মুমিন বান্দাদের আল্লাহভীতি অর্জনের এক বে-মিছাল উপায়, আনন্দ-উল্লাস ও আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠার সেই মহতী ক্ষণ মাহে রামাযান। রামাযান রবের দরবারে উত্তম আমল পৌঁছানোর সর্বোত্তম মুহূর্ত, মালিকের প্রিয়ভাজন হওয়ার অসীম সম্ভাবনার হাতছানি, পাপরাশি থেকে মুক্ত হয়ে কলুষিত অন্তরকে স্বচ্ছ ও পবিত্র করার সুবর্ণ সুযোগ এবং রবের পক্ষ থেকে উম্মাহর জন্য হাদিয়াস্বরূপ। রামাযান সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জনের উপায়, যার পরতে পরতে নেকী লাভের অফুরন্ত পথ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। কুরআন তেলাওয়াত, ছালাত, দান-ছাদাক্বা, যিকির-আযকার, দু‘আ যা-ই করা হোক না কেন, তার সম্মানে ছওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রামাযানের প্রতিটি রজনি যেন এক নেকীর জোয়ার নিয়ে আমাদের কাছে আসে, তার মধ্যে অন্যতম এক রজনি আছে, যা হাজার মাস থেকেও শ্রেয়। রামাযানে দিনের বেলা অল্প কিছু কাজ থেকে বিরত থাকা জান্নাতে প্রবেশের পথ করে দেয়। রামাযানের মহান ক্ষণে বান্দার জন্য শয়তানকে অবরুদ্ধ করা হয়। রামাযানের ছিয়ামের সেই প্রতিদান শুধু আল্লাহ স্বহস্তে প্রদান করবেন।
স্বাগত! মাহে রামাযান:
হে মুমিন ও মুসলিম ভ্রাতৃমণ্ডলী! আমাদের শিরচ্ছায়ায় আগমন করেছে বরকত, রহমত ও মাগফিরাতের মহান মাস পবিত্র মাহে রামাযান। এই পবিত্র মাস আমাদেরকে নেকী অর্জনের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে। তাই আসুন! আমরা সবাই সাদরে ও আন্তরিকতার সঙ্গে এই মাহে রামাযানকে গ্রহণ করতে এগিয়ে আসি। ইবাদত-বন্দেগী, সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে আলোকিত করি। এই মহাপবিত্র নেকী অর্জনের সুবর্ণ মৌসুমকে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহ থেকে মুক্ত হয়ে মৃত্যু-পরবর্তী চিরস্থায়ী জীবনের জন্য পাথেয় সংগ্রহের শ্রেষ্ঠ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি।
এই রামাযান আমাদের পূর্ববর্তী নবী-রাসূল ও তাদের অনুসারীদের মাঝেও ছিল। সুতরাং এই বিধান নিয়ে মনস্তাপ না করে এটাকে আনন্দের উপলক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করুন। ইসলামের ইতিহাসে ও কুরআনে কারীমের বর্ণনা অনুযায়ী, ছিয়াম কেবল উম্মতে মুহাম্মাদীর উপরই নয়, বরং পূর্ববর্তী সকল নবী এবং তাদের উম্মতের উপরও ফরয ছিল। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর ছিয়াম ফরয করা হলো—যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাক্বওয়ার অধিকারী হতে পার’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৩)।
পূর্ববর্তী নবী ও উম্মতের ছিয়াম সাধনা:
এ পর্যায়ে আমরা আমাদের পূর্ববর্তী নবী ও উম্মতের ছিয়াম সাধনার বিষয়টি কেমন ছিল, তা নিয়ে তাত্ত্বিক পর্যালোচনা করার প্রয়াস পাব, ইনশা-আল্লাহ!
ছিয়াম (الصيام) এর পরিচয়ে বলা যায়, এর শাব্দিক অর্থ হলো الْإِمْسَاكُ অর্থাৎ বিরত থাকা, উপবাস থাকা, দূরে থাকা, কথা বলা থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি।
পারিভাষিক অর্থে বলা হয়, الْإِمْسَاكُ عَنِ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ وَالْجِمَاعِ، مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ إِلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ، مَعَ النِّيَّةِ ‘ছিয়াম হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়্যতের সাথে ছুবহে ছাদিক থেকে সূর্যাস্ত অবধি খাদ্য, পানীয় এবং যৌন মিলন থেকে বিরত থাকা’।[1]
আমাদের পূর্বেও যে এই বিধান ছিল তার প্রমাণ হলো উল্লিখিত আয়াতটি। তাতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি যেমন আমাদের উপর এটি বাধ্যতামূলক করেছেন, তেমনি আমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও সেই হুকুম করেছিলেন। তাই আমাদের জন্য এই আয়াতে উদাহরণ রয়েছে এবং আমাদের উচিত আমাদের পূর্ববর্তীদের তুলনায় এই দায়িত্ব আরও সম্পূর্ণরূপে পালন করার চেষ্টা করা, যেমনটি পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন।
কারণ ছিয়াম আত্মাকে পবিত্র ও কলুষমুক্ত করে এবং খারাপ রসিকতা, নিকৃষ্ট চরিত্র ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখে। যেমন হাদীছে বর্ণিত হয়েছে,
عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: قال لنا رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاء.
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ বিবাহ দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন ছিয়াম রাখে। কারণ ছিয়াম তার জন্য ঢালস্বরূপ (যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী)।[2]
উক্ত হাদীছ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ছিয়াম রাখার মাধ্যমে নিজের আত্মশুদ্ধি সম্ভব হয়। তাই তো রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করতে অসমর্থ যুবকের প্রতি ছিয়াম সাধনার আদেশ করেন। তাতে যেমন চক্ষু ও লজ্জাস্থানের হেফাযত হবে, তেমনি আত্মাকে পবিত্র করা সম্ভব হবে।
পূর্ববর্তী নবী ও উম্মতের ছিয়াম:
আদম আলাইহিস সালাম-এর যুগ থেকেই এই নিয়ম চলে আসছে বলে ধারণা করা হয়। আদম আলাইহিস সালাম নিজেও মাসে তিন দিন (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) ছিয়াম রাখতেন মর্মে ২/১টি ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়।
ঠিক তেমনি দাঊদ আলাইহিস সালামও এক দিন ছিয়াম করতেন এবং এক দিন ভোজন করতেন, যা ছিয়ামে দাঊদ নামে পরিচিত এবং তার ছিয়াম পালনকে আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় এবং সর্বোত্তম ছিয়াম নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَبُّ الصَّلَاةِ إِلَى اللَّهِ صَلَاةُ دَاوُدَ S وَأَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ صِيَامُ دَاوُدَ وَكَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَكَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا.
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আছ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছালাত হলো দাঊদ আলাইহিস সালাম-এর ছালাত এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছিয়াম হলো দাঊদ আলাইহিস সালাম-এর ছিয়াম। তিনি অর্ধেক রাত পর্যন্ত ঘুমাতেন, তারপর রাতের এক-তৃতীয়াংশ ইবাদত করতেন এবং রাতের শেষ-ষষ্ঠাংশ আবার ঘুমাতেন। আর তিনি এক দিন ছিয়াম রাখতেন এবং এক দিন ভোজন করতেন (অর্থাৎ ছিয়াম রাখতেন না)’।[3]
অনুরূপভাবে মূসা আলাইহিস সালাম আশূরার দিন (১০ মুহাররম) ছিয়াম রাখতেন।
عن ابن عباس قال قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ فَرَأَى الْيَهُودَ تَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ: مَا هَذَا؟ قَالُوا: هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللَّهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوسَى قَالَ: فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ.
ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এসে দেখলেন যে, ইয়াহূদীরা আশূরার দিনে ছিয়াম রাখছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটি কী?’ তারা বলল, এটি একটি মহান দিন, এই দিনে আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর হাত থেকে নাজাত দিয়েছিলেন, তাই মূসা আলাইহিস সালাম এই দিনে ছিয়াম রেখেছেন। তখন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তোমাদের চেয়ে মূসার অনুসরণে আমিই বেশি হক্বদার’। অতঃপর তিনি নিজে ছিয়াম রাখলেন এবং ছিয়াম রাখার নির্দেশ দিলেন।[4]
একইভাবে মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার সাথে কথোপকথন এবং তাওরাত লাভের উদ্দেশ্যে তূর পাহাড়ে যে দীর্ঘ সময় (৪০ দিন) ইবাদতে মগ্ন ছিলেন, তূর পর্বতে ৪০ দিনের সফরে ছালাত আদায়ের পাশাপাশি দিনের বেলায় তিনি ছিয়াম রাখতেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثَلَاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَاهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِيقَاتُ رَبِّهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ‘আর আমি মূসার সাথে ৩০ রাতের ওয়াদা করেছি এবং আরও ১০ দ্বারা তা পূর্ণ করেছি। এভাবে তার রবের নির্ধারিত সময় ৪০ রাতে পূর্ণ হয়’ (আল-আ‘রাফ, ৭/১৪২)।
তিনি এক মাস (যুলক্বা‘দাহ) ছিয়াম রাখার পর একটা ডাল দিয়ে মিসওয়াক করে ফেলেন; তাই পরে আরও ১০ (যুলহিজ্জাহ মাসের প্রথম ১০ দিন) দিন ছিয়াম পালনের আদেশ করা হয়, যার সমষ্টি হলো ৪০ দিন।[5]
ইঞ্জীলের বর্ণনা অনুযায়ী, ঈসা আলাইহিস সালাম মরুভূমিতে ৪০ দিন ও ৪০ রাত ছিয়াম রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে খ্রিষ্টান ধর্মে ‘লেন্ট’ (Lent) নামক ছিয়াম রাখার একটি প্রথা প্রচলিত হয়, যা বর্তমানে ৪০ দিনের হয়ে থাকে।[6]
পূর্ববর্তী উম্মতের ছিয়াম ও বর্তমান ছিয়ামের পার্থক্য:
পূর্ববর্তী উম্মতের ছিয়াম ও বর্তমান ছিয়ামের মধ্যে মৌলিকভাবে দুটি পার্থক্য বলা যেতে পারে—
(ক) সাহারী: পূর্ববর্তী উম্মত সাহারী খেতেন না। ঘুমানোর পর রাত গভীর হলে তাদের পানাহার নিষিদ্ধ হয়ে যেত। আমাদের জন্য সাহারী খাওয়া সুন্নাত এবং এটি একটি বরকতময় কাজ। হাদীছে এসেছে,
عَن أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً.
আনাস ইবনু মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা সাহারী খাও। কেননা সে সাহারীতে বরকত নিহিত আছে’।[7]
(খ) সময়কাল: কোনো কোনো উম্মতের জন্য একটানা ৪০ দিন বা তার বেশি ছিয়াম রাখার বিধান ছিল। আমাদের জন্য টানা এক মাস (রামাযান) ছিয়াম রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ‘রামাযান মাস, এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং হেদায়াতের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে ছিয়াম পালন করে’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৫)।
উপসংহার:
ছিয়ামের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সকল যুগেই এক ছিল আর তা হলো ‘তাক্বওয়া’ বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। তাই আসন্ন রামাযান হোক তাক্বওয়া অর্জন ও রবের সান্নিধ্য লাভের এক অনন্য উপায়। এই রামাযান হোক নেকী অর্জনের এক সুবর্ণ সুযোগ, পাপরাশি থেকে মুক্তির এক উত্তম সময়। যে ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ করবে, সেই তো সৌভাগ্যের অধিকারী হবে। আর রহমতের এই ইলাহী ক্ষণে যে নিজেকে নিষ্পাপ করতে পারবে না, সে তো চরম হতভাগা। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ব্যাপারে সতর্ক করেছেন—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَال قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ، ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ ثُمَّ انْسَلَخَ قَبْلَ أَنْ يُغْفَرَ لَهُ وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ أَدْرَكَ عِنْدَهُ أَبَوَاهُ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَمْ يُدْخِلَاهُ الْجَنَّةَ.
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ধ্বংস হোক (অপমানিত হোক) সেই ব্যক্তি! যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হলো; অথচ সে আমার উপর দরূদ পাঠ করল না। ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি! যে রামাযান মাস পেল, অতঃপর রামাযান শেষ হয়ে গেল; কিন্তু তার গুনাহ ক্ষমা করা হলো না। আর ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি! যে তার পিতামাতাকে বার্ধক্যে পেল; অথচ তারা তাকে (তাদের সেবা করে) জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না’।[8]
রব্বে কারীমের দরবারে আমরা অন্তরভরে ও প্রাণপণ ফরিয়াদ জানাই, হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সকল উত্তম ও সৎকর্ম করার তাওফীক্ব দান করুন। আমাদের দ্বারা সম্পাদিত প্রত্যেকটি নেক আমল নিজ অনুগ্রহে কবুল করুন এবং আমাদের জানা-অজানায় সংঘটিত সকল গুনাহ ও অপকর্ম ক্ষমা করে দিন। আপনার রহমত ও দয়ায় আমাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করুন- আমীন!
আবু আল-মিনান মো. আল-আমিন
শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
[1]. আল-মু‘জামুল ওয়াসীত, ১/৫২৯।
[2]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯০৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪০০।
[3]. ছহীহ বুখারী, হা/১১২৯; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৫৯।
[4]. ছহীহ বুখারী, হা/২০০৪।
[5]. তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে কুরতুবী।
[6]. মথি ৪:১-২।
[7]. ছহীহ বুখারী, হা/১৯২৩।
[8]. তিরমিযী, হা/৩৫৪৫।
