কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২৬) : আরাফা, আশূরা, সাপ্তাহিক ও মাসিক নফল ছিয়ামগুলোর ক্বাযা আদায় করা যাবে কি?

উত্তর : আরাফা ও আশূরার নফল ছিয়াম নির্দিষ্ট মাস ও দিনের সাথে সম্পৃক্ত। বিধায় এগুলোর ক্বাযা আদায় করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আরাফার দিনের ছিয়াম- আমি আশা করি, আল্লাহর নিকট তা তার পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহর কাফফারা হবে এবং আশূরার ছিয়াম- আমি আশা করি, আল্লাহর নিকট তা তার পূর্বের এক বছরের গুনাহর কাফফারা হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২; আবূ দাঊদ, হা/২৪২৫; তিরমিযী, হা/৭৫২; ইবনু মাজাহ, হা/১৭৩৮; ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ, হা/২০৮৭; মিশকাত, হা/২০৪৪)। তবে সাপ্তাহিক নফল ছিয়ামের ক্বাযা আদায় করা যায়। আবূ সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও কতিপয় ছাহাবীকে দাওয়াত করলাম। খাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে জনৈক ছাহাবী (নফল) ছিয়ামরত থাকায় খাবারে অংশগ্রহণ করলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ছিয়াম ভঙ্গ করে খাবার গ্রহণ করতে বললেন এবং ইচ্ছা করলে পরবর্তীতে এটার ক্বাযা আদায় করার জন্য বললেন (বায়হাক্বী, ৪/৪৬২, হা/৮৩৬২, ‘নফল ছিয়াম ক্বাযা করা ঐচ্ছিক’ অনুচ্ছেদ, সনদ হাসান; নায়লুল আওত্বার ২/২৫৯, ‘নফল ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ)। আর মাসিক নফল ছিয়াম তথা আইয়ামে বীযের ছিয়াম, মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখতে হবে (ছহীহ আত-তারগীব, হা/১০৩৮)। তবে কোনো কারণে উক্ত তারিখে রাখা সম্ভব না হলে মাসের যে কোনো তারিখে রাখা যাবে। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাসের যে কোনো দিনে তিনটি ছিয়াম রাখতেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৮০১; মিশকাত, হা/২০৪৬)।

-আব্দুল্লাহ ছিদ্দীক্ব

 শেরপুর, বগুড়া।


Magazine