১. তাওহীদের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَ آخِرُ كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ.
মুআয ইবনু জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যার শেষ বাক্য হবে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সে জান্নাতে যাবে’।[1]
عَنْ جَابِر بْن عَبْدِ اللهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ لَقِيَ اللهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ لَقِيَهُ يُشْرِكُ بِهِ دَخَلَ النَّارَ.
জাবের ইবনু আব্দিল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করা অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করা অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে’।[2]
عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ قَالَ سَلْمَانُ دَخَلَ رَجُلٌ الْجَنَّةَ فِي ذُبَابٍ وَدَخَلَ رَجُلٌ النَّارَ فِي ذُبَابٍ.
তারেক ইবনু শিহাব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সালমান রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, একটি মাছির জন্য এক ব্যক্তি জান্নাতে এবং অন্য ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। তখন তার সাথীরা জিজ্ঞেস করলেন, এটা কীভাবে হলো? তখন তিনি বললেন, (অতীতকালে) দুজন লোক এমন এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল, যাদের ছিল একটি নির্ধারিত মূর্তি। সেই মূর্তির জন্য কোনো কিছু উপহার না দিয়ে কোনো ব্যক্তি সে স্থান দিয়ে যেতে পারত না। সেই এলাকার লোকেরা দুজনের একজনকে বলল, মূর্তির জন্য তুমি কিছু দাও। সে বলল, দেওয়ার মতো আমার নিকট কিছুই তো নেই। তারা বলল, একটা মাছি হলেও পেশ করো। তারপর সে একটা মাছি মূর্তির জন্য প্রদান করল। লোকেরা তার পথ ছেড়ে দিল। এর ফলে সে ব্যক্তি মৃত্যুর পর জাহান্নামে গেল। দ্বিতীয় ব্যক্তিকে তারা বলল, তুমিও মূর্তির জন্য কিছু দাও। সে বলল, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নৈকট্য লাভের জন্য আমি কোনো কিছুই দেই না। এই কথা শোনার পর লোকেরা তাকে মেরে ফেলল। ফলে সে ব্যক্তি মৃত্যুর পর জান্নাতে প্রবেশ করল।[3]
শিক্ষা: ১. তাওহীদের গুরুত্ব জানা গেল। ২. জান্নাত ও জাহান্নাম মানুষের অতি নিকটে। ৩. জান্নাত ও জাহান্নাম আল্লাহ তাআলা আগে থেকেই সৃষ্টি করে রেখেছেন। ৪. মাযার ও কবরে কোনো কিছু দেওয়ার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
২. কালেমায়ে শাহাদাত পাঠকারীর শ্রেষ্ঠত্ব
রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে ডাকা হবে, অতঃপর তার সামনে ৯৯টি নথিপত্র (যেখানে আমলনামা লেখা থাকে) পেশ করা হবে। প্রতিটি নথি দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত দীর্ঘ হবে। মহান আল্লাহ বলবেন, তুমি কি এর কোনো কিছু অস্বীকার কর? সে বলবে, না, হে আমার প্রভু! আল্লাহ বলবেন, তোমার ওপর আমলনামা লেখক আমার মালায়েকা (ফেরেশতারা) কি যুলম করেছে? সে উত্তর দেবে, না। অতঃপর তিনি (আল্লাহ) জিজ্ঞেস করবেন, তোমার নিকট কি কোনো নেকী আছে? সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে এবং বলবে, না। তখন আল্লাহ বলবেন, হ্যাঁ, আমার নিকট তোমার কিছু নেকী জমা আছে। আজ তোমার ওপর যুলম করা হবে না। অতঃপর তার সামনে একটি বিতাকা বা চিরকুট তুলে ধরা হবে, যাতে লিপিবদ্ধ থাকবে কালেমায়ে শাহাদাত, أَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।[4] তখন সে বলবে, হে আমার রব! এত বৃহৎ নথিপত্রের তুলনায় এই ক্ষুদ্র চিরকুট আর কী উপকারে আসবে! তিনি বলবেন, তোমার প্রতি অন্যায় করা হবে না। অতঃপর সেই বৃহদাকার নথিপত্র এক পাল্লায় এবং সেই ক্ষুদ্র চিরকুটটি আরেক পাল্লায় রাখা হবে। এতে বৃহদাকার নথিপত্রের পাল্লা হালকা হয়ে ওপরে উঠে যাবে এবং ক্ষুদ্র চিরকুটের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে’।[5] অতঃপর আল্লাহর অনুগ্রহে উক্ত ব্যক্তি জান্নাতে যাবে।
-মাহবূবুর রহমান মাদানী
শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
[1]. আবূ দাঊদ, হা/৩১১৬, হাদীছ ছহীহ।
[2]. ছহীহ মুসলিম, হা/৯৩।
[3]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৩৩০৩৮; শুআবুল ঈমান, হা/৬৯৬২।
[4]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৩১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬।
[5]. তিরমিযী, হা/২৬৩৯; ইবনু মাজাহ, হা/৪৩০০, হাদীছ ছহীহ।
