উত্তর : আমলসমূহের ছওয়াব রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা অন্যান্য নেককার মৃত ব্যক্তিদের নামে বখশে দেওয়াকে ‘ইছালে ছওয়াব’ বলা হয়। আর এ উপলক্ষ্যে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তাকে বলা হয় ‘ইছালে ছওয়াব মাহফিল’। এ ধরনের অনুষ্ঠান করা স্পষ্ট বিদ‘আত। কারণ এ আমল রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈন থেকে প্রমাণিত নয়। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার প্রতি আমার নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৪৫৮৯; মিশকাত, হা/১৪০)। সুতরাং এ ধরনের বিদ‘আতী অনুষ্ঠানে দান করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কেননা সেখানে দান করলে বিদ‘আতী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা হবে। আর এমন কাজে সহযোগিতা করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তাক্বওয়া ও কল্যাণকর কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ, ২)। তাছাড়া প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম (ছহীহ ইবনু খুযায়মা, হা/১৭৮৫)।
উল্লেখ্য যে, ছওয়াব পৌঁছানোর মাত্র দু’টি পথ রয়েছে। (১) মৌখিক দু‘আ। ওছমান রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাইয়্যেতের দাফন কাজ সম্পন্ন করতেন, তখন সেখানে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তাঁর ঈমানের উপর সুদৃঢ় থাকার জন্য দু‘আ করো। কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে’ (আবুদাঊদ, হা/৩২২১; মিশকাত, হা/১৩৩, সনদ ছহীহ)। (২) দান-ছাদাক্বাহ করা। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা হঠাৎ মারা গিয়েছেন। আমার ধারণা, তিনি যদি কিছু বলার সুযোগ পেতেন তাহলে কিছু দান করতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ হতে দান করি, তাহলে তিনি কি ছওয়াব পাবেন? রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৮৮; ছহীহ মুসলিম, হা/১০০৪; মিশকাত, হা/১৯৫০)।
-আব্দুল্লাহ
পবা, রাজশাহী।
