উত্তর : কুরবানী একটি ঐতিহাসিক সুন্নাত এবং ইসলামের অন্যতম নিদর্শন। ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)-এর জীবনের ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে কুরবানীর বিধান চালু হয়। ইসলামী শরী‘আতে এর গুরুত্ব অনেক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কুরবানীর পশুর গোশত বা রক্ত আল্লাহ্র নিকটে পৌঁছে না। বরং তাঁর নিকটে পৌঁছে কেবলমাত্র তোমাদের ‘তাক্বওয়া’ বা আল্লাহভীতি’ (হজ্জ, ৩৭)। তিনি অন্যত্র বলেন, ‘অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ছালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর’ (সূরা কাওছার, ২)। মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘আর যে আল্লাহর নিদর্শনাবলীর সম্মান করল, তা মূলত অন্তরের তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতির পরিচায়ক’ (সূরা হজ্জ, ৩২)। এর গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে’ (ইবনু মাজাহ, হা/৩১২৩; ছহীহুল জামে‘, হা/৬৪৯০)। কুরবানীর সুনির্দিষ্ট ফযীলত সম্পর্কে ছহীহ কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। যেগুলো এসেছে, তার সবগুলোই যঈফ বা দুর্বল (তুহফাতুল আহওয়াযী, ৫/৬৩; মির‘আতুল মাফাতীহ্, ৫/১০৪)। কুরবানী কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হল, নিয়ত পরিশুদ্ধ থাকা। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে হালাল উপার্জন হওয়া। এছাড়া রোগা, কৃশকায়, জীর্ণ-শীর্ণ, কানা, অন্ধ, ল্যাংড়া ইত্যাদি ত্রুটির যে সকল বিষয় ছহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, তা থেকে মুক্ত থাকলে কুরবানী কবুল হবে ইনশাআল্লাহ ।
-আবু সাঈদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
