১. আয়াতুল কুরসী পাঠের ফযীলত
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَةَ الكُرْسِيِّ لَنْ يَزَالَ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ وَلاَ يَقْرَبُكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ.
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তুমি রাতে বিছানায় যাবে, তখন তুমি আয়াতুল কুরসী পাঠ করো, তাহলে সর্বদা তোমার সাথে আল্লাহর পক্ষ হতে একজন পাহারাদার বা রক্ষক নিযুক্ত থাকবেন এবং ভোর পর্যন্ত তোমার নিকট কোনো শয়তান আসতে পারবে না’।[1]
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَحُلْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا الْمَوْتُ.
আবূ উমামাহ আল-বাহিলী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয ছালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে মৃত্যু ব্যতীত কোনো কিছুই তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে বাধা হয়ে থাকবে না’।[2]
২. সূরা আল-বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পাঠের ফযীলত
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ البَدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الآيَتَانِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ البَقَرَةِ مَنْ قَرَأَهُمَا فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ.
আবূ মাসঊদ আল-বাদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক রাতে সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে তার জন্য এটা যথেষ্ট হবে’।[3]
শিক্ষা: সে রাতে সকল বিপদাপদ ও অনিষ্ট থেকে সে রক্ষা পাবে। অনুরূপভাবে সকালে পড়লে বিকাল পর্যন্ত নিরাপদে থাকবে। এমনকি রাতের নফল ছালাতেরও ছওয়াব পাবে, যদি সে রাতে ছালাত পড়ার জন্য জাগতে না পারে।[4]
৩. সূরা আল-কাহফ এর প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করার ফযীলত
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ.
আবূদ দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের শুরুর দিকে দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, তাকে দাজ্জালের (ফেতনা) হতে নিরাপদ রাখা হবে’।[5]
৪. সূরা আল-কাহফ এর ফযীলত
রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,من قَرَأَ سُورَة الْكَهْف فِي يَوْم الْجُمُعَة أَضَاء لَهُ النُّور مَا بَيْنَ الْجُمْعَتَيْنِ ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন সূরা আল-কাহফ পড়বে তার জন্য দুই জুমআর মাঝে আলোকিত করা হবে’।[6]
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ كَمَا أُنْزِلَتْ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ مَقَامِهِ إِلَى مَكَّةَ.
আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফ যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবেই পড়বে, তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন তার স্থান হতে মক্কা পর্যন্ত আলো হবে’।[7]
শিক্ষা: উপরে উল্লিখিত ফযীলতপূর্ণ সূরাগুলো মুসলিমের জীবনে ওয়াযীফা হিসেবে তেলাওয়াত করা উচিত।
মাহবূবুর রহমান মাদানী (রাজশাহী)
শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/২৩৭৫।
[2]. নাসাঈ, হা/৯৭২।
[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৪০০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৮০৭; মিশকাত, হা/২০২৩।
[5]. ছহীহ মুসলিম, হা/৮০৯; মিশকাত, হা/২১২৬।
[6]. ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৭৩৬; বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/৫৯৯৬; মিশকাত, হা/২১৭৫, হাসান।
[7]. সিলসিলা ছহীহা, হা/২৬৫১।
