উত্তর : ছালাতুল ইশরাক, চাশত ও আওয়াবীন এই তিন নামে এক ও অভিন্ন ছালাতকে বুঝানো হয়। ইশরাক শব্দের অর্থ হলো, সূর্য উদিত হওয়া অর্থাৎ সূর্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে উক্ত ছালাতের সময় শুরু হয়। প্রথম প্রহরের শুরুতে পড়লে তাকে ‘ছালাতুল ইশরাক্ব’ বলে এবং কিছু পরে দ্বিপ্রহরের পূর্বে পড়লে তাকে ‘ছালাতুয যোহা’ বা ‘চাশতের ছালাত’ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি জামা‘আতের সাথে ফজরের ছালাত আদায়ের পর সেখানে বসেই যিকির-আযকারে মাশগূল থাকল। অতঃপর সূর্যোদয়ের পর সেখানেই দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করল। সে ব্যক্তি একটি পূর্ণ হজ্জ ও ওমরার ন্যায় ছওয়াব পেল’ (তিরমিযী, হা/৫৮৬, সনদ হাসান; মিশকাত, হা/৯৭১)। বুরায়দা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষের শরীরে ৩৬০টি জোড় আছে। অতএব মানুষের কর্তব্য হলো প্রত্যেক জোড়ের জন্য একটি করে ছাদাক্বাহ করা। ছাহাবীগণ বললেন, কার শক্তি আছে এই কাজ করার হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, চাশতের দু’রাক‘আত ছালাতই এ জন্য যথেষ্ট’ (আবূ দাঊদ, হা/৫২৪২; মিশকাত, হা/১৩১৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৭২০; মিশকাত, হা/১৩১১)। আর রোদ্রের তাপে উত্তপ্ত বালুর গরমে উটের বাচ্চার পায়ের ক্ষুর পুড়ে যাওয়ার মতো সময়ে উক্ত ছালাত আদায় করলে তাকে ‘ছালাতুল আওয়াবীন’ বলা হয়’। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ছালাতুল আওয়াবীন’-এর সময় হলো তখন, যখন (রোদের তাপে) উটের বাচ্চার ক্ষুর গরম হয়ে যায়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৭৪৮; মিশকাত, হা/১৩১২)। উক্ত ছালাত চার রাক‘আতও আদায় করা যায়। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দিনের প্রথমাংশে চার রাক‘আত ছালাত আদায় করবে তার জন্য দিনের শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হবে’ (তিরমিযী, হা/৪৭৫)। উল্লেখ্য যে, মাগরিবের ছালাতের পরে ‘ছালাতুল আওয়াবীন’ নামে যে ৬ রাক‘আত ছালাত পড়ার প্রথা সমাজে চালু আছে শরী‘আতে তার কোনো ভিত্তি নেই। মূলত চাশতের সময় যে ছালাত পড়া হয় সেটাই আওয়াবীনের ছালাত (ছহীহ মুসলিম, হা/৭১৯; মিশকাত, হা/১৩১০)।
-নাজনীন পারভীন
আক্কেলপুর, জয়পুরহাট।
