কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী, বায়তুল মাক্বদিস ও মসজিদে কুবায় ছালাত আদায়ের ফযীলত

post title will place here

১.মক্কার মসজিদে হারামে ছালাত আদায়ের ফযীলত:

عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ وَصَلَاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاه.

জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার এই মসজিদে ছালাত আদায় করা অন্য মসজিদের তুলনায় ১ হাজার গুণ উত্তম, তবে মক্কার মসজিদে হারাম ব্যতীত। মসজিদে হারামে ছালাত আদায় অন্য যে কোনো মসজিদে ছালাতের চেয়ে ১ লক্ষ গুণ বেশি ছওয়াব রয়েছে’।[1]

২. মসজিদে নববীতে ছালাত আদায়ের ফযীলত:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ t أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ صَلاَةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ صَلاَةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا المَسْجِدَ الحَرَامَ.

আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার এই মসজিদে ছালাত আদায় করা অন্য মসজিদের তুলনায় ১ হাজার গুণ উত্তম, তবে মক্কার মসজিদে হারাম ব্যতীত’।[2]

৩. বায়তুল মাক্বদিসে ছালাত আদায়ের ফযীলত:

আবূ যার রাযিয়াল্লাহু আনহু একদা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেন, বায়তুল মাক্বদিসে ছালাত আদায় উত্তম, না রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে ছালাত আদায় করা উত্তম? তখন তিনি বলেন, صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَرْبَعِ صَلَوَاتٍ فِيهِ ‘বায়তুল মাক্বদিসে ছালাত আদায়ের মর্যাদা আমার এই মসজিদে ছালাতের চতুর্থাংশ’।[3]

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَمَّا فَرَغَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ مِنْ بِنَاءِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سَأَلَ اللَّهَ ثَلَاثًا حُكْمًا يُصَادِفُ حُكْمَهُ وَمُلْكًا لاَ يَنْبَغِى لأَحَدٍ مِنْ بَعْدِهِ وَأَلاَّ يَأْتِىَ هَذَا الْمَسْجِدَ أَحَدٌ لاَ يُرِيدُ إِلاَّ الصَّلاَةَ فِيهِ إِلاَّ خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ. فَقَالَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم أَمَّا اثْنَتَانِ فَقَدْ أُعْطِيَهُمَا وَأَرْجُو أَنْ يَكُونَ قَدْ أُعْطِىَ الثَّالِثَةَ.

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সুলায়মান আলাইহিস সালাম যখন বায়তুল মাক্বদিস তৈরির কাজ শেষ করেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট তিনটি বিষয় প্রার্থনা করেন— ১. সুবিচার, যা আল্লাহর হুকুমের অনুরূপ; ২. এমন রাজত্ব, যা তাঁর পরে কাউকে দেওয়া হবে না এবং ৩. যে ব্যক্তি শুধু ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে বায়তুল মাক্বদিসে আগমন করবে, সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে যাবে, যেমন সে মায়ের গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণের দিন নিষ্পাপ ছিল’। এরপর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘প্রথম দুটি তাকে দান করা হয়েছে এবং আশা করি তৃতীয়টিও তাকে দান করা হবে’।[4]

৪. মসজিদে কুবাছালাত আদায়ের মর্যাদা:

মহান আল্লাহ সেই মসজিদের প্রশংসা করে বলেন,لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَى مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَنْ تَقُومَ فِيهِ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ ‘তুমি সেখানে কখনো (ছালাত ক্বায়েম করতে) দাঁড়াবেন না। অবশ্যই যে মসজিদ প্রথম দিন থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাক্বওয়ার উপর, তা বেশি হক্বদার যে, আপনি সেখানে ছালাত ক্বায়েম করতে দাঁড়াবেন। সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন’ (আত-তাওবা, ৯/১০৮)

قَالَ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ أَتَى مَسْجِدَ قُبَاءَ فَصَلَّى فِيهِ صَلَاةً كَانَ لَهُ كَأَجْرِ عُمْرَةٍ.

সাহল ইবনু হুনায়ফ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ঘরে পবিত্রতা অর্জন (ওযূ) করার পর মসজিদে কুবায় গিয়ে (দুই রাকআত) ছালাত আদায় করে, তার জন্য একটি উমরা করার ছওয়াব রয়েছে’।[5]

শিক্ষা: যে মুসলিমের সামর্থ্য আছে, তার উচিত এসব মসজিদে বেশি বেশি সফর করা। কেননা এর মাধ্যমে সে আল্লাহ তাআলার দেওয়া নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারবে।

-মাহবূবুর রহমান মাদানী (রাজশাহী)*

* শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।


[1]. ইবনু মাজাহ, হা/১৪০৬, হাদীছ ছহীহ; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৬৯৪।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৯০; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৯৪।

[3]. বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান, হা/৩৮৪৯; আলবানী, মাওসূআতুল ই‘তিক্বাদ, ২/২৫৩।

[4]. ইবনু মাজাহ, হা/১৪০৮, হাদীছ ছহীহ।

[5]. ইবনে মাজাহ, হা/১৪১২।

Magazine