কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২২): বর্তমানে সালাফী কিছু লোক সামান্য পড়াশোনা ও কিছু কুরআন-হাদীছ মুখস্থ করে দাওয়াতী কাজ করে বা জুমআর খুৎবা দেয়। আবার ফতওয়াও দেয়। এই কাজ কতটুকু শরীআতসম্মত?

উত্তর: ক. দাওয়াতী কাজ অর্থাৎ ইসলামের পথে মানুষকে আহ্বান করা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ কাজ। কিন্তু এই কাজের পূর্বশর্ত হচ্ছে ইলম অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, قُلْ هَـٰذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي ‘(হে নবী!) বলুন, এটা আমার পথ, যা দ্বারা আমি লোকদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি পূর্ণ জ্ঞান ও স্পষ্ট প্রমাণসহ। এ পথে আমি এবং আমার অনুসারীরা আহ্বান করে’ (ইউসুফ, ১২/১০৮)। ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ ছহীহ বুখারীতে একটি অধ্যায়ের শিরোনাম লিখেছেন, باب العلم قبل القول والعمل অর্থাৎ ‘কোনো বিষয়ে বলা এবং আমল করার পূর্বে সেই বিষয়ে ইলম অর্জন করা আবশ্যক অধ্যায়’ (ছহীহ বুখারী, ১/২৪)। সুতরাং পর্যাপ্ত ইলম অর্জন ব্যতীত দাওয়াতী কাজ করা উচিত নয়। খ. ফাতওয়া প্রদান অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই কাজের গুরুত্ব প্রমাণের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা ফাতওয়া প্রদানকে নিজের সাথে সম্পৃক্ত করে বলেছেন, قل الله يفتيكم فيهن ‘(হে নবী!) বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে ফাতওয়া প্রদান করেন নারীদের ব্যাপারে’ (আন-নিসা, ৪/১২৭)। আর এজন্যই ইমাম ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ তার বিখ্যাত গ্রন্থের নাম রেখেছেন إعلام الموقعين عن رب العالمين অর্থাৎ ‘বিশ্বজগতের পালনকর্তার পক্ষ থেকে যারা স্বাক্ষর করে তাদেরকে (গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে) অবগত করা’। অর্থাৎ যেহেতু ফাতওয়া প্রদান মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তাই যারা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী ফাতওয়া প্রদান করে, তারা যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করে। তাহলে অনুধাবন করা উচিত, আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করার কাজটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে! অতএব, এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ যার-তার করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত ইলম অর্জন, নির্ভরযোগ্য আলেমদের স্বীকৃতি লাভের পরই ফাতওয়া প্রদানের মতো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা উচিত। ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ তখনই ফাতওয়া প্রদান শুরু করেছিলেন, যখন বড় বড় প্রায় ৭০ জন মুহাদ্দিছ ও ফকীহ তাকে এ কাজের জন্য স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, من أُفْتِيَ بِغَيْرِ عِلْمٍ كَانَ إِثْمُهُ عَلَى مَنْ أَفْتَاه ‘যাকে ইলম ছাড়াই ফাতওয়া প্রদান করা হয়েছে, তার পাপের ভাগীদার হবে সেই ব্যক্তি, যে ইলম ছাড়াই তাকে ফাতওয়া প্রদান করেছে’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৬৫৭)।

প্রশ্নকারী : সাফিউল হক

জয়পুরহাট।


Magazine