আযানের সময়ে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত বেশ কিছু সুন্নাত রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সুন্নাত নিম্নরূপ:
১.মুয়াযযিনের অনুসরণ করা:
কেউ আযান শুনলে, মুয়াযযিন যা বলে তা বলা সুন্নাত। তবে মুয়াযযিন ‘হাইয়্যা আলাছ ছালাহ’ এবং ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বললে, শ্রোতা ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লাহ বিল্লাহ’ বলবে। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আছ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, ‘তোমরা যখন মুয়াযযিনকে আযান দিতে শোনো, তখন সে যা বলে, তোমরাও তাই বলো...’।[1] উমার ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুয়াযযিন যখন ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’ বলে, তখন তোমাদের কোনো ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলে, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’। যখন মুয়াযযিন বলে, ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, এর জবাবে সেও বলে, ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। অতঃপর মুয়াযযিন বলে, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ’, এর জবাবে সে বলে, ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ’। অতঃপর মুয়াযযিন বলে, ‘হাইয়্যা আলাছ ছালাহ’, এর জবাবে সে বলে, ‘লা হাওলা ওয়ালা-কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’। অতঃপর মুয়াযযিন বলে, ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’, এর জবাবে সে বলে, ‘লা হাওলা ওয়ালা-কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’। অতঃপর মুয়াযযিন বলে, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’, এর জবাবে সে বলে, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’। অতঃপর মুয়াযযিন বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লালাহ’, এর জবাবে সে বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। আযানের এ জবাব দেওয়ার কারণে সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে’।[2]
ফজরের ছালাতের আযানে মুয়াযযিন যখন ‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান নাঊম’ বলবে, শ্রোতাও তাই বলবে।
বি.দ্র. ফজরের ছালাতের আযানে ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ এর পর ‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান নাঊম’ দুইবার বলা সুন্নাত।
২.আযানের দুই সাক্ষ্য বাক্যের পর দু‘আ পাঠ করা:
আযানে মুয়াযযিন যখন ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ’ বলে, তখন শ্রোতার জন্য নিম্নে বর্ণিত দু‘আ পাঠ করা সুন্নাত। সা‘দ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুয়াযযিন যখন আযানে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ’ বলা শেষ করবে, তখন যে ব্যক্তি এই দু‘আ পড়বে,
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا
অর্থ: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূল হিসেবে ও ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি; তাহলে তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে’।[3]
৩.আযান শেষে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠ করা:
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আছ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা যখন মুয়াযযিনকে আযান দিতে শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বলো। অতঃপর আমার উপর দরূদ পাঠ করো। কেননা যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে ওসীলা প্রার্থনা করো। কেননা ওসীলা জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেওয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা করবে, তার জন্য (আমার) শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে’।[4]
৪.আযানের পর হাদীছে বর্ণিত দু‘আ পাঠ করা:
জাবের ইবনু আব্দিল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আযান শুনে দু‘আ করে,
اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! এ পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত ছালাতের তুমিই মালিক, মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকামে মাহমূদে পৌঁছে দিন, যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন। কিয়ামতের দিন সে আমার শাফাআত লাভের অধিকারী হবে’।[5]
৫.আযানের পরে দু‘আ করা:
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! মুয়াযযিনরা তো আমাদের উপর মর্যাদার অধিকারী হয়ে যাচ্ছে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘মুয়াযযিনরা যেরূপ বলে থাকে, তোমরাও সেরূপ বলবে। অতঃপর আযান শেষ হলে (আল্লাহর নিকট) চাও, তোমাকে দেওয়া হবে (তোমার দু‘আ ক্ববুল হবে)’।[6] আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আযান ও ইক্বামতের মধ্যবর্তী সময়ের দু‘আ আল্লাহ তাআলার নিকট হতে ফেরত দেওয়া হয় না’ অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা কবুল করেন।[7]
[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৪।
[2]. ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৫।
[3]. ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৬।
[4]. ছহীহ মুসলিম, হা/৩৮৪।
[5]. ছহীহ মুসলিম, হা/৬১৪।
[6]. আবূ দাঊদ, হা/৫২৪; ইবনু হাজার হাদীছটিকে ‘হাসান’ বলেছেন, নাতায়েযুল আফকার, ১/৩৬৭; ইমাম আলবানীও ‘হাসান’ বলেছেন, ছহীহ আল-কালামুত তাইয়িব, পৃ. ৭৩।
[7]. নাসাঈ, হা/৯৮৯৫; ইবনু খুযায়মা হাদীছটিকে ‘ছহীহ’ বলেছেন, ১/২২১, ৪২৫।
