উত্তর: ইলমে দ্বীন অর্জনকারী ছাত্রের উচিত এই নিয়্যতে পড়াশোনা করা যে, সে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য অর্জন করবে, উপকারী জ্ঞান অর্জন করবে, নিজের অজ্ঞতা দূর করবে এবং মুসলিমদের উপকারে আসবে। এছাড়াও এর সঙ্গে আরো অনেক উত্তম নিয়্যত থাকতে পারে, যার মাধ্যমে সে আল্লাহ তাআলার নিকট ছওয়াব ও মর্যাদা লাভ করবে। এর সঙ্গে যদি সে দুনিয়াবী কোনো উপকারের নিয়্যতও করে, যেমন- চাকরি পাওয়া বা বেতন অর্জন করা তাতে কোনো দোষ নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা ইবাদতের পাশাপাশি দুনিয়াবী উপকার অর্জনের অনুমতি দিয়েছেন, যেমন- হজ্জে ব্যবসা করা বৈধ করেছেন এবং জিহাদে গনীমতের মাল অর্জনের অনুমতি দিয়েছেন। তবে নিষিদ্ধ হলো, যে ব্যক্তি শুধুমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে জ্ঞান অর্জন করে, এমন ব্যক্তির ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে, যেমন- রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান অর্জন করে, যা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা উচিত; অথচ সে তা শুধুমাত্র দুনিয়াবী স্বার্থের জন্য শেখে, তাহলে কিয়ামতের দিনে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না’ (আবূ দাঊদ, হা/৩৬৬৪; ইবনু মাজাহ, হা/২৫২)। এই অবস্থায় চিন্তা থেকে মুক্তির উপায় হলো- (১) শারঈ ইলম (দ্বীনী জ্ঞান) অর্জনের চেষ্টা করা এবং এতে নিয়্যত খাঁটি রাখা অর্থাৎ জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য যেন আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি হয়, মানুষকে দেখানোর জন্য বা খ্যাতির জন্য না হয়। (২) আল্লাহ তাআলার উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট’ (আত-তালাক, ৬৫/৩)। তিনি আরো বলেন, ‘আর যমিনে বিচরণকারী সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই’ (হূদ, ১১/৬)। (৩) এ কথা স্মরণ করা যে, আল্লাহ তাআলা জ্ঞান অর্জনের উপর যে বিশাল মর্যাদা ও পুরস্কার নির্ধারণ করেছেন, তা কত মহান। (৪) দু‘আ করা। যখন চিন্তা বেশি হয়, তখন এই দু‘আ পড়া, اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن‘হে আল্লাহ! আমি উদ্বেগ ও দুঃখ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৪২৫)। নিয়মিত ছালাত, কুরআন তেলাওয়াত এবং আল্লাহর স্মরণ মনকে শান্ত করে ইত্যাদি। শারঈ ইলম (দ্বীনী জ্ঞান) অর্জনের পাশাপাশি তার মাধ্যমে চাকরি ও বেতন পাওয়ার আশা রাখাতে কোনো দোষ নেই। তাতে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ের কল্যাণ একসাথে অর্জন হবে, ইন-শা-আল্লাহ!
প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
