১. ফরয ছালাতের আগে ও পরে ১২ রাকআত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ছালাত আদায় করা:
عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا غَيْرَ فَرِيضَةٍ إِلَّا بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ أَوْ إِلَّا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ.
নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দিনে-রাতে (ফরয ছালাতের আগে ও পরে) ১২ রাকআত ছালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হবে’।[1]
শিক্ষা: পরকালীন পাথেয় সঞ্চয়ের জন্য ফরয ছালাতের আগে ও পরে যে সুন্নাত ছালাতসমূহ রয়েছে, সেগুলো আদায় করা আমাদের কর্তব্য। এসব সুন্নাত ছালাত সম্পর্কে হাদীছে বহু ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। কিছু সুন্নাত ছালাতের ফযীলত অন্যগুলোর তুলনায় অধিক। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত, এসব মর্যাদাপূর্ণ সুন্নাত ছালাত যথাযথভাবে আদায় করার প্রতি আন্তরিক যত্নশীল হওয়া।
২. ফজরের আগে দুই রাকআত সুন্নাতের শ্রেষ্ঠত্ব:
عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا.
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ফজরের আগের দুই রাকআত সুন্নাত পৃথিবী ও তার মধ্যবর্তী সকল বস্তু হতে উত্তম’।[2]
৩. যোহরের পূর্বে চার রাকআত এবং যুহার চার রাকআত ছালাতের শ্রেষ্ঠত্ব:
আবূ মূসা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,مَنْ صَلَّى الضُّحَى أَرْبَعًا وَقَبْلَ الْأُولَى أَرْبَعًا بُنِيَ لَهُ بِهَا بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ ‘যে ব্যক্তি চাশতের চার রাকআত এবং যোহরের পূর্বে চার রাকআত ছালাত আদায় করে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়’।[3]
আবূ ছালেহ মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ، يَعْدِلْنَ بِصَلَاةِ السَّحَرِ ‘যোহরের পূর্বে চার রাকআত ছালাত রাতের তাহাজ্জুদ ছালাতের সমান’।[4]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَحِمَ اللَّهُ امْرَءًا صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا.
ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আছর ছালাতের পূর্বে চার রাকআত ছালাত আদায় করবে, আল্লাহ তার উপর অনুগ্রহ করবেন’।[5]
৪. জুমআর দিন সকাল সকাল মসজিদে যাওয়ার ছওয়াব:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الجُمُعَةِ غُسْلَ الجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ حَضَرَتِ المَلاَئِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ.
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন নাপাকী থেকে গোসল করার মতো গোসল করবে, অতঃপর প্রথম প্রহরে মসজিদে গমন করবে, সে যেন একটি উট কুরবানী করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় প্রহরে গমন করবে, সে যেন একটি গরু কুরবানী করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় প্রহরে গমন করবে, সে যেন একটি দুম্বা কুরবানী করল। যে ব্যক্তি চতুর্থ প্রহরে গমন করবে, সে যেন একটি মুরগী উৎসর্গ করল। যে ব্যক্তি পঞ্চম প্রহরে গমন করবে, সে যেন একটি ডিম উৎসর্গ করল। অতঃপর ইমাম বের হয়ে এলে ফেরেশতাগণ উপস্থিত হয়ে যিকির-খুৎবা শুনতে বসে পড়েন’।[6]
শিক্ষা: উক্ত ছওয়াব নেওয়ার জন্য আমাদের অগ্রগামী হওয়া উচিত। কারণ মসজিদে আগে আগে যাওয়ার মাধ্যমে বিনামূল্যে উট, গরু, ছাগল ইত্যাদি কুরবানী বা ছাদাক্বা করার সুযোগ রয়েছে।
মাহবূবুর রহমান মাদানী (রাজশাহী)
শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭২৮; মিশকাত, হা/১১৫৯।
[2]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭২৫; মিশকাত, হা/১১৬৪।
[3]. আল-মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৪৭৫৩; সিলসিলা ছহীহা, হা/২৩৪৯।
[4]. শুআবুল ঈমান, হা/২৮০৮; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৪৩১।
[5]. আবূ দাঊদ, হা/১২৭১; তিরমিযী, হা/৪৩০; মিশকাত, হা/১১৭০, ‘হাসান’।
[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৮৮১; ছহীহ মুসলিম, হা/৮৫০।
