উত্তর : আউয়াল ওয়াক্তে রুমে বন্ধু-বান্ধব বা আশে-পাশের কাউকে নিয়ে জামা‘আত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে হবে। যাতে করে জামা‘আতের নেকী ও আউয়াল ওয়াক্তের নেকী দু‘টিই পাওয়া যায়। আবু যার রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন, ‘যখন তোমার শাসকগণ ছালাতকে মেরে ফেলবে অথবা তার নির্ধারিত সময় হতে বিলম্ব করবে, তখন তুমি কী করবে? আমি বললাম, আপনি আমাকে কী হুকুম দিচ্ছেন? তিনি বললেন, ‘ছালাতকে তার নির্ধারিত সময়েই আদায় করবে। আর যদি তাদের জামা‘আত পাও, তবে তাদের সাথেও ছালাত পড়ে নিবে। তবে তা নফল হিসাবে গণ্য হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৪৮; মিশকাত, হা/৬০০)। ইয়াযীদ ইবনে আসওয়াদ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর বিদায় হজ্জে উপস্থিত ছিলাম। আমি তাঁর সাথে মসজিদে খায়ফে ফজরের ছালাত আদায় করলাম। যখন তিনি তাঁর ছালাত সম্পন্ন করে পিছনে ফিরলেন, তখন দুই জন লোক জনগণের শেষ প্রান্তে আছে, যারা তাঁর সাথে ছালাত আদায় করেনি। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তাদেরকে আমার নিকট নিয়ে এসো’। তাদেরকে নিয়ে আসা হলো। এ সময় ভয়ে তাদের শরীর কাঁপছিল। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমাদের সাথে ছালাত আদায় করতে তোমাদের কিসে বাধা দিল? তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা আমাদের বাসায় ছালাত আদায় করে এসেছি। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এরূপ করবে না। তোমরা যখন তোমাদের বাসায় ছালাত আদায় করবে, অতঃপর জামা‘আত চলা অবস্থায় মসজিদে উপস্থিত হবে, তখন তাদের সাথে ছালাত আদায় করবে। কেননা এটা তোমাদের জন্য নফল হবে’ (আবুদাঊদ, হা/৫৯০-৫৯১; তিরমিযী, হা/২১৯; নাসাঈ, হা/৮৫৮; মিশকাত, হা/১১৫২)।
-নাহিদুল ইসলাম
রাজ ছাত্রাবাস, বগুড়া।
