কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা তুলে দিল ভারতের কেন্দ্র সরকার। একইসঙ্গে কাশ্মীরকে ভেঙে আলাদা করে দেয়া হল লাদাখকে। দু’টি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। দু’জায়গাতেই দু’জন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করা হবে। তবে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা বহাল থাকবে। কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীসহ একাধিক শীর্ষনেতা গৃহবন্দী। গ্রেফতারও হয়েছেন কেউ কেউ। উপত্যকায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। রাজ্যসভায় সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দেয়ার কথা ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা উচ্চৈঃস্বরে প্রতিবাদ জানান। কয়েক মিনিটের জন্য মুলতবি হয়ে যায় অধিবেশন। পরে ফের অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের হৈ-হট্টগোলের মধ্যেই প্রেসিডেন্টের নির্দেশনামা পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারার মাধ্যমে ভারতীয় আইনের বাইরে রেখে কাশ্মীরের এই মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছিল। অবশেষে ভারতের বিজেপি সরকার কর্তৃক লোকসভায় ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব পাস করিয়ে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাই শুধু নয়, কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান অধ্যুষিত অংশকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে এনে কাশ্মীরীদের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। অন্যদিকে মাত্র ৫ লাখ হিন্দু জনসংখ্যা অধ্যুষিত জম্মুকে আলাদা রাজ্যের মর্যাদা দেয়া হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত থেকে বিজেপি সরকারের হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক মনোভাবের পরিচয় আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। জনমত ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে পাশ কাটিয়ে কাশ্মীরের বিভক্তি ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ভারতীয় এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে পুরো কাশ্মীর উপত্যকা এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আরেকটি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আলামত দেখা দিয়েছে।
