কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

রামাযান ও ছিয়াম সংক্রাতন্ত

post title will place here

১. রামাযান মাসের ছিয়াম পালনকারীর শ্রেষ্ঠত্ব

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি ছিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের প্রতি তা ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাক্বী হতে পার’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৩)। অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন,

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ

‘রামাযান মাস— যার মধ্যে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে মানুষের পথপ্রদর্শক, হেদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে ছিয়াম রাখে। আর যে অসুস্থ কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে’ (আল-বাক্বারা, ২/১৮৫)

২. রামাযান মাসে উমরাহ সম্পাদন করার ছওয়াব

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِامْرَأَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَإِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فَاعْتَمِرِي فَإِنَّ عُمْرَةً فِيهِ تَعْدِلُ حَجَّةً وفي رواية قال فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ تَقْضِي حَجَّةً أَوْ حَجَّةً مَعِي.

ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনছারী মহিলাকে বললেন, ‘যখন রামাযান আসবে, তখন আপনি উমরাহ আদায় করবেন। কেননা রামাযান মাসে একটি উমরাহ হজ্জের সমতুল্য। অন্য বর্ণনায় বলেছেন, রামাযান মাসে উমরাহ আদায় করা একটি ফরয হজ্জ আদায় করার সমান অথবা বলেছেন, আমার সাথে একটি হজ্জ আদায় করার সমান (ছওয়াব রয়েছে)’।[1]

শিক্ষা: উমরাহ আদায় করা সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার ফরয। তাই তা রামাযান মাসে আদায় করাতে শ্রেষ্ঠত্ব বেশি রয়েছে।

৩. একটি ছিয়ামের শ্রেষ্ঠত্ব

 عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَعَّدَ اللهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا.

আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ যদি আল্লাহর রাস্তায় একদিন ছিয়াম পালন করে, তাহলে আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন থেকে ৭০ (সত্তর) বছরের রাস্তার দূরত্বে সরিয়ে নেন’।[2]

শিক্ষা: কাজেই ছহীহ সুন্নাহ মতে, যে সমস্ত নফল ছিয়াম রাখার ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, তা পালন করা মুসলিমের জন্য কর্তব্য; অবহেলা করা উচিত নয়।

৪. ছিয়াম পালনকারীকে ইফতার করানোর মর্যাদা

عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا.

যায়েদ ইবনু খালেদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ছিয়ামপালনকারীকে ইফতার করাবে, সে তাদের সমপরিমাণ ছওয়াব পাবে। কিন্তু তাদের ছওয়াব থেকে কোনো কমতি হবে না’।[3]

শিক্ষা: ইফতার যেকোনো হালাল বস্তু দিয়ে করানো যেতে পারে। যেমন- খেজুর, পানি, রুটি, ফলমূল ইত্যাদি। পেট ভরে খাওয়াতে হবে এমন শর্ত নেই, তবে কেউ খাওয়াতে পারলে উত্তম। কারও নিকট ইফতার করাতে নিজের ছিয়ামের কোনো সমস্যা বা ছওয়াবের কমতি তো নেই, বরং এর বিনিময়ে অন্যকে ছওয়াব দানে সহযোগিতা করা হয়।

 

মাহবূবুর রহমান মাদানী (রাজশাহী)

শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।

[1]. ছহীহ বুখারী, হা/১৭৮২, ১৮৬৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১২৫৬, ১২৫৭।

[2]. ছহীহ বুখারী, হা/২৮৪০, ২০৫৩।

[3]. তিরমিযী, হা/৮০৭; ইবনু মাজাহ, হা/১৭৬৬, হাদীছ ছহীহ।

Magazine