উত্তর : সূরা ফাতিহা ইমামের পিছনে চুপে চুপে এবং ইমামের প্রতি আয়াত পাঠের পরে পরে পড়তে হবে। তাকবীরে তাহরীমার পরবর্তী সাকতার সময় নয়। তাহলে ইমামের অনুসরণ হয়ে যাবে। কেননা তাকবীরে তাহরীমা এবং সূরা ফাতিহার মধ্যবর্তী সাকতা (নিরবতা) মূলত সানা পড়ার জন্য (নাসাঈ, হা/৮৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০৪১৩)। আলী ইবনু হুজর রহিমাহুল্লাহ আবূ হুরায়রা রযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছালাত আরম্ভ করার পর অল্পক্ষণ নীরব থাকতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক; তাকবীর ও ক্বিরা’আতের মধ্যবর্তী নীরবতার সময় আপনি কি পড়েন? তিনি বলেন, আমি তখন পড়ি:
اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِى وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِى مِنْ خَطَايَاىَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِى مِنْ خَطَايَاىَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ
দুই সাকতার (অর্থাৎ তাকবীরে তাহরীমার পর এবং সূরা ফাতিহার পর) হাদীছ যঈফ (আবূ দাউদ, হা/৭৭৭, ৭৭৯; ইরওয়া, হা/৫০৫)। ইমাম সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর চুপ থাকা এবং মুক্তাদীগণ সূরা ফাতিহা পাঠ করা মর্মে কোনো হাদীছ নেই। ছাহাবীগণ ইমামের সাথে সাথে সরবে তেলাওয়াত করতেন বলেই রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর তেলাওয়াতে সমস্যা হত। তাই তিনি তাদেরকে নীরবে পাঠ করার নির্দেশ প্রদান করে ছিলেন। আবূ হুরায়রা রযিয়াল্লাহু আনহু-কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ ‘তুমি তা নীরবে পাঠ করো’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৩৯৫; মিশকাত, হা/৮২৩)।
প্রশ্নকারী : মো. দাউদ হোসেন
মহেশপুর, ঝিনাইদাহ।