কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

সুন্নাতে রাতেবা ও ফজরের সুন্নাত

post title will place here

মানুষ দিনে ও রাতে নিয়মিত যে সুন্নাতে রাতেবা আদায় করে, তার মধ্যে ফজরের সুন্নাতই প্রথম এবং এর মাঝেও বেশ কিছু সুন্নাত নিহিত রয়েছে। সেগুলো আলোচনা করার পূর্বে সুন্নাতে রাতেবার সাথে সংশ্লিষ্ট সুন্নাত সম্পর্কে আলোচনা করা জরুরী।

সুন্নাতে রাতেবা:

ফরয ছালাতের সাথে সংযুক্ত স্থায়ী সুন্নাত অর্থাৎ ফরয ছালাতের আগে বা পরে যে ছালাত নিয়মিত পড়ার জন্য গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, সেগুলোই সুন্নাতে রাতেবা। আর তা হলো ১২ রাকআত। উম্মু হাবীবা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে ১২ রাকআত ছালাত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে’।[1]

হাদীছটি তিরমিযীতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, যোহরের পূর্বে ৪ রাকআত ও পরে ২ রাকআত, মাগরিবের পরে ২ রাকআত, এশার পরে ২ রাকআত এবং ফজরের পূর্বে ২ রাকআত।[2]

সুন্নাতে রাতেবা বাড়িতে আদায় করা উত্তম: যায়েদ ইবনে ছাবেত রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঘরেই ছালাত আদায় করো। কেননা ফরয ছালাত ছাড়া লোকেরা ঘরে যে ছালাত আদায় করে, তা-ই উত্তম’।[3]

সুন্নাতে রাতেবা মধ্যে যে সুন্নাত বেশি গুরুত্বপূর্ণ:

সুন্নাতে রাতেবার মধ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত হচ্ছে ফজরের সুন্নাত। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো নফল ছালাতকে ফজরের দুই রাকআত সুন্নাতের চেয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন না।[4] আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ফজরের দুই রাকআত (সুন্নাত) ছালাত দুনিয়া ও তার মধ্যে সবকিছুর চেয়ে উত্তম’।[5]

ফজরের সুন্নাতের নিজস্ব কয়েকটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

১. ফজরের সুন্নাত সফর ও মুক্বীম উভয় অবস্থায় আদায় করার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। অপরদিকে যোহর, মাগরিব এবং এশার সুন্নাতে রাতেবাগুলো সফর অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া সুন্নাত।

২. ছওয়াবের দিক থেকে ফজরের সুন্নাত দুনিয়া ও তার সব কিছু থেকে উত্তম।

৩. ফজরের সুন্নাত হালকা করে আদায় করা সুন্নাত। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাকআত (সুন্নাত) ছালাত এত হালকাভাবে আদায় করতেন যে, আমি বলতাম, তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ছালাতের দুই রাকআতে সূরা ফাতেহা পড়েছেন?[6]

তবে শর্ত হচ্ছে, হালকার কারণে যেন ছালাতের রুকন ও ওয়াজিব ছুটে না যায় অথবা মুরগির ঠোকর মারার মতো না হয়ে যায়। ‍যদি এরূপ হয়, তাহলে নিষিদ্ধের মধ্যে পড়ে যাবে।

৪. ফজরের সুন্নাতে সূরা ফাতেহার পর প্রথম রাকআতে সূরা কাফেরূন এবং ‍দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ইখলাছ পড়া সুন্নাত অথবা সূরা ফাতেহার পর প্রথম রাকআতেقُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (আল-বাক্বারা, ২/১৩৬)। আর ‍দ্বিতীয় রাকআতেقُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَىٰ كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ পাঠ করা সুন্নাত (আলে ইমরান, ৩/৬)। এই সুন্নাতগুলো বিভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে।

৫. ফজরের সুন্নাত আদায় করার পর বাড়িতে ডান কাতে সামান্য শুয়ে যাওয়া সুন্নাত; বিশেষ করে যারা রাতে তাহাজ্জুদ পড়েছে, তাদের জন্য। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাকআত (সুন্নাত) ছালাত আদায় করার পর ডান কাতে শয়ন করতেন।[7]


[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭২৮।

[2]. তিরমিযী, হা/৪১৫, তিনি হাদীছটিকে হাসান ছহীহ বলেছেন।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৭২৯০; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৮১।

[4]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৯৬; ছহীহ মুসলিম, হা/৭২৪।

[5]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭২৫।

[6]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/৭২৪।

[7]. ছহীহ বুখারী, হা/১১৬০; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৩৬।

Magazine