উত্তর: বাসর রাতে পালনীয় বেশ কিছু আমল রয়েছে যা সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো- ১. স্ত্রীর কপালের সামনের অংশে (নাসিয়া/চুলের অগ্রভাগে) হাত রাখা এবং হাদীছে বর্ণিত দু‘আ পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারী, দাস বা বাহন লাভ করে, তখন সে যেন তার কপালের সামনের অংশ ধরে বলে اللَّهمَّ إنِّي أسألُك مِن خيرِها وخيرِ ما جُبِلَتْ عليهِ وأعوذُ بِك من شرِّها وشرِّ ما جُبِلَتْ عليه ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তার কল্যাণ এবং যে কল্যাণের উপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা কামনা করি আর তার অকল্যাণ ও যে অকল্যাণের উপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে তোমার আশ্রয় চাই (ইবনু মাজাহ, হা/১৯১৮)। ২. স্বামী-স্ত্রী উভয়েই দুই রাকআত ছালাত পড়া (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হা/১০৪৬০)। ৩. সহবাসের সময় ইসলামের নির্দেশিত আদবসমূহ মেনে চলা আবশ্যক, এর মধ্যে রয়েছে সুগন্ধি ব্যবহার করা (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১১৯২)। ৪. সহবাসের আগে হাদীছে বর্ণিত দু‘আ পাঠ করা, بسمِ اللَّهِ اللَّهمَّ جنِّبنا الشَّيطانَ وجنِّبِ الشَّيطانَ ما رزقتَنا অর্থ: ‘বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখো এবং তুমি আমাদের যা দান করবে, তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখো’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩২৭১; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৩৪)। ৫. স্বামীর জানা থাকা জরুরী যে, পায়ুপথে সহবাস হারাম এবং কেবল সেই স্থানেই সহবাস বৈধ যা সন্তান উৎপাদনের ক্ষেত্র (আল-বাকারা, ২/২২৩)। ৬. সহবাসের পর গোসল ফরয, যদিও বীর্যপাত না ঘটে (ছহীহ বুখারী, হা/২৯১; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৪৮)। ৭. স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সহবাসের গোপন বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ না করা, যা হারাম (ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৩৭)।
-মেহেদী হাসান
