ওপর কায়সীদের গর্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা— বিষয়গুলো এভাবেই চলত।
এই গণ্ডি যত প্রশস্ত কিংবা সংকীর্ণ হোক, এর মূল ভিত্তি ছিল ‘আছাবিয়্যাহ’ বা অন্ধ গোত্রপ্রীতি। এটি এমন এক শব্দ, যা মূলত: বিভাজন, অনৈক্য এবং ধ্বংসাত্মক গোত্রীয় সংঘাতকে নির্দেশ করে, যার মূলে থাকে নিছক বংশমর্যাদার বড়াই ও গোত্রীয় সংকীর্ণতা। এটি ছিল এক গোত্রের বিরুদ্ধে অন্য গোত্রের কিংবা এক জনপদের বিরুদ্ধে অন্য জনপদের একপাক্ষিক অন্ধ আবেগ। মূলত এই গোত্রপ্রীতিগুলোর সামগ্রিক ফল ছিল পারস্পরিক বিবাদ ও চরম বিশৃঙ্খলা।
ফলাফল বিবেচনায় এটি অনেকাংশেই বর্তমান মুসলিমবিশ্বে প্রচলিত ‘জাতীয়তাবাদ’ ও ‘দেশপ্রেমের’ চটকদার স্লোগানের মতো। তবে নবুঅত-পূর্ব জাহিলী যুগের সেই গোত্রপ্রীতির মাঝেও এমন এক ধরনের আভিজাত্য ও চারিত্রিক নৈতিকতা বিদ্যমান ছিল, যা জাতীয়তাবাদের নামে একত্রিত হওয়া বর্তমানের এই লক্ষ্যহীন ও উচ্ছৃঙ্খল জনতা বা সস্তা স্লোগানধারীদের মাঝে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এরা না পেরেছে ইসলামের সাহায্যে এগিয়ে আসতে, আর না পেরেছে এই অন্তঃসারশূন্য ভ্রান্ত স্লোগানগুলোকে চূর্ণ করতে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
গোত্রীয় দলপ্রীতির বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা
আরব উপদ্বীপের গোত্রগুলোর জীবনযাত্রার মূল ভিত্তি ছিল ‘আছাবিয়্যাহ’ বা গোত্রীয় অন্ধ সংহতির উত্তাল প্রবাহ। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের নির্দেশে এই রূঢ় বাস্তবতাকে মোকাবিলা করেন এবং সমাজকে ‘ইসলামের মমতা’ (رحم الإسلام), ‘ঈমানী ভ্রাতৃত্ব’ (أخوة الإيمان) ও ‘তাক্বওয়ার বাণী’ (كلمة التقوى)-এর দিকে ধাবিত করার মাধ্যমে এক আমূল পরিবর্তন আনেন। এই লক্ষ্য অর্জনে কুরআনে বহু আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
‘হে মানব-সকল! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে (অধিকার) চেয়ে থাক। আর ভয় করো রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক’ (আন-নিসা, ৪/১)।
তিনি আরও বলেন,
شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ
‘তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন, যার আদেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি আপনার প্রতি অহী করেছি এবং এবং ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম, তা হলো, তোমরা দ্বীন ক্বায়েম করো এবং এতে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আপনি মুশরিকদেরকে যেদিকে আহবান করছেন, তা তাদের কাছে কঠিন মনে হয়’ (আশ-শূরা, ৪২/১৩)।
তিনি আরও বলেন,
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাক্বওয়াবান’ (আল-হুজুরাত, ৪৯/১৩)।
ইসলামের পতাকাতলে এই ঐক্যের রূপান্তরের মাধ্যমেই ‘ওয়ালা ও বারা’ (কার সাথে বন্ধুত্ব হবে আর কার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হবে, সেই আক্বীদা) নির্ধারিত হয়। একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী অনুমোদিত নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের অধীনে এই ঐক্য গড়ে ওঠে, যার উপর বায়‘আত বা আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করা হয় এবং শ্রবণ ও আনুগত্যের মাধ্যমে তার প্রতি অনুগত থাকা হয়। ফলে কোনো মুসলিম ব্যক্তির পক্ষেই এমন অবস্থায় রাত কাটানো বৈধ নয় যে, তার ঘাড়ে এই আনুগত্যের বায়‘আতের কোনো অঙ্গীকার নেই।
এর কারণেই সেই প্রাচীন গোত্রীয় অন্ধ সংহতির বন্ধনগুলোতে ফাটল ধরে ও তা বিলীন হয়ে যায় এবং নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্ধ করে দেন গোত্রীয় অন্ধ সংহতির সব পথ। বাকী রয়ে যায় শুধু তাওহীদের পতাকা-এর সুদৃঢ় বন্ধন, যার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে ‘ওয়ালা ও বারা’ (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বন্ধুত্ব ও শত্রুতা), সহযোগিতা এবং ভ্রাতৃত্ব। আর একারণেই যখন জনৈক ছাহাবী বানূ মুছতালিকের যুদ্ধে ডাক দিলেন, ‘হে মুহাজিরগণ!’ এবং অন্যজন বললেন, ‘হে আনছারগণ!’, তখন নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চৈঃস্বরে তাঁদেরকে সম্বোধন করে বললেন,أَبِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ وَأَنَا بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ؟ دَعُوهَا، فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ ‘তোমরা কি জাহেলিয়াতের ডাক দিচ্ছ? অথচ আমি তোমাদের মাঝেই উপস্থিত রয়েছি! এসব ত্যাগ করো, কারণ এগুলো অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত (বর্জনীয়)’।[1]
এভাবে যখনই দলপ্রীতি বা গোত্রপ্রীতির কোনো বহিঃপ্রকাশ ঘটত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনই তা কঠোরভাবে দমন করতেন। আর এ নীতির উপরই তিনি মহান রফীকের (আল্লাহর) সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত অবিচল ছিলেন। সুতরাং প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য হলো দলপ্রীতি ও উপদলীয় কোন্দলমুক্ত হয়ে পূর্ণ ইসলামকে ধারণ করা এবং সকল মুসলিমকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আগলে রাখা।
বাগদাদী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর সময় মুসলিমগণ দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় একই মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিলেন; কেবল তারা ছাড়া, যারা প্রকাশ্য আনুগত্য করলেও অন্তরে কপটতা লুকিয়ে রেখেছিল’।[2]
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে কোনো দলাদলি ছিল না
নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর মুসলিমদের ইমাম এবং রব্বুল আলামীনের রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। যাতে তাঁর হাতে সাধারণ বায়‘আত (আনুগত্যের শপথ) অনুষ্ঠিত হতে পারে, যা হবে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী; যার মাধ্যমে ইসলামের বিধানসমূহ বাস্তবায়িত হবে এবং মুসলিমদের মর্যাদা ও জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংরক্ষিত হবে। এই উদ্দেশ্যে আনছার ও মুহাজিরগণের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ‘সাক্বীফা বানী সা‘এদা’-তে (سَقِيفَة بَنِي سَاعِدَةَ) একত্রিত হয়েছিলেন। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট দলীল ও নির্দেশনা থাকায় আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে মুসলিমদের খলীফা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল- যদিও হাশেমী বংশের কিছু সদস্য, আউস ও খাযরাজ গোত্রের কেউ কেউ এবং কিছু মুহাজিরদের পক্ষ থেকে শুরুতে কিছু কথা এসেছিল, কিন্তু দলীলের সামনে সেগুলো দ্রুতই বিলীন হয়ে গিয়েছিল এবং আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে সর্বসম্মতিক্রমে বায়‘আত সম্পন্ন হয়েছিল।
ছাহাবীগণের আদর্শই ছিল এমন, তাঁরা আল্লাহর বাণী এবং রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সামনে নিজেদের সঁপে দিতেন। ফলে সকলেই আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর অনুগত হলেন, উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ় হলো, বিশৃঙ্খলা থেমে গেল এবং ঈমানের আলোতে অন্তরসমূহ প্রশান্ত হলো।
এভাবেই তাঁর খিলাফতকাল অতিবাহিত হয়েছিল; কেবল রিদ্দার যুদ্ধ ব্যতিরেকে, যেখানে আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু বিদ্রোহীদের দমন করেছিলেন। ফলে উম্মাহর ঐক্য পুনরায় ফিরে আসে এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে ফিরে আসতে শুরু করে। ইসলামের ইতিহাসে যখনই তাঁর নাম স্মরণ করা হয়, তখনই এটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে রাযিয়াল্লাহু আনহু।
অতঃপর তিনি খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করেন উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর ওপর। তাঁর জন্য পথ আগে থেকেই সুগম ছিল। ফলে তাঁর শাসনামলে ইসলাম যে অভাবনীয় মর্যাদা ও শক্তি প্রত্যক্ষ করেছিল, তা ছিল বিস্ময়কর।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ
মুসলিম জামা‘আত থেকে বিভিন্ন দল বা ফেরকার বিচ্ছিন্ন হওয়া
পরিস্থিতি এভাবেই সুশৃঙ্খল ছিল, যতক্ষণ না ২৩ হিজরীতে আমীরুল মুমিনীন উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর শাহাদাতের মাধ্যমে ফিতনার দ্বার উন্মোচিত হলো। তিনি জনৈক নিষ্ঠুর পাপাচারী অগ্নিপূজকের হাতে শহীদ হন, যার অন্তরে দ্বীনের প্রতি সামান্যতম মমতা ছিল না।
অতঃপর আল্লাহ মুসলিমদের প্রতি দয়া করলেন এবং পরবর্তী আমীরুল মুমিনীন হিসেবে খলীফায়ে রাশেদ উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাতে বায়‘আত সম্পন্ন হলো। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী দুই সঙ্গী আবূ বকর ও উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর আদর্শ ও কর্মপন্থা অনুযায়ীই পরিচালিত হতে লাগলেন। কিন্তু সেই নিষ্ঠুর পাপাচারী অগ্নিপূজকের চক্রান্ত নির্মল জীবনযাত্রাকে কলুষিত করে তুলল এবং বিশৃঙ্খলা ও দাঙ্গাহাঙ্গামার দ্বার খুলে গেল। সেসব গোপন দাওয়াত সক্রিয় হয়ে উঠল, যারা প্রকাশ্যে ঐক্যের কথা বললেও অন্তরে কপটতা লালন করত। আর এই চক্রান্তের মূল হোতা ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা নামক সেই ইয়াহূদী, যে নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিত। আল্লাহর এই শত্রু উছমান ইবনে আফফান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বিরুদ্ধে আলী ইবনে আবূ তালেব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর পক্ষ নেওয়ার ভান করে ফিতনা উস্কে দিতে সচেষ্ট হলো। অথচ প্রকৃতপক্ষে সে চেয়েছিল উম্মাহকে পূর্ববর্তী দুই খলীফার (আবূ বকর ও উমারের) বিরুদ্ধে বিদ্রোহী করে তুলতে, এমনকি তাদের ইসলাম থেকেই বিচ্যুত করতে। এভাবেই সে (ইবনে সাবা) ফিতনার আগুন প্রজ্বলিত করতে থাকে, মানুষের কানে কানে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকে এবং তার অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে। আল্লাহর এই শত্রু জমিনে ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিতে লিপ্ত থাকে, যতক্ষণ না ৩৫ হিজরীতে আমীরুল মুমিনীন উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর শাহাদাতের মাধ্যমে তার সেই নিকৃষ্ট উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়। উছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত ধৈর্যসহ আল্লাহর কাছে ছওয়াবের আশায় শহীদী মৃত্যুবরণ করেন। তবে খলীফায়ে রাশেদ আলী ইবনে আবূ তালেব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাতে পূর্ণ বায়‘আত গ্রহণের মাধ্যমে সেই ফাটল কিছুটা প্রশমিত হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি (আলী ইবনে আবূ তালেব রাযিয়াল্লাহু আনহু) উম্মাহর মাঝে দুটি উপদলে বিভক্ত হওয়ার মতো একটি দলীয় অনৈক্যের সম্মুখীন হন।
এভাবেই উম্মাহ এক সংঘাতের মাঝে পড়ে যায়, যাতে ছিফফীন ও জামালের যুদ্ধের চাকা ঘুরতে থাকে। আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু সেই উত্তপ্ত ও সংকটময় পরিস্থিতির মাঝে সময় অতিবাহিত করতে থাকেন, যতক্ষণ না ৪০ হিজরীর শুরুতে তিনি নির্যাতিত অবস্থায় শহীদ হন। অতঃপর হাসান ইবনে আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু মুসলিমদের রক্তক্ষয় রোধ এবং উম্মাহর ঐক্য পুনরায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে খিলাফত ছেড়ে দিলে মুআবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাতে বায়‘আত সম্পন্ন হয়।
এভাবেই খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং মুসলিমদের সাধারণ শাসনভার বানী উমাইয়ার অধীনে চলে যায়।
অতঃপর বিভিন্ন দল, জামা‘আত এবং গোষ্ঠীগুলো ভিন্ন ধারায় নিজেদের আক্বীদাগত মতবাদ ছড়িয়ে দিতে শুরু করে, যা মূলত চারটি প্রধান উপাধির অধীনে বিকশিত হয়:
ক. ক্বাদারিয়্যাহ।
খ. শী‘আ।
গ. খাওয়ারিজ।
ঘ. মুরজিআহ।
পরবর্তীতে এগুলোও আবার অনেক শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং একই চিন্তাধারার মাঝেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সংঘাত চলতে থাকে। এই বিভক্তি ও মতপার্থক্য ছিল মূলত মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুঅতেরই এক জীবন্ত প্রমাণ। কারণ তিনি বলেছিলেন,
إِنَّ أَهْلَ الْكِتَابَيْنِ افْتَرَقُوا فِي دِينِهِمْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَإِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً - يَعْنِي: الْأَهْوَاءَ -، كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً، وَهِيَ الْجَمَاعَةُ، وَإِنَّهُ سَيَخْرُجُ فِي أُمَّتِي أَقْوَامٌ تَجَارَى بِهِمْ تِلْكَ الْأَهْوَاءُ كَمَا يَتَجَارَى الْكَلْبُ بِصَاحِبِهِ، لَا يَبْقَى مِنْهُ عِرْقٌ وَلَا مَفْصِلٌ إِلَّا دَخَلَهُ
‘নিশ্চয়ই দুই কিতাবধারীরা (ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টান) তাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে ৭২ ফেরকায় বিভক্ত হয়েছে। আর নিশ্চয়ই এই উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে, অর্থাৎ প্রবৃত্তির অনুসারী দল—যাদের একটি ছাড়া বাকি সবাই জাহান্নামী। আর সেই (নাজাতপ্রাপ্ত) দলটি হলো জামা‘আত। অচিরেই আমার উম্মতের মাঝে এমন কিছু সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে, যাদের মাঝে ঐসব প্রবৃত্তি (ভ্রান্ত মতবাদ) এমনভাবে মিশে যাবে, যেমনটি জলাতঙ্ক রোগীর রক্তে ও রগে রগে বিষ মিশে যায়’ (মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাঊদ ও হাকেম)।
এই বিভক্তি বা দলগুলোর প্রতিটিই মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য একেকটি কাঁটাস্বরূপ, যা রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে, সংহতি বিনষ্ট করে এবং ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। যারা যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্ম, মতবাদ এবং ফেরকার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেছেন, তারা দেখেছেন যে, এই অনৈক্য মূলত কিছু মৌলিক নীতি উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত। ইমাম শাতিবী রাহিমাহুল্লাহ ‘আল-ইতিছাম’ (১/১৭-১৮) গ্রন্থে বলেছেন,
‘ইসলামের প্রসার এবং এর সঠিক পথ নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায়, তাঁর মৃত্যুর পর এবং ছাহাবীগণের যুগের অধিকাংশ সময় পর্যন্ত একদম সোজা ও অবিচল ছিল। অবশেষে তাদের মাঝে সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত কিছু দলের উদ্ভব ঘটল এবং তারা পথভ্রষ্ট বিদ‘আতের দিকে ঝুঁকে পড়ল— যেমন ক্বাদারিয়্যাহ ও খারেজীদের বিদ‘আত। যাদের সম্পর্কে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে বলেছিলেন,يَقْتُلُونَ أَهْلَ الإِسْلاَمِ وَيَدَعُونَ أَهْلَ الأَوْثَانِ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ ‘তারা ইসলামের অনুসারীদের হত্যা করবে এবং মূর্তিপূজারিদের ছেড়ে দেবে; তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালি অতিক্রম করবে না’। অর্থাৎ তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করবে না এবং সে অনুযায়ী আমলও করবে না।
এরপর সত্যবাদী নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘোষণা অনুযায়ী এই দলগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতেই থাকল। তিনি বলেছেন, افْتَرَقَتِ اليَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ أَوْ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، وَالنَّصَارَى مِثْلَ ذَلِكَ، وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً ‘ইয়াহূদীরা ৭১ ফেরকায় এবং খ্রিষ্টানরা ৭২ ফেরকায় বিভক্ত হয়েছিল; আর আমার উম্মত ৭৩ ফেরকায় বিভক্ত হবে’। অন্য এক হাদীছে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ، شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ، حَتَّى لَوْ دَخَلُوا فِي جُحْرِ ضَبٍّ لَاتَّبَعْتُمُوهُمْ ‘তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত বিঘত এবং হাত হাত (পুরোপুরিভাবে) অনুসরণ করবে; এমনকি তারা যদি কোনো সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবুও তোমরা তাদের অনুকরণ করবে’। আমরা (ছাহাবীগণ) জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের কথা বোঝাচ্ছেন?’ তিনি বললেন,فَمَنْ ‘তবে আর কার কথা?’
দ্বিতীয় হাদীছটির বিষয়টি প্রথমটির চেয়ে অধিক ব্যাপক; কারণ প্রথম বিষয়টি কেবল প্রবৃত্তির অনুসারীদের একটি বিশেষ অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর দ্বিতীয় বিষয়টি সকল বিরোধিতার ক্ষেত্রে সাধারণ; যার প্রমাণ নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর এই অংশ— ‘এমনকি তারা যদি কোনো সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবুও তোমরা তাদের অনুকরণ করবে’ (বুখারী ও মুসলিম)।
সত্যের বিরুদ্ধাচারী বা ভুল পথের অনুসারী প্রত্যেক ব্যক্তির স্বভাবই হলো অন্যদের সেদিকে আহ্বান জানানো। সে কেবল তাকে জিজ্ঞাসাকারীদেরই নয়, বরং অন্যদেরকেও এর প্রতি উৎসাহিত করে। কেননা কর্ম ও আদর্শের ক্ষেত্রে অন্যের অনুকরণ করা মানুষের মজ্জাগত বা সহজাত স্বভাব। আর এই অনুকরণপ্রবৃত্তির কারণেই বিরোধীদের মাঝে সৃষ্টি হয় বিভেদ এবং অনুসারীদের মাঝে তৈরি হয় সখ্যতা। আর এখান থেকেই ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষের উৎপত্তি ঘটে।
ইসলাম তার প্রারম্ভে এবং সজীবতার যুগে ছিল প্রবল ও বিজয়ী। তার অনুসারীরা ছিল সংখ্যাগুরু এবং শ্রেষ্ঠ। প্রচুর অনুসারী ও সাহায্যকারী থাকায় তখন ইসলামে কোনো ‘একাকিত্ব বা অপরিচিত অবস্থা’ (الْغُرْبَة) ছিল না। ফলে যারা ইসলামের পথে চলত না, কিংবা যারা এ পথে চলত, কিন্তু বিদ‘আত করত, তাদের এমন কোনো প্রতাপ বা শক্তি ছিল না, যা আল্লাহর সফল দলকে দুর্বল করে দিতে পারে। তখন ইসলাম সঠিক পথে একতা ও শৃঙ্খলার সাথে চলছিল আর বিচ্যুতরা ছিল পরাজিত ও কোণঠাসা।
পরবর্তীতে ওয়াদা অনুযায়ী মুসলিমদের সেই ঐক্য অনৈক্যে রূপ নিতে শুরু করল এবং সম্ভাব্য দুর্বলতা দেখা দিল। ফলে বিচ্যুতদের প্রভাব বাড়তে লাগল এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকল। আর মানুষের স্বভাবজাত অনুকরণপ্রবৃত্তির কারণে তারা একে অন্যের সঙ্গে মিলে যেতে চাইল (যেহেতু অধিকাংশ মানুষ বিজয়ীরই অনুকরণ করে)। এভাবেই সুন্নাহর অনুসারীদের ওপর বিদ‘আত ও কুপ্রবৃত্তি জেঁকে বসল এবং অধিকাংশই বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল। সৃষ্টিজগতে এটিই আল্লাহর নীতি যে, বাতিলপন্থিদের তুলনায় সত্যপন্থিরা সংখ্যায় অল্প হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন,وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ ‘আপনি চাইলেও অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনবে না’ (ইউসুফ, ১২/১০৩)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ ‘আর আমার বান্দাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ’ (সাবা, ৩৪/১৩)।
অচিরেই আল্লাহ তাঁর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন আর তা হলো— ইসলাম পুনরায় ‘গুরবাহ’ বা অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে। আর এই ‘গুরবাহ’ বা অপরিচিত অবস্থা তখনই হবে, যখন হক্বের অনুসারীরা সংখ্যায় কমে যাবে অথবা তারা বিলীন হয়ে যাবে। আর সেই অবস্থা তখনই হবে, যখন ভালো কাজকে মন্দ এবং মন্দ কাজকে ভালো হিসেবে দেখা হবে। যখন সুন্নাহ পরিণত হবে বিদ‘আতে আর বিদ‘আত পরিণত হবে সুন্নায়। ফলে আহলুস সুন্নাহর ওপর তিরস্কার ও কঠোরতা আরোপ করা হবে; ঠিক যেমনটি শুরুতে (ইসলামের প্রাথমিক যুগে) বিদ‘আতীদের ওপর করা হতো। তবে আল্লাহ তাআলা ক্বিয়ামত পর্যন্ত গোমরাহি বা ভ্রষ্টতাকে একত্রিত হতে দেবেন না। তাই সকল ফেরকা —তাদের আধিক্য সত্ত্বেও— সুন্নাহর বিরোধিতার ওপর সাধারণত বা ঐতিহাসিকভাবে কখনো একমত হতে পারে না। বরং আল্লাহর নির্দেশ (ক্বিয়ামত) আসা পর্যন্ত অবশ্যই ‘আহলুস সুন্নাহ’র জামা‘আতটি সত্যের ওপর অটল থাকবে। তবে ভ্রান্ত ফেরকাগুলো তাদের সাথে প্রচুর বাদানুবাদ করবে এবং তাদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করবে— মূলত নিজেদের মতাদর্শের সাথে তাদের মিলিয়ে নেওয়ার জন্য। ফলে এই হক্বপন্থি দলটি দিবা-রাত্রি জিহাদ, বিতর্ক ও প্রতিরোধের মাঝেই অতিবাহিত করবে। আর একারণেই আল্লাহ তাদের জন্য প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দিবেন এবং মহান ছওয়াব দান করবেন (ইমাম শাতিবী রাহিমাহুল্লাহ-এর বক্তব্য সমাপ্ত)।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে এমন একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা অপরিহার্য, যা বিভিন্ন দল-উপদল সম্পর্কে সেগুলোর সামগ্রিক রূপরেখা এবং সময়ক্রমিক সম্পর্কের বিষয়ে একটি ধারণা প্রদান করবে। কারণ এই সময়ক্রমের একটি বিপরীত তাৎপর্য রয়েছে। এই দলগুলোর আত্মপ্রকাশ হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষার্ধের আগে শুরু হয়নি। এর মাধ্যমেই ‘বিজয়ী দল’ (আত-তায়েফাতুল মানছূরাহ)-এর সেই গভীর ও অবিচ্ছিন্ন ধারার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যারা রিসালাতের উষালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাদের আদর্শ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্ছিন্ন হয়নি। অতএব, এখন আমরা পঞ্চম অনুচ্ছেদের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
(ইনশা-আল্লাহ! চলবে)
মূল: ড. বাকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবূ যায়েদ
পরিমার্জন: সা‘দ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হুছায়্যিন
অনুবাদ: আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী*
* বিএ (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এমএ এবং এমফিল, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব;
অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
[1]. বুখারী ও মুসলিম, হাদীছটি জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; দেখুন: ইক্বতিযাউছ ছিরাতিল মুস্তাক্বীম, পৃ. ৭০-৭২।
[2]. আল-ফারকু বায়নাল ফিরাক, পৃ. ১২।
