কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা

post title will place here

عَنْ أَنَسٍ t قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِيْ وَرَجَوْتَنِيْ غَفَرْتُ لَكَ عَلٰى مَا كَانَ فِيْكَ وَلَا أُبَالِيْ يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوْبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتَنِيْ غَفَرْتُ لَكَ وَلَا أُبَالِيْ يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ لَقِيْتَنِيْ بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيْتَنِيْ لَا تُشْرِكُ بِيْ شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً.

সরল অনুবাদ : আনাস রযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে আদম সন্তান! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকবে এবং আমার কাছে (ক্ষমা) প্রত্যাশা করবে, তোমার মধ্যে যে গুনাহই থাক, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। আর আমি কোনো কিছুর পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশের সমপরিমাণ হয় আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তাহলে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। হে আদম সন্তান! যদি তুমি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আসো এবং আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরীক না করে (আখেরাতে) সাক্ষাৎ কর, তাহলে আমি সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করব’।[1]

হাদীছটিরমর্যাদাগতঅবস্থান : ইবনু দাক্বীক্ব আল-ঈদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, এই হাদীছটি মানবতার মুক্তির এক মহান সুসংবাদ। অপূর্ব সহনশীলতা ও মহান উদারতার এটি এক অন্যন্য নিদর্শন। অগণিত পুণ্য, অসীম দানশীলতা, গভীর সহানুভূতি, পরম করুণা ও একনিষ্ঠ কৃতজ্ঞতার জ্বলন্ত প্রমাণ এটি।[2] আল-জারদানী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, হাদীছের ভাণ্ডারে যত হাদীছ আছে তার মধ্যে এটি সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক। এটি আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততা এবং তাঁর অসীম উদারতা ও প্রত্যক্ষ উপস্থিতির ইঙ্গিত। তবে এতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে পাপে জড়ানো উচিত নয়। কেননা হাদীছের উদ্দেশ্য আল্লাহ তাআলার ক্ষমার ব্যাপকতা ও দয়ার মহত্ত্ব বর্ণনা করা, যাতে অধিক পাপে জড়িত কেউ নিরাশ না হয়।[3]

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদীছ। কারণ এতে তাওহীদের মহত্ত্ব বর্ণিত হয়েছে। ইসলামের প্রথম ও প্রধান বিষয় হচ্ছে তাওহীদ। এই হাদীছে আল্লাহ তাআলা যে সর্বোত্তম প্রতিদানের অঙ্গীকার করেছেন তার কারণও হলো তাওহীদ। আর তাওহীদের পুরস্কার এমনই হয়ে থাকে।[4]

হাদীছের শিক্ষা :

(১) তওবা করা আর তওবার জন্য উৎসাহ দানে এটি একটি মৌলিক হাদীছ।

(২) গুনাহ বড় হলেও আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন।

(৩) ক্ষমা লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহর নিকট দু্‘আ করা এবং এজন্য আশাবাদী হওয়া।

(৪) তাওহীদে বিশ্বাস পাপ থেকে ক্ষমা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। যেমন— আল্লাহ তাআলা বলেন,إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُوْنَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। তবে অন্য যে কোনো পাপ যাকে ইচ্ছা তাকে তিনি ক্ষমা করেন(আন-নিসা, ৪/১১৬)

(৫) আল্লাহর রহমতের মহত্ত্ব ও দয়ার প্রাচুর্যের তুলনায় মানুষের দুর্বলতা ও পাপকে ক্ষুদ্র মনে করা।

ব্যাখ্যা : হাদীছটি আমাদের হৃদয়কে আনন্দিত করে, আত্মাকে সুদৃঢ় করে আর অশ্রুকে প্রবাহিত করে। আমাদের বিবেককে অনুশোচিত করে আর মনকে আশাবাদী করে। আমাদের হতাশা ও ব্যর্থতার কারণ দূর করে দেয়। এটি এমন একটি ইলাহী আহ্বান, যা কারো কানে প্রতিধ্বনিত হলে সে প্রচণ্ড আবেগ ও আগ্রহ নিয়ে আল্লাহর নিকে ছুটে যায়। এটি এমন একটি অমিয় আহ্বান, যার উচ্চারণে এর অনুস্মারকের প্রাণ উচ্ছ্বসিত হয়। এটি এমন একটি অসাধারণ বাণী, যা পাঠকের আত্মাকে প্রশান্তি দেয়। কতইনা উত্তম উপদেশ এটি! কতইনা অবিস্মরণীয় মধুর ডাক এটি!!

হাদীছটিতে মুমিন বান্দার জন্য বড় সুসংবাদ এসেছে। কারণ আল্লাহর রহমতের বিশালত্ব এবং তাঁর অনুগ্রহের মহত্ত্ব কোনো সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর দয়ার ব্যাপকতা ও ভালোবাসার গভীরতা কোনো পরিমাপ যন্ত্রে মাপযোগ্য নয়।

সুধী পাঠক! হাদীছটি পাপ বর্জনের পথ অন্বেষকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। পাপ থেকে মুক্তিকামী মুমিনের জন্য আলোকবর্তিকা। হে পাঠক! হাদীছটির মর্যাদাগত রহস্য উপলব্ধি করতে হাদীছটির মর্মার্থ অনুধাবনই যথেষ্ট। কারণ হাদীছটির বৈশিষ্ট্য তাকে অন্যান্য হাদীছ থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে। এমনকি অনেক পণ্ডিত বিশ্বাস করেন যে, হাদীছের ভাণ্ডারে যত হাদীছ আছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি আশাব্যঞ্জক।

যেসব কারণে আল্লাহ তাআলা গুনাহ মাফ করে দেন, সেগুলো ব্যাখ্যা করলে হাদীছটির বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়। প্রার্থনা সেই কারণগুলোর অগ্রভাগে আসে। প্রার্থনা আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহান মাধ্যম। এটি বান্দা ও স্রষ্টার মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগসূত্র সৃষ্টি করে। এটি একজন মুমিনের অস্ত্র, যা তিনি প্রতিকূলতা ও দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করেন।

আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের বিভিন্ন জায়গায় দু‘আ করার জন্য আমাদেরকে তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন,وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُوْنِيْ أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِيْنَ يَسْتَكْبِرُوْنَ عَنْ عِبَادَتِيْ سَيَدْخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دَاخِرِيْنَ ‘আর তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব৷ নিশ্চয় যারা আমার ইবাদতে অহংকার করবে, তারা অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে’ (গাফের, ৪০/৬০)। মহান আল্লাহ আরো বলেন,وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِيْ عَنِّيْ فَإِنِّيْ قَرِيْبٌ أُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيْبُوْا لِيْ وَلْيُؤْمِنُوْا بِيْ لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُوْنَ ‘আর যখন আমার বান্দারা আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, (তখন আপনি বলুন) আমি নিকটেই আছি, আমি প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার কথায় সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি বিশ্বাস করে, যাতে তারা হেদায়াত পায়’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৬)। আর নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও আল্লাহকে ডাকতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, مَنْ لَمْ يَسْأَلِ اللَّهَ يَغْضَبْ عَلَيْهِ ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে চায় না, তার উপর তিনি রাগান্বিত হন’।[5]

যাহোক, ইবাদত গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে, যা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। যাতে প্রার্থনাটি উত্তর পাওয়ার যোগ্য হয় এবং গৃহীত হওয়ার জন্য অধিক সম্ভাবনাময় হয়। যেমন— আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখা এবং ক্ষমা পাওয়ার স্বপ্ন ও আশা জীবন্ত রাখা। কেননা মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এমনভাবে আল্লাহকে ডাকতে হবে, যাতে উক্ত ডাকের সাড়া পাওয়া নিশ্চিত হয়। জেনে রাখো! গাফেল ও অসতর্ক হৃদয়ের ডাকে আল্লাহ তাআলা সাড়া দেন না’।[6] আল্লাহকে ডাকার উপযুক্ত সুফল পাওয়ার জন্য অবশ্যই সৎ আমলের ভিত্তি দৃঢ় হতে হবে। শুধু ভাসমান ইচ্ছা কিংবা কাল্পনিক স্বপ্ন হলে হবে না।

তাছাড়াও একজন মুসলিমকে প্রার্থনায় অবশ্যই সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। তাকে আবেদনে হতে হবে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আবূ হুরায়রা রযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন না বলে, হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমার প্রতি দয়া করুন; বরং সে যেন আল্লাহর নিকট দৃঢ়তার সাথে চায়। কারণ তাঁর নিকট বাধ্যবাধকতার কোনো কিছু নেই’।[7] দৃঢ়তার সাথে চাইলে তিনি অসন্তুষ্ট হন না।

এখন ক্ষমার আলোচনায় আসা যাক। ক্ষমার আবেদন হলো পাপকে গোপন রাখা এবং উপেক্ষা করা। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের প্রশংসা করে বলেছেন, وَالْمُسْتَغْفِرِيْنَ بِالْأَسْحَارِ ‘আর যারা ভোরবেলা ক্ষমা প্রার্থনা করে’ (আলে ইমরান, ৩/১৭)। এই আয়াতে পাপে জড়িত হওয়ার পর ক্ষমা পাওয়ার ব্যবস্থাকে পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন,­وَمَنْ يَعْمَلْ سُوْءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللهَ يَجِدِ اللهَ غَفُوْرًا رَحِيْمًا ‘আর যে ব্যক্তি খারাপ কাজ করে বা নিজের উপর যুলুম করে, তারপর সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পাবে’ (আন-নিসা, ৪/১১০)

তারপরও, ক্ষমা চাওয়া অন্যান্য ইবাদতের তুলনায় বেশি শ্রেষ্ঠ। কারণ এর বরকত কেবল গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া ও পাপ মোচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর কল্যাণ আকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত। আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার ফলে পৃথিবীতে শস্য ও ফসল উৎপন্ন হয়। দু‘আর মাধ্যমে মানুষের বংশ বিস্তার লাভ করে এবং যেকোনো কাজের প্রস্তুতি শক্তিশালী হয়। যেমন— আল্লাহ তাআলা বলেন,فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا - يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا - وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِيْنَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا ‘অতপর আমি বললাম, তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, কারণ তিনি ক্ষমাশীল। তাহলে তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদেরকে ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন, তিনি তোমাদের জন্য উদ্যান এবং নদী তৈরি করবে’ (আন-নূহ, ৭১/১০-১২)

এই কারণে অনেক আয়াতে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেখতে পাওয়াটা বিচিত্র কিছু নয়। অনেক নবী ও রাসূলের বারবার ক্ষমা চাওয়াটাও অবাক হওয়ার কোনো বিষয় নয়; বরং আমাদের নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৈঠকে ১০০ বারেরও বেশি ক্ষমা চাইতেন। যেমন— আগার আল-মুযানী রযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,إِنِّى لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِى الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ ‘আমি একদিনে আল্লাহর নিকট ১০০ বার ক্ষমা চাই’।[8]

ক্ষমা প্রার্থনা ততক্ষণ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হবে না, যতক্ষণ না তা এমন একজন মুমিনের অন্তর থেকে সংঘটিত হয় যার হৃদয় প্রভুর মহিমায় উদ্দীপ্ত থাকে, অবহেলা ও ত্রুটির জন্য যার মন অনুতপ্ত হয়, যার অত্মা অনুশোচনা ও আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকে। অন্যথা তা একটি সারশূন্য অনুতাপ হিসেবে গণ্য হবে যার কোনো উপকারিতা নেই।

অতঃপর ক্ষমা লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম মাধ্যম হলো তাওহীদের দাবি পূরণ করা। আর তা হলো তাওহীদের শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা। তাওহীদের শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করলেই কেবল তাওহীদের প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে। আল্লাহ তাআলা তার কিতাবে এ সম্পর্কে বলেছেন,الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَلَمْ يَلْبِسُوْا إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُوْنَ ‘যারা ঈমান আনে এবং তাদের ঈমানকে শিরকের সাথে মিশায় না; তাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে’ (আল-আনআম, ৬/৮২)। এখানে তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন, যাদের ঈমান শিরকের জঞ্জাল থেকে পবিত্র ছিল। তাদেরকে তিনি জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা দানের সুসংবাদ দিয়েছেন। এত বড় ক্ষমায় আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ সমস্ত পাপ তাওহীদের মাহাত্ম্যের সামনে ক্ষুদ্র হয়ে যায়। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তার সাথে কোনো কিছু শরীক করবে না, তিনি তাকে শাস্তি দেবেন না। যেমনটি মুআয রযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীছে এসেছে, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,وَحَقَّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ أَنْ لاَ يُعَذِّبَ مَنْ لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا ‘আল্লাহর উপর বান্দাদের অধিকার হলো যে, যারা তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, তিনি তাদের শাস্তি দেবেন না’।[9]

নিষ্পাপ জীবনযাপন কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। ভুল করা বা পাপে জড়িয়ে যাওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। শয়তান যেমন মানুষকে পাপে জড়াতে উৎসাহিত করে, তেমনি মানুষের মনও তাকে নানাভাবে পাপ সংঘটিত করতে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু অনুশোচিত বা অনুতপ্ত হয়ে তওবা করা একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় গুণ। সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখা এবং কোনো অবস্থাতেই শিরকে না জড়ানো তার সবচেয়ে বড় সংগ্রাম। তাই আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে হবে তিনি যেন আমাদের এই সংগ্রামে সফল করেন। তিনি যেন আমাদেরকে প্রকৃত তওবা করার তাওফীক্ব দান করেন। তিনি যেন আমাদেরকে আশাবাদী করেন ও শুভ ফলাফলের জন্য ধৈর্য দান করেন। তিনি যেন আমাদের ত্রুটিগুলো দূর করেন৷ তিনি আমাদের পদস্খলনগুলো ক্ষমা করেন। তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর আনুগত্য করার ও তাঁর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফীক্ব দান করেন- আমীন!

মুহাম্মদ মুস্তফা কামাল

প্রভাষক (আরবী), বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বরিশাল।


[1]. তিরমিযী, হা/৩৫৪০, হাদীছ ছহীহ।

[2].  ইবনে দাক্বীক্বুল ঈদ, শারহুল আরবাঈন আন-নাবাবিয়্যা, পৃ. ১৩১; ইবনু আত্তার, শারহুল আরবাঈন আন-নাবাবিয়্যা, পৃ. ১৯২; গৃহীত: alukah.net.

[3]. আল-জাওয়াহিরুল লূলূইয়্যাহ, শারহুল আরবাঈন আন-নাবাবিয়্যা, পৃ. ৩৭৭; গৃহীত: alukah.net.

[4]. ক্বাওয়ায়েদ ওয়া ফাওয়ায়েদ মিনাল আরবাঈন আন-নাবাবিয়্যা, পৃ. ৩৫৭; গৃহীত: alukah.net.

[5]. তিরমিযী, হা/৩৩৭৩, হাদীছ ছহীহ।

[6]. তিরমিযী, হা/৩৪৭৯, হাসান; সিলসিলা ছহীহা, হা/৫৯৪।

[7]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৩৩৮; তিরমিযী, হা/৩৪৯৭।

[8]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৭০২।

[9]. ছহীহ বুখারী, হা/২৮৫৬।

Magazine