সৃষ্টির শুরু করে আজ পর্যন্ত সত্য ও মিথ্যার সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যেক যুগে বিরোধী পক্ষ ও শত্রুরা অনিষ্ট ছড়িয়েছে। প্রতিটি জাতি ও সম্প্রদায়ে এমন অদূরদর্শী ব্যক্তির জন্ম হয়েছে, যারা সত্যের প্রচার ও কল্যাণের বিজয়ের সাথে জন্মগত শত্রুতা পোষণ করে। তবে বর্তমান সময়ে যে ফেতনা ও বিশৃঙ্খলা ব্যাপকতা লাভ করেছে, এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র এবং ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিমদের প্রতি চিরন্তন শত্রুতা ও ঘৃণার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। সম্ভবত এটি সেই মানসিক, চিন্তাগত ও ব্যবহারিক ধর্মত্যাগ, যা প্রথমে মানুষের বাহ্যিক স্বভাবকে প্রভাবিত করে এবং তার অন্তর থেকে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ কেড়ে নেয়। সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, এটি এমন একটি ধর্মত্যাগ, যার (প্রতিহত করার) জন্য কোনো আবূ বকর নেই। আমরা বুঝতেই পারছি না যে, আমরা একটি স্পষ্ট চিন্তাগত, সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধর্মত্যাগের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়েছি, যেখান থেকে ফিরে আসার পথ অনেক দূরে চলে গেছে এবং সবাই এটিকে অবহেলা করছে। যদি আমরা এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি, তাহলে বুঝতে পারব যে, আমাদের মধ্যে সকাল-সন্ধ্যায় পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে। বিশ্বের সকল ধর্মেই পশ্চিমা নাস্তিকতা ও ধর্মহীনতার ঢেউ লক্ষ করা যায়। এমনকি ধর্মের প্রভাব মানুষের মধ্যে শুধু নামেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে, বাকি সব রীতিনীতি, ইবাদত, নৈতিকতা ও সামাজিকতা পশ্চিমা সভ্যতার কাছে বলি হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের সমাজের এলিট শ্রেণি পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাও এই শ্রেণির হাতে রয়েছে, যার কারণে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ পশ্চিমা (ইউরোপীয়) সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ছে। এই প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। যদি এই ধর্মত্যাগের দিকে অবিলম্বে মনোযোগ না দেওয়া হয় এবং যদি এটি এভাবেই চলতে দেওয়া হয়, তবে খুব শীঘ্রই অধিকাংশ মানুষের ইসলামের প্রতি আবেগপ্রবণতা ও আকর্ষণ শেষ হয়ে যাবে।
পশ্চিমা সভ্যতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নাম নয়, যা ইলাহী প্রদত্ত শিক্ষার দাবি করে। বরং পশ্চিমা সভ্যতা বা পশ্চিমা চিন্তা ও দর্শন হলো এমন একটি চিন্তা ও বিশ্বাসের নাম, যা প্রত্যেককে তাদের নিজস্ব ধর্ম অনুসরণ করার অনুমতি দেয় ব্যক্তিগত জীবনে; কিন্তু বিশেষ চিন্তাধারা, আক্বীদা-বিশ্বাস এবং অহীভিত্তিক শিক্ষাকে গ্রহণ করে না। কারণ পশ্চিমা দৃষ্টিকোণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যক্তি স্বাধীনতা, এক্ষেত্রে পৃথিবীতে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, আনন্দ ও প্রীতি তার অধিকার। সে তার কাজের জন্য অন্য কারো কাছে জবাবদিহি করে না। তাই বস্তুবাদ (Materialism), অর্থপূজা (Money-Worship) ও সম্পদের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
পশ্চিমা সভ্যতার ভিত্তি:
পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতি তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল— (১) স্বাধীনতা, (২) সমতা ও (৩) উন্নতি। এই তিনটি বিষয়ের উন্নতিকে পথচলার সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর প্রতি সমর্থন করা হয় এবং এগুলোর উপর জোর দেওয়া হয়। আর যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই পথে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তা আইন বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দূর করা হয়। এই তিনটি বিষয়কে মাথায় রেখে পশ্চিমা বিশ্ব একটি সার্বজনীন আইন প্রণয়ন করেছে, যার নাম ‘মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র’। এই ঘোষণাপত্রের প্রতি সকল দেশকে বাধ্য করা হয়েছে এবং প্রতিটি দেশের জন্য এটি মেনে চলা অপরিহার্য।[1]
ইসলামী সভ্যতা ও পশ্চিমা সভ্যতার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য:
(১) ইসলামে সর্বোচ্চ কর্তৃত্বের অধিকারী হলেন আল্লাহ তাআলা। কোনটি সঠিক ও কোনটি ভুল এবং কোনটি হালাল ও কোনটি হারাম— এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার নির্দেশই চূড়ান্ত। ব্যক্তি স্বয়ং কোনো কিছুকে হারাম বা হালাল ঘোষণা করার স্বাধীনতা রাখে না। যেমন- ব্যভিচার হারাম নাকি হালাল? সূদ নেওয়া-দেওয়া হালাল নাকি হারাম— এসব নির্ধারণ করবেন একমাত্র আল্লাহ তাআলা। অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্ব সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব মানুষের হাতে তুলে দেয়। তাদের মতে, সবকিছুর কর্তৃত্ব মানুষের হাতে রয়েছে। মানুষ যা সঠিক বলে ঘোষণা করবে, তা সঠিক আর যা ভুল বলে ঘোষণা করবে, তা ভুল। সঠিক ও ভুলের মাপকাঠি মানুষের যুক্তি ও বুদ্ধির উপর নির্ভরশীল। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন। যেমন- ব্যভিচার করা সঠিক নাকি ভুল? সমকামিতা মানুষের অধিকার নাকি নিকৃষ্টতম কাজ? সূদ নেওয়া জায়েয নাকি হারাম? এসব সিদ্ধান্ত মানুষের যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে নির্ধারণ করা হবে।
(২) ইসলামের পথনির্দেশনা দেওয়া হয় মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীআতের মাধ্যমে, অন্যদিকে পশ্চিমা দর্শন ও চিন্তাধারায় পথনির্দেশনার জন্য নবী-রাসূল বা কোনো ইলাহী গ্রন্থের প্রয়োজন নেই; বরং এতে মানুষ কেবল নিজের বুদ্ধি ও যুক্তির অনুসরণ করে।
(৩) ইসলামের আইন শরীআত থেকে গৃহীত হয়, অন্যদিকে পশ্চিমা মতাদর্শ ও তাদের সভ্যতা-সংস্কৃতি অনুযায়ী আইন তৈরি করে মানুষের নির্বাচিত একটি দল তথা পার্লামেন্ট।
(৪) ইসলামী দৃষ্টিকোণে আল্লাহ সম্পর্কে ধারণা হলো, আল্লাহ এক, তিনি চিরন্তন এবং চিরকাল থাকবেন। মুসলিমরা এই এক স্রষ্টা ও মালিকের অনুগত, যিনি মানুষ ও সমগ্র বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। অন্যদিকে পশ্চিমা সভ্যতা আল্লাহ ও ধর্মকে অস্বীকারের পরে বস্তুকে তাদের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাদের মতে, বস্তু চিরন্তন, চিরকাল থাকবে এবং তারা তাদের বুদ্ধি ও চেতনার ভিত্তিতে বস্তু সৃষ্টি করে।
(৫) ইসলামী সভ্যতায় জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব হলো অহী। অহীর তুলনায় মানুষের সৃষ্ট কোনো জ্ঞানই শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে না। অন্যদিকে পশ্চিমা সভ্যতায় বুদ্ধি ও যুক্তিকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়। এই কারণে তারা জান্নাত ও জাহান্নামের অস্তিত্ব অস্বীকার করে, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে মিথ্যা বলে এবং প্রতিদান, শাস্তি ও অনুরূপ অন্যান্য বিশ্বাসকে সরাসরি অস্বীকার করে। এই কারণেই পশ্চিমারা কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নয়, কারণ ধর্মকে যুক্তি ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে প্রমাণ করা যায় না; বরং ঈমান ও বিশ্বাসের বিষয় শুধু অহীর জ্ঞানের মাধ্যমেই বুঝা যায়।
(৬) ইসলামে ইবাদতের উদ্দেশ্য এবং মানুষের প্রচেষ্টার ফলাফল হলো মুসলিমদের জন্য আখেরাতে সাফল্য এবং জান্নাত লাভ করা। অন্যদিকে পশ্চিমা সভ্যতা শুধু বস্তুগত উন্নতিকে সাফল্য হিসেবে মনে করে। যে ব্যক্তি পৃথিবীতে যত বেশি বস্তুগত উন্নতি করেছে, তাকে সবচেয়ে সফল মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ধারণা এতটাই সাধারণ হয়ে গেছে যে, আজ সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি শিক্ষিতরাও ধনসম্পদ এবং বৈশ্বিক উন্নতিকে সাফল্য হিসেবে মনে করে বসে আছে।
(৭) ইসলামী সভ্যতায় মানুষকে পৃথিবীতে আল্লাহর খলীফা বা তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টির সেরা ও সর্বশ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, এমনকি একজন মুমিন-মুসলিমের মর্যাদাকে কা‘বাঘরের মর্যাদার চেয়েও বেশি বলা হয়েছে।[2] অন্যদিকে পশ্চিমা সভ্যতা মানুষকে কখনও প্রাণীর চেয়ে বেশি মর্যাদা দেয়নি।
পশ্চিমা সভ্যতা অনুযায়ী, রাজনীতির ক্ষেত্রে মানুষ একটি রাজনৈতিক প্রাণী, অর্থনীতিতে একটি অর্থনৈতিক প্রাণী, মনোবিজ্ঞানে মানুষ কিছু নির্দিষ্ট প্রবৃত্তির সমষ্টি এবং জীববিজ্ঞানে মানুষ শুধু একটি জৈবিক অস্তিত্ব। এই সভ্যতা মানুষকে বস্তুবাদ থেকে উপরে উঠতে দেয়নি এবং এই দৃষ্টিভঙ্গির ত্রুটির কারণে সমগ্র মানবজাতি বস্তুবাদের আগুনে পুড়ছে।
এই মৌলিক পার্থক্যগুলোই ইসলামী বনাম পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে বুঝতে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা সভ্যতা ও সংস্কৃতির শব্দগুলোকে খুবই অগভীর অর্থে ব্যবহার করি। পশ্চিমা সভ্যতা বলতে আমরা শুধু প্যান্ট-শার্ট, টাই পরা ও ক্লিন শেভ করা ইত্যাদিকেই বুঝি অথবা শুধু অশ্লীলতা ও নগ্নতার বহমান ধারাকেই পশ্চিমা সভ্যতা হিসেবে ধরে নিই। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে তা নয়। অবশ্যই সভ্যতাকে পোশাক, চালচলন, সাজসজ্জা দিয়েও বিচার করা যায়, কিন্তু সভ্যতার স্তর শুধু পোশাক এবং চালচলনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মৌলিক ভিত্তি ও আদর্শ রয়েছে, যা সঠিকভাবে বুঝলে তবেই এই সভ্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পশ্চিমা সভ্যতার হৃদয় ও দৃষ্টিভঙ্গির বিকৃতি:
পশ্চিমা বিশ্বে নাস্তিকতা, ধর্মহীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রসারিত করার জন্য এবং ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলিমবিদ্বেষের লক্ষ্যকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিপজ্জনক কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে—
(১) তারা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে অর্থের লোভ এবং চাকরির প্রস্তাব দিয়ে বিভিন্ন স্থানে খ্রিষ্টান মিশনারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে। এগুলোতে পশ্চিমারা এমন একটি পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে, যা শিক্ষার্থীদের ধর্ম থেকে বিরূপ করে তোলে এবং ধর্মহীনতাকে প্রাধান্য দেয়। যেখানে আধুনিক শিক্ষিত ব্যক্তিরা ধর্মের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা করে বলে যে, প্রথমে ধর্ম ছিল না, ধর্ম পরবর্তীতে সৃষ্টি হয়েছে, পরকাল বলে কিছু নেই, বাস্তব জগৎই আসল আর ধর্ম হলো একটি ব্যক্তিগত বিষয়, এতে বেশি মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা পশ্চিমা লোকদেরকে সভ্য এবং মুসলিমদেরকে অসভ্য হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। তারপর ধীরে ধীরে ইসলামী ধারণাগুলোকে পশ্চিমা ধারণার অধীন করে উপস্থাপন করা শুরু করে, অহীকে অস্বীকার করে এবং যুক্তি ও অভিজ্ঞতাকে সত্য ও সঠিকতার মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর তারা শিক্ষার্থীদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল করার চেষ্টা করে যে, ধর্ম বিশ্বের উন্নতির জন্য একটি বাধা, আলেম ও ধর্ম পালনকারীরা সবাই নিচু মানের মানুষ। তারা এই ধারণা উপস্থাপন করে যে, ইসলাম বর্তমান যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তাদের ন্যারেটিভ হলো যে, উন্নতির পুরো ভিত্তি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে।
(২) তাদের দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো দরিদ্রদের মধ্যে কল্যাণমূলক আর্থিক সাহায্য করা এবং তাদেরকে তাদের ধর্ম থেকে দূরে সরিয়ে মুরতাদ করা। শিক্ষাগত পশ্চাৎপদতা ও দারিদ্র্যের মধ্যে নিপতিত ব্যক্তিরা এর শিকার হয়েছে।
(৩) তাদের তৃতীয় পদ্ধতি ছিল মেধাবী মুসলিম ছাত্রদের উচ্চশিক্ষার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন- অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ইত্যাদিতে পাঠানো হবে। তারপর তাদের মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করা হবে এবং তাদেরকে শেখানো হবে যে, সূদ উন্নতির জন্য অপরিহার্য (নাঊযুবিল্লাহ), ছালাতের জন্য সময় বের করা সময় নষ্ট করার সমতুল্য (নাঊযুবিল্লাহ), যাকাত ও ট্যাক্স একই জিনিস। আরও শেখানো হবে যে, কুরবানী, হজ্জ ও উমরাতে ব্যয় করা অযথা অর্থ খরচ করার শামিল; বরং গরীব ও বিধবাদের সাহায্য করা অনেক ভালো। রাজনীতি ও ধর্মের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। ফ্যাশন সময়ের দাবি এবং পর্দা ও পোশাক ব্যবহারে নারীঅধিকার নিশ্চিত করা হবে, এতে কেউ তোমাকে বাধা দিতে পারবে না, এখন তোমরা স্বাধীন। অর্থাৎ তাদেরকে বিলাসিতা ও ভোগবাদের প্রতি অভ্যস্ত করে তোলা হবে। তারপর যখন তাদের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণভাবে প্রভাবিত হয়ে যাবে, তখন অর্থ ও সম্পদের মাধ্যমে দেশের নেতৃত্ব তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, তাদেরকে নিজেদের হাতিয়ার বানিয়ে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষার বিপরীতে কাজে লাগানো হবে।
(৪) পশ্চিমা সংস্কৃতি প্রচারে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে মিডিয়া, যার মাধ্যমে অশ্লীলতা, নগ্নতা ও ধর্মহীনতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন সব চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ধার্মিকদের উপহাস করা হয়েছে, সংগীত ও নাচকে আত্মার খাদ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা নৈতিকতা ধ্বংস এবং ধর্মহীনতা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
আশার আলো:
সংক্ষেপে বলতে গেলে শিক্ষার নামে ধর্মহীনতা, সংস্কৃতির নামে অশ্লীলতা এবং মিডিয়ার নামে উলঙ্গতা ছড়ানো হচ্ছে এবং আমাদের সকাল-সন্ধ্যা এতেই কাটছে। এখনও সময় আছে মুসলিমরা জাগ্রত হোক এবং বুঝে নিক যে, আসল ঠিকানা পরকাল; দুনিয়া নয়। প্রাধান্য যেন হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি, পদমর্যাদা নয় এবং লক্ষ্য হলো দ্বীন, দুনিয়া নয়। এখনও আশার আলো অবশিষ্ট আছে। আলী নদভীর ভাষায়, এই বৈশ্বিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য মুসলিম উম্মাহর বর্তমান ধ্বংসাত্মক অবস্থায় একটি মহান বিপ্লব সৃষ্টির জন্য দ্বীনের দাঈদের পশ্চিমা শিক্ষিত শ্রেণির দিকে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। কারণ এই শ্রেণির ভ্রষ্টতাই সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে মানসিক ধর্মত্যাগের ঝুঁকিতে ফেলেছে। মুসলিম দেশগুলোকে নিজস্ব ধর্মীয় সংস্কৃতির পরিবর্তে সম্পূর্ণ পশ্চিমা সংস্কৃতির দিকে ধাবিত করে দিয়েছে এবং জনগণকে বাকশক্তিহীন পশুপালের মতো অনৈসলামী নেতৃত্বের হাতে সোপর্দ করেছে। তাদের সংশোধনের মাধ্যমে পুনরায় এই দেশগুলোকে পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে ইসলামের দিকে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।[3]
যদি এই ধর্মহীনতা ও ধর্মত্যাগের ঢেউ থেকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে বাঁচাতে চান; তবে আল্লাহর জন্য পশ্চিমাদের এই ষড়যন্ত্রগুলো বুঝুন এবং তাদের চকচকে দুনিয়ার পথগুলো এড়িয়ে চলুন, যে পথে রয়েছে অপূরণীয় বিপদের পূর্বাভাস। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন- আমীন!
সৈয়দপুর, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।
[1]. তথ্যসূত্র: তাআরুফ তাহযীবে মাগরীব আওর ফালসাফায়ে জাদীদ।
[2]. তিরমিযী, হা/২০৩২, হাসান-ছহীহ।
[3]. তথ্যসূত্র: মাগরিবি মামালিক ম্যে ইসলামিয়্যাত অওর মাগরিবিয়্যত কী কাশমাকাশ।
