কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩৭) : গ্রামীণ ব্যাংকের জনৈক কর্মকর্তা ২০২০ সালে হজ্জে যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে জানতে পারলেন তার বেতনের টাকা দিয়ে হজ্জ হবে না। তখন তিনি তার বাবার জমি বিক্রি করে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এখন তিনি চাকরি ছেড়ে দিবেন মর্মে সিদ্ধান্ত নেন। এমতাবস্থায় তিনি যে পেনশন পাবেন সে টাকা তার জন্য বৈধ হবে কি? তা ছাড়া তার উত্তরাধিকারের জন্য তার সম্পদ হালাল হবে কি?

উত্তর : সুস্পষ্ট সূদী লেনদেনের সাথে জড়িত ব্যাংকে চাকরি করা হারাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূদের সাথে জড়িত সকলকে অভিশপ্ত হিসাবে উল্লেখ করেছেন (মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৭২৫; জামেঊল হাদীছ, হা/১৮৩৮৩)। এমন চাকরি হতে উপার্জিত অর্থ, বেতন-ভাতা, পেনশনসহ যাবতীয় জিনিস সম্পূর্নরূপে হারাম। কেননা যে জিনিসের মূল হারাম তার উপার্জিত অর্থও হারাম। আর এটাই শরী‘আতের মূলনীতি। যেমন কুকুর ও বিড়াল হারাম এবং তার মূল্যও হারাম (আবুদাঊদ, হা/৩৪৭৯)। ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমানের দিকে তাকালেন এবং বললেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের ধ্বংস করুন। তাদের উপর চর্বি হারাম করা হয়েছে, অথচ তারা তা বিক্রয় করে এবং তার মূল্য ভক্ষণ করে। নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা যখন কোনো বস্ত্তকে হারাম ঘোষণা করেন, তখন তার মুল্যকেও হারাম করে দেন’ (ছহীহ ইবনে হিববান, হা/৪৯৩৮)। সুতরাং তার উপার্জিত টাকা যেহেতু হারাম সেহেতু তার পেনশনও হারাম। এসব অর্থ কোনো সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে কোনো ছওয়াবের আশা ব্যতীত ব্যয় করতে হবে। কেননা, এমন সম্পদ দান করলে তা কবুল হবে না (ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৯৩)।

-আব্দদুর রউফ মন্ডল

কালাই, জয়পুরহাট।


Magazine