১. সূরা আল-ইখলাছ পাঠের ফযীলত:
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ فِي لَيْلَةٍ ثُلُثَ الْقُرْآنِ؟ قَالُوا: وَكَيْفَ يَقْرَأْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ؟ قَالَ: قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ.
আবুদ দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ কি প্রতি রাতে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অক্ষম?’ ছাহাবীগণ উত্তর করলেন, কী করে প্রতি রাতে এক-তৃতীয়াংশ কুরআন পড়বে? তিনি বললেন, ‘সূরা قُلْ هُوَ الله أحد কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান’।[1] অর্থাৎ এতে কুরআনের মৌলিক তিন প্রকার জ্ঞানের আলোচনা রয়েছে— ক. তাওহীদ বা একত্ব, খ. আদেশ-নিষেধ ও আহকাম বা বিধি-বিধান এবং গ. কিচ্ছা বা অতীতের সংবাদ ও উপদেশমালা। আর এই সূরাতে তাওহীদের বিবরণ রয়েছে। সুতরাং এটা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।
আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন,إِنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُحِبُّ هَذِهِ السُّورَةَ: قُلْ هُوَ الله أحد একদা এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই সূরা قُلْ هُوَ الله أحد-কে ভালোবাসি’। তখন তিনি বললেন, إِنَّ حُبَّكَ إِيَّاهَا أَدْخَلَكَ الْجَنَّةَ ‘তোমার উক্ত সূরাকে ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দিবে’।[2]
২. সূরা আল-কাফিরূন পাঠের ফযীলত:
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْ يَا أَيُّهَا الكَافِرُونَ تَعْدِلُ رُبُعَ القُرْآنِ.
ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘(ছওয়াবের দিক দিয়ে) সূরা قُلْ هُوَ الله أحد’ কুরআনের এক-চতুর্থাংশের সমান’।[3]
একদা ছাহাবী নাওফাল রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি জিনিস শিখিয়ে দিন, যা আমি শয্যা গ্রহণকালে পড়তে পারি। তিনি বললেন, قُلْ يَا أَيُّهَا الكَافِرُونَ পড়বে। কেননা এর মাধ্যমে শিরক থেকে নিরাপত্তা লাভ করা যায়’।[4]
শিক্ষা: উক্ত সূরাদ্বয়ের অত্যধিক মর্যাদার কারণেই তাওয়াফ শেষে দুই রাকআত, ফজর ও মাগরিবের দুই রাকআত সুন্নাতে, তিন রাকআত বিশিষ্ট বিতর ছালাতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকআতসহ আরও অন্যান্য সুন্নাত ছালাতে সূরা আল-কাফিরূন ও আল-ইখলাছ পড়ার কথা হাদীছে এসেছে।
৩. সূরা আল-মুলক পাঠের ফযীলত:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: .إِنَّ سُورَةً مِنَ القُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ، وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ المُلْكُ.
আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কুরআন মাজীদে ৩০ আয়াতের একটি সূরা আছে, যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছে, ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। সেই সূরাটি হচ্ছে تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ المُلْكُ’।[5] সম্ভবত আল্লাহ তাআলা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উক্ত ঘটনা জানিয়েছেন।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُورَةُ تَبَارَكَ هِيَ الْمَانِعَةُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ.
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সূরা আল-মুলক তার তেলাওয়াতকারীর জন্য কবরের আযাব থেকে বাধা প্রদানকারী’।[6]
মাহবূবুর রহমান মাদানী (রাজশাহী)
শিক্ষক, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/৫০১৫; ছহীহ মুসলিম, হা/৮১১; মিশকাত, হা/২১২৭।
[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৪৯৭; মিশকাত, হা/২০২৭।
[3]. তিরমিযী, হা/২৮৯৪; মিশকাত, হা/২০৫২, এই বর্ণনাটি যদিও দুর্বল কিন্তু অন্য বর্ণনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য।
[4]. আহমাদ, হা/২৪০০৯; তিরমিযী, হা/৩৪০৩, হাসান।
[5]. আহমাদ, হা/৭৯৭৫; তিরমিযী, হা/২৮৯১; আবূ দাঊদ, হা/১৪০০; ইবনু মাজাহ, হা/৩৭৮৬; মিশকাত, হা/২০৪৯, হাসান।
[6]. হাকেম, হা/৩৮৩৯; সিলসিলা ছহীহা, হা/১১৪০, হাসান ছহীহ।
