মার্কিন-ইসরাঈল বনাম ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল জ্বালানি বাজারের জন্যই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে একটি ভয়াবহ খাদ্যসংকটের প্রবল ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা একে তেলের ধাক্কার চেয়েও বড় বিপদ হিসেবে দেখছেন। ইরান এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল নাইট্রোজেন ও ফসফেট সারের একটি প্রধান উৎস। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ বা বিঘ্নিত হওয়ায় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া তৈরির উপকরণ সরবরাহ প্রায় থমকে গেছে। বর্তমানে উত্তর গোলার্ধে চাষাবাদের প্রধান মৌসুম চলছে। সারের তীব্র সংকট ও আকাশচুম্বী দামের কারণে ভারত, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশগুলোর কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। সময়মতো সার না পেলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহনের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্যপণ্যের মূল্যে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এটি বন্ধ হওয়ায় কৃষি যন্ত্রপাতির জ্বালানি এবং সার কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকটের প্রভাব সরাসরি সুপারমার্কেট বা কাঁচাবাজারে পড়তে শুরু করেছে। সারের অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চাল, গম ও অন্যান্য দানাদার শস্যের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষ সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
