উত্তর : তাবলীগ অর্থ পৌঁছানো, প্রচার-প্রসার করা। শরীআতের পরিভাষায় তাবলীগ বলা হয়, মানুষকে সঠিক ঈমান ও ইসলামের প্রতি আহ্বান করা। তাবলীগ করা ফরয। তাবলীগ করা সকল নবী-রাসূলগণের উপর ফরয ছিল (আন-নাহল, ১৬/৩৬)। কিন্তু মনে রাখতে হবে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য একমাত্র আদর্শ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই তোমাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ’ (আল-আহযাব, ৩৩/২১)। সুতরাং আমাদের প্রতিটি কাজে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করা একান্ত কর্তব্য। ঠিক দাওয়াতের ক্ষেত্রেও রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করা জরুরী। কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত তাবলীগ জামাআতের র্কমপদ্ধতি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ছাহাবীগণের তাবলীগের সাথে পরিপূর্ণ সাংঘর্ষিক। তেমনি আক্বীদাগতভাবেও তা সাংঘর্ষিক। তাদের ফাযায়েলে আমল, ফাযায়েলে সাদাকাতসহ সকল বইয়ে ছহীহ আক্বীদা ও ছহীহ হাদীছ বিরোধী নানা বক্তব্য রয়েছে, যা মানুষের ঈমানকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। তাদের মধ্যে অনেক ভ্রান্ত আক্বীদা রয়েছে, যা কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহর সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাদের বইগুলো বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী দ্বারা পরিপূর্ণ। সুতরাং এমন মিথ্যা ও আক্বীদা বিনষ্টকারী তাবলীগ জামাআত কখনো রাসূলের মূল ধারার তাবলীগ হতে পারে না। সুতরাং এমন তাবলীগ ইসলাম সমর্থিত নয়। বরং মিথ্যা দ্বীন ও আক্বীদা প্রচার-প্রসার করার কারণে জাহান্নামে যেতে হবে। এই মর্মে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্কবাণী উল্লেখ করে বলেছেন, ‘আমার পক্ষ হতে একটি বাণী জানা থাকলেও তা পৌঁছে দাও। আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু যে কেউ ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামকেই তার ঠিকানা নির্দিষ্ট করে নিল’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩৪৬১; মিশকাত, হা/১৯৮)।
-আবূ সাঈদ
পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা।
