১. যুলহিজ্জাহ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদাতের শ্রেষ্ঠত্ব
মহান আল্লাহ বলেন, وَلَيَالٍ عَشْرٍ ‘শপথ, দশ রাতের!’ (আল-ফজর, ৮৯/২)। উক্ত দশ রাত দ্বারা ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা, ক্বাতাদা, মুজাহিদ রাহিমাহুমাল্লাহ-সহ অনেক মুফাসসিরের মতে, যুলহিজ্জাহ মাসের প্রথম দশ দিন-রাত বুঝানো হয়েছে।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ، مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ يَعْنِي الْعَشْرَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ؟ قَالَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ.
ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যুলহিজ্জাহ মাসের প্রথম দশ দিনের নেক আমল করা আল্লাহর নিকট যত বেশি প্রিয় আর কোনো দিনের আমল তাঁর কাছে তত প্রিয় নয়’। ছাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ তাআলার রাস্তায় জিহাদও নয়? রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়; তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত, যে তার জান ও মাল নিয়ে বের হয়ে গেছে, কিন্তু তার কিছুই ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারেনি’।[1]
শিক্ষা: অতএব, কুরআন ও হাদীছের দলীল দ্বারা জানা গেল যে, যুলহিজ্জাহ মাসের প্রথম দশ দিন-রাতের আমলসমূহ অন্যান্য দিনের তুলনায় অধিক উত্তম ও ফযীলতপূর্ণ। এই দিনগুলো হলো ছওয়াব অর্জনের মৌসুম। কাজেই নফল আমলগুলো করার ব্যাপারে সকলকে আগ্রহী হতে হবে এবং পরস্পর প্রতিযোগিতা করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ‘অতএব, সৎকাজে তোমরা প্রতিযোগিতা করো’ (আল-মায়েদা, ৫/৪৮)।
২. সুন্নাতী তরীকায় হজ্জ সম্পন্ন করা
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ المَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلَّا الجَنَّةُ.
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কবুল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয়’।[2]
শিক্ষা: হজ্জে যাওয়ার আগে সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে, এই বিষয়ে জানা তার উপর ফরয। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে হজ্জ সম্পাদন করেছেন, তা সুন্দর ও বিশুদ্ধভাবে হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, যা বাংলায় অনুবাদসহ পাওয়া যায়। অথবা নির্ভরযোগ্য ও বিজ্ঞ আলেম এর নিকট থেকে হজ্জের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জেনে নিতে হবে, অন্যথা হজ্জে ভুল হলে তা গ্রহণযোগ্য হজ্জ বলে বিবেচিত হবে না।
৩. প্রত্যেক মাসে তিনটি ছিয়াম, আরাফার দিনের ও আশূরার ছিয়ামের ফযীলত:
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ فَهَذَا صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ.
আবূ ক্বাতাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রতি মাসের তিনটি ছিয়াম, এক রামাযান থেকে আরেক রামাযান পর্যন্ত, এটা সারা বছর ছিয়াম রাখার মতো। আর আরাফার দিনের ছিয়ামের ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি পূর্বের ও পরের বছরের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। আর আশূরার দিনের ছিয়ামের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট আমি আশা রাখি যে, তিনি এর দ্বারা পূর্বের বছরের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন’।[3]
শিক্ষা: আরাফা ও মুহাররমের ছিয়াম বছরে বেশি ছওয়াব অর্জনের দুটি বোনাস। কাজেই জ্ঞানীরা কখনো বোনাস ছেড়ে দেয় না।
শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
[1]. আবূ দাঊদ, হা/২৪৩৮; তিরমিযী, হা/৭৫৭; ইবনু মাজাহ, হা/১৭২৭; মিশকাত, হা/১৪৬০, হাদীছ ছহীহ।
[2]. তিরমিযী, হা/৮১০; নাসাঈ, হা/৩৬৩০; ইবনু মাজাহ, হা/২৮৮৭; মিশকাত, হা/২৫২৪, হাদীছ ছহীহ।
[3]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২; মিশকাত, হা/২০৪৪।
