উত্তর : দান করে দু‘আ চাওয়া যেতে পারে। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে চলে যেতে উদ্যত হলে বাড়ির মালিক তাঁর ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে তাদের জন্য দু‘আ করতে বলেন। এ মর্মে আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতার নিকট পৌঁছলেন। আমরা তাঁর নিকট কিছু রুটি ও খেজুর, পনির ও ঘি মিশ্রিত এক জাতীয় মিষ্টান্ন পেশ করলাম। তিনি তার কিছু খেলেন। অতঃপর তাঁর নিকট কিছু খেজুর উপস্থিত করা হলো। তখন তিনি তা খেতে লাগলেন এবং তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলী মিলিয়ে তাদের মধ্যখান দিয়ে তার বিচি ফেলতে লাগলেন। অপর বর্ণনায় রয়েছে, তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলীদ্বয়ের পিঠের দিক দিয়ে বিচি ফেলতে লাগলেন। অতঃপর তাঁর নিকট কিছু পানীয় আনা হলো এবং তিনি তা পান করলেন। অতঃপর আমার পিতা তাঁর সওয়ারীর লাগাম ধরে বললেন, আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট কিছু দু‘আ করুন। তখন তিনি বললেন, اللهم بَارِكْ لَهُمْ فِيْمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ ‘হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে যা দান করেছেন তাতে আপনি বরকত দান করুন এবং তাদেরকে মাফ করুন ও দয়া করুন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২০৪২; মিশকাত, হা/২৪২৭)। তবে কোনো প্রকার দাবী-দাওয়া ছাড়াই একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে দান করা উত্তম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আহার্যের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও তারা অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীকে অন্ন দান করে। আর বলে, শুধু আল্লাহর সস্ত্তষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে খাবার দান করি, আমরা তোমাদের কাছ থেকে প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়’ (আদ-দাহর, ৭৬/৮)।
হাসিবুর রহমান
পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।
