উত্তর: ইসলামে সন্তান গ্রহণ বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যগুলোর একটি। নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক সন্তান জন্মদানে নারীকে বিবাহ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। মাকিল ইবনু ইয়াসার রাযিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বলল, আমি এক সুন্দরী ও মর্যাদাসম্পন্ন নারীর সন্ধান পেয়েছি, কিন্তু সে বন্ধ্যা। আমি কি তাকে বিয়ে করব? তিনি বললেন, ‘না’। অতঃপর লোকটি দ্বিতীয়বার এসেও তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে নিষেধ করলেন। লোকটি তৃতীয়বার তাঁর নিকট এলে তিনি তাকে বললেন, ‘এমন নারীকে বিয়ে করো, যে প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারী। কেননা আমি অন্যান্য উম্মতের কাছে তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে গর্ব করব’ (আবূ দাঊদ, হা/২০৫০)। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَاللهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجاً وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَنِينَ وَحَفَدَة. ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন। আর তোমাদের স্ত্রীদের থেকেই তোমাদের জন্য সন্তান-সন্ততি ও পৌত্র-পৌত্রি সৃষ্টি করেছেন’ (আন-নাহল, ১৬/৭২)। এই আয়াতের অর্থ এই যে, স্বামী-স্ত্রী যেন গভীর আন্তরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে মিলিত হতে পারে, যার ফলে বংশ বৃদ্ধি হয়। আর এটাই হচ্ছে বিয়ের মৌলিক উদ্দেশ্য। যদি স্ত্রী কোনো শারঈ বা বাস্তবসম্মত কারণ ছাড়াই স্থায়ীভাবে সন্তান নিতে অস্বীকৃতি জানায় আর স্বামী সন্তান কামনা করেন, তাহলে এ অবস্থায় পারস্পরিক সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তালাক দেওয়া যায়।
-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
