কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২৬) : কাদিয়ানীদের ব্যাপারে শারঈ বিধান কী?

উত্তর : ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের পরিকল্পনায় ভারত উপমহাদেশে মুসলিমদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করা এবং জিহাদ থেকে বিমুখ করার লক্ষ্যে কাদিয়ানী ফেরকার উত্থান ঘটে। মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮) ছিল এই জঘন্য মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা। পাঞ্জাব প্রদেশের ধর্ম ও দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকারী ইংরেজদের অনুগত একটি পরিবারে তার বেড়ে উঠা। যার কারণে ইংরেজরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে মানুষকে জিহাদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসাবে এই মতবাদের জন্ম দেয়। কাদিয়ানীদের কিছু ভ্রান্ত আক্বীদা নিমেণ তুলে ধরা হলো :

১. আল্লাহ সম্পর্কে তার আক্বীদা : মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী লিখেছেন, ‘আমি স্বপ্নে দেখেছি আমিই আল্লাহ’ (আয়েনায়ে কামালাতে মির্জা, পৃ. ৫৬৪-৫৬৫; কাদিয়ানী মাযহাব, পৃ. ৩২৮)।

স্বপ্ন দেখার জন্য ঘুমাতে হয়। অথচ কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, তাঁকে তন্দ্রা অথবা নিদ্রা স্পর্শ করে না’ (বাক্বারা, ২৫৫)।

মির্জা কাদিয়ানীর বইতে আছে, ‘আল্লাহ তাকে বলেছেন ‘হে আমার ছেলে, শোনো!’ (গোলাম আল বুশরা, ১/৪৯; ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ, পৃ. ৩০৮)।

অথচ আল্লাহ বলেছেন, ‘তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি’ (ইখলাছ, ৩)।

২. রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তার আক্বীদা : মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী নিজ বইতে লিখেছেন, রাসূলুল্লাহু ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী নন, বরং গোলাম আহমাদ সর্বশেষ নবী’ (হাক্বীক্বাতুন নবুঅত, পৃ. ৮২)।

অথচ কুরআনে এসেছে ‘মুহাম্মাদ তোমাদের কারও পিতা নন বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ’ (আহযাব, ৪০)।

এক হাদীছে এসেছে, শীঘ্রই আমার উম্মতের মাঝে ৩০ জন মিথ্যুকের আবির্ভাব ঘটবে, তারা প্রত্যেকেই অমূলক দাবি করবে যে, সে আল্লাহর নবী। অথচ আমিই সর্বশেষ নবী, আমার পরে কোনো নবী নেই’ (আবুদাঊদ, হা/৪২৫২; মিশকাত, হা/৫৪০৬)।

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ে দ্বিতীয় খলীফা, মির্যা কাদিয়ানীর বড় ছেলে মির্যা বশীরুদ্দীন মাহমূদ বলেছে, ‘রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে একজন কেন, আমার দাবি তাঁর পরে হাজারো নবী আসতে পারে’ (আনোয়ারে খেলাফত, পৃ. ৬২)।

৩. জিহাদের ব্যাপারে কাদিয়ানীদের আক্বীদা : কাদিয়ানীর বইতে আছে ‘জিহাদের হুকুম রহিত হয়ে গেছে’ (হাশিয়ায়ে আরবাঈন, পৃ. ১৫৪, আদইয়ানে বাতেলা, পৃ. ১৩৩)।

অথচ কুরআনে এসেছে ‘তোমরা তাদের (কাফেরদের) বিরুদ্ধে জিহাদ করতে থাকো যতক্ষণ না ফিতনা (কুফরী কর্মকাণ্ড) দূরীভূত না হয়...’ (আনফাল, ৩৯)।

৪. তিনি নিজেকে জুলকারনাইন হওয়ার হাস্যকর দাবি করেছেন (বারাহীনে আহমাদিয়া, পৃ. ৯৭; ইসলামী আক্বীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ, পৃ. ৩২৯)।

৫. তিনি নিজেকে হিন্দুদের শ্রী কৃষ্ণ অবতার হওয়ার দাবী করেছেন (কাদিয়ানী মাযহাব, পৃ. ৪৩২; ইসলামী আক্বীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ, পৃ. ৩২৮)। (নাঊজুবিল্লাহ)

কোনো ব্যক্তির মাঝে যদি আল্লাহ, তার রাসূল, অন্যান্য নবী, জিহাদ ইত্যাদি বিষয়ে এমন বিশ্বাস থাকে তাহলে তার কাফির হওয়ার ব্যাপারে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ থাকে না। তাই কাদিয়ানীরা দ্বীন থেকে বহির্ভূত কাফির। আল্লাহ তা‘আলা এই ভ্রান্তদের সুপথে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন না হয় ধ্বংস করুন।

-আল-আমিন

ক্ষেতলাল, জয়পুরহাট।


Magazine