উত্তর : উপার্জন হারাম হলে আল্লাহ তা‘আলা ইবাদত কবুল করবেন না। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু কবুল করেন না। আল্লাহ তা‘আলা রাসূলগণকে যে আদেশ দিয়েছেন মুমিনগণকেও সে আদেশ দিয়েছেন। যেমন রাসূলগণকে বলেছেন, ‘হে রাসূলগণ! আপনারা পবিত্র হালাল রূযী খান এবং নেক আমল করুন’ (মুমিনূন, ১২)। মুমিনগণকে বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আমার দেওয়া পবিত্র রিযিক হতে খাও’ (বাক্বারাহ, ১৭২)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) উল্লেখ করলেন, ‘এক ব্যক্তি দূর-দূরান্তে সফর করছে। তার মাথার চুল এলোমেলো, শরীরে ধুলা-বালি, এমন অবস্থায় সে উভয় হাত আসমানের দিকে উঠিয়ে কাতর স্বরে হে প্রভু! হে প্রভু! বলে ডাকছে। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং হারাম দ্বারাই বেষ্টিত। এই ব্যক্তির দু‘আ কিভাবে কবুল হতে পারে? (ছহীহ মুসলিম, হা/১০১৫; মিশকাত, হা/২৭৬০)।
তবে হারাম পন্থায় উপার্জনকারীর ইবাদত কবুল হয় না বলে ইবাদত করে কোনো লাভ নেই, একথা ঠিক নয়। কারণ এর মাধ্যমে যদিও তার নেকী হয় না, কিন্তু ফরয বিধান পালনের যে দায়িত্ব তার উপরে অর্পিত হয়েছে, তার যিম্মা থেকে সে মুক্ত হয়ে যায়। যদি সে তা আদায় না করে, তাহলে একদিকে যেমন হারাম উপার্জনের কারণে পাপী হয়, অন্যদিকে ফরয বিধান ছেড়ে দেওয়ার কারণেও সে পাপী হয়। অতএব হারাম উপার্জন করলেও তাকে ছালাত-ছিয়ামের মতো তার ফরয বিধান আদায় করতে হবে। তবে এই সমস্ত ইবাদতের সে কোনো নেকী পাবে না যতক্ষণ না সে তার হারাম উপার্জন থেকে তওবা করে ফিরে আসে।
-মাহদী হাসান পরশ
ক্ষিতলাল, জয়পুরহাট।
