ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া এবং জাগ্রত হওয়ার পর যে আমলগুলো রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন—
১. মিসওয়াক করতেন: হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে (ছালাতের জন্য) উঠতেন, তখন মিসওয়াক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতেন।[1]
২. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর দু‘আ পড়তেন: হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা পোষণ করতেন, তখন বলতেন,
بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনার নামেই মরি, আপনার নামেই জীবিত হই’।
আর তিনি যখন নিদ্রা থেকে জেগে উঠতেন তখন বলতেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُور
অর্থ: ‘সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুদানের পর পুনরায় আবার আমাদের পুনর্জীবিত করেছেন’।[2]
৩.মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের চিহ্ন মুছতেন।
৪.আসমানের দিকে দৃষ্টি দিতেন।
৫.সূরা আল-ইমরানের শেষ ১০ আয়াত পাঠ করতেন: এই তিনটি সুন্নাত ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী মায়মূনা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর নিকট রাতে অবস্থান করেছিলেন। মায়মূনা রাযিয়াল্লাহু আনহা হলেন তার খালা। তিনি বলেন, আমি বিছানায় আড়াআড়ি শুয়ে পড়লাম এবং রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার পরিবার লম্বা দিকে শয়ন করলেন। এরপর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিদ্রামগ্ন হলেন। অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামান্য আগে কিংবা সামান্য পরক্ষণে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং হাত দিয়ে মুখ থেকে ঘুমের ভাব মুছতে মুছতে বসলেন। তারপর সূরা আল-ইমরানের শেষ ১০ আয়াত পাঠ করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের নিকট গিয়ে তা থেকে উত্তমরূপে ওযূ করলেন। এরপর ছালাতে দণ্ডায়মান হলেন।[3] ছহীহ মুসলিমের অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠলেন এবং বাইরে গিয়ে আকাশের দিকে তাকালেন, এরপরে সূরা আল-ইমরানের এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন,
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ
অর্থ: ‘আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্যে বহু নিদর্শন রয়েছে...’ (আলে ইমরান, ৩/১৯০)।
ঘুমের ভাব দূর করার জন্য নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত দিয়ে চেহারা মুছতেন অর্থাৎ ঘুমের প্রভাব দূর করার জন্য হাত দিয়ে চোখ মুছতেন।
ছহীহ মুসলিমে আরেকটি বিশ্লেষণমূলক বর্ণনা হাদীছে উল্লখিত হয়েছে, যে ব্যক্তি এই সুন্নাতটি পালন করতে চায়, সে إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ এ আয়াত থেকে শুরু করে সূরার শেষ পর্যন্ত পড়বে।
ওযূ করার পূর্বে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্ত আয়াতগুলো পাঠ করা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ওযূ ছাড়া কুরআন তেলাওয়াত করা জায়েয।
৬.দুই হাত তিনবার ধৌত করতেন: আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে উঠবে, তখন সে যেন তিনবার হাত না ধোয়া পর্যন্ত তার হাত পাত্রে না ঢুকায়। কারণ সে জানে না যে, তার হাত রাতে কোথায় ছিল’।[4]
৭.তিনবার নাকে পানি দিতেন ও নাক ঝেড়ে পরিস্কার করতেন: আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জাগ্রত হবে সে যেন নাকে পানি দিয়ে তিনবার নাক ঝেড়ে নেয়। কেননা শয়তান তার নাকের ভেতর রাত্রি যাপন করে’।[5] ছহীহ বুখারীর অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে উঠবে, অতঃপর ওযূ করবে, সে যেন নাকে পানি দিয়ে তিনবার নাক ঝেড়ে নেয়।[6]
৮.ওযূ করতেন: ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর পূর্বোল্লিখিত হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ছালাত আদায় করতে চাইতেন, তখন তিনি একটি ঝুলন্ত মশকের কাছে দাঁড়াতেন এবং তা থেকে পানি উঠিয়ে ওযূ করতেন।
[1]. ছহীহ বুখারী, হা/২৪৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৫।
[2]. ছহীহ বুখারী, হা/৬৩২৪; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭১১।
[3]. ছহীহ বুখারী, হা/১৮৩; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৬৩।
[4]. ছহীহ বুখারী, হা/১৬২; ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৮।
[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৩২৯৫; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৮।
[6]. ছহীহ বুখারী, হা/৩২৯৫।
