কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

জন্মদিন পালনের উৎপত্তি ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

post title will place here

পৌত্তলিকতা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, মূর্তিপূজা করা ও মূর্তির সাথে সম্পৃক্ত থাকা। ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসা প্রথা জন্মদিন উপলক্ষ্যে কেক কাটা এবং মোমবাতি প্রজ্বলন করা প্রাচীন পৌত্তলিক মূর্তিপূজার সাথে সম্পর্কিত। প্রাচীনকালে বিশ্বাস করা হতো যে, মোমবাতির আগুনের জাদুকরী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তারা প্রার্থনা করত এবং মোমবাতির শিখাকে দেবতাদের কাছে নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতো। এভাবে আমাদের সমাজে এখনোও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো এবং তারপর মোমবাতি জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। গ্রীকরা তাদের চাঁদের দেবী ‘আর্টেমিসের’ জন্মদিন উদযাপন করত কেক দিয়ে এবং আলোকিত মোমবাতি দিয়ে।

‘মিশরীয়রা আবিষ্কার করেছিল কোন দেবতার কাছে কোন মাস ও দিন পবিত্র এবং তার জীবনের পথে সে কীসের সাথে মিলিত হবে, তার দিনগুলো কীভাবে শেষ হবে এবং সে কেমন মানুষ হবে তা একজন মানুষের জন্মের দিন থেকে খুঁজে পাওয়া যায়’।[1]

যেহেতু এটি বিশ্বাস করা হয়েছিল যে, জন্মের সময় তারার অবস্থান একটি শিশুর ভবিষ্যতের সাথে যুক্ত, তাই জন্মের সময়ের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য জ্যোতিষশাস্ত্রীয় রাশিফল তৈরি হয়েছিল। ‘জন্মদিনগুলো নক্ষত্রের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত, যেহেতু ক্যালেন্ডার ছাড়া কেউ বলতে পারে না কখন তার জন্মদিন উদযাপন করবে। তারা অন্যভাবে নক্ষত্রের কাছেও ঋণী, কারণ নক্ষত্রের উপর নির্ভর করেই জন্মদিন নির্ধারণ করা হতো’।[2]

তাছাড়া, The lore of Birthday বইটির 8, 18-20 পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, গ্রীকরা বিশ্বাস করত যে প্রত্যেকেরই একটি প্রতিরক্ষামূলক আত্মা ছিল, যে তার জন্মে উপস্থিত হয়েছিল এবং তার জীবনকে পর্যবেক্ষণ করেছিল। যেই দিনে ব্যক্তিটি জন্মগ্রহণ করেছিল, ওই আত্মার সাথে দেবতার একটি রহস্যময় সম্পর্ক ছিল।

রোমানরাও এই বিশ্বাস লালন করেছিল। এই ধারণা মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে প্রবহমান ছিল এবং কেকের উপর মোমবাতি জ্বালানোর রীতির সূচনা গ্রীকদের দ্বারাই হয়েছিল।
আর্টেমিসের মন্দিরের বেদিতে চাঁদের মতো গোলাকার মধুর কেক আলোকসজ্জা দিয়ে আলোকিত করা হতো। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য জন্মদিনের মোমবাতিগুলো বিশেষ জাদু দ্বারা তৈরি করা হতো।

প্রাচীন গ্রীকরা বিশ্বাস করত যে, প্রতিটি ব্যক্তির একটি আত্মা আছে, যা তার জন্মে উপস্থিত হয় এবং নজর রাখে। সেই আত্মার সাথে ঈশ্বরের একটি রহস্যময় সম্পর্ক রয়েছে, যা তার জন্মের দিন থেকে বিদ্যমান।

এভাবে দেখা যাচ্ছে যে, পৌরাণিক কাহিনী, জাদু ও রাশিফলের জন্মদিনের উৎপত্তিতে সম্ভবত একটি ভূমিকা রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র জন্মদিনের সত্যিই বড় প্রবক্তা।
প্রাচীন রোমানরা উৎসাহের সাথে হেডোনিস্টিক পার্টি এবং উপহারের সাথে জন্মদিন উদযাপন করত।[3]

আমরা উক্ত পর্যালোচনা থেকে দেখতে পেলাম যে, জন্মদিনকে কেন্দ্র করে কেক কাটা, অনুষ্ঠান করা বা উপহার বিনিময় করার সাথে মুসলিমদের কোনো সম্পর্ক নেই।

সুতরাং পৌত্তলিকদের আবিষ্কৃত এই প্রথা মুসলিমরা উদযাপন করতে পারে না। আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لاَ تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلاَ بِالنَّصَارَى ‘সে আমার উম্মত নয়, যে অমুসলিমদের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখে। তোমরা ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য বজায় রেখো না’।[4] আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ‘যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’।[5]

আলোচ্য আলোচনা প্রমাণ করে যে, জন্মদিবস উদযাপন করা, কেক কাটা ইত্যাদি প্রথার সূত্রপাত ঘটে পৌত্তলিকদের থেকে। জন্মদিবসকে কেন্দ্র করে যে আচার-আনুষ্ঠানিকতা বিদ্যমান তা ইসলামী আদর্শের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। তাই শুধু জন্মদিন কিংবা অন্য কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কেক কাটা, মোমবাতি জ্বালানো বা আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন- আমীন!

আহমাদ বিন আব্দুস সালাম

চকবাজার, ঢাকা।


[1]. Herodotus, Persian Wars, Book ||, Ch 82.

[2]. Ralph and Adelin Linton, The lore of Birthday, p. 53.

[3]. Argetsinger K. ‘Birthday Rituals: Friends and Patrons in Roman Poetry and Cult.’ Classical Antiquity 11 (2), 1992: pp. 175–193.

[4]. তিরমিযী, হা/২৬৯৫, হাসান।

[5]. আবূ দাঊদ, হা/৪০৩১, হাসান।

Magazine