কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩৪) : আমাদের এলাকার ধানের আড়ৎদাররা অগ্রহায়ণ মাসের পূর্বেই অগ্রীম ধান ক্রয় করেন। অর্থাৎ বাজারে যখন মণ প্রতি ৭০০ টাকা বিক্রি হয় তখন তারা তা কিনেন ৬০০ টাকা দরে। অথচ যখন কৃষক ধান ঘরে উঠান তখন তা ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়। এতে কৃষক প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় কি জায়েয?

উত্তর : কৃষক স্বীয় ইচ্ছায় ও প্রয়োজনের তাগিদে ফসল জমিতে থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট প্রকার, পরিমাণ, সময়সীমা ও মূল্যের কথা উল্লেখ করে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে। এতে শারঈ কোনো বাধা নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা কোনো নির্দিষ্টকালের জন্যে ঋণ আদান-প্রদান করবে, তখন তা লিখে নাও। আর কোনো একজন লেখক যেন ন্যায্যভাবে তোমাদের মধ্যে (ঐ আদান-প্রদানের দলীল) লিখে দেয়’ (বাক্বারাহ, ২৮২)। রাসূল (ছাঃ) যখন মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন তখন মদীনাবাসীরা তাদের খেজুর অগ্রীম মূল্যে দুই-তিন বছর মেয়াদে বিক্রয় করতেন। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে বললেন, ‘যদি কেউ অগ্রীম মূল্যে বিক্রি করতে চায়, সে যেন নির্দিষ্ট মাপে, নির্দিষ্ট ওযনে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে বিক্রি করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৪০; ছহীহ মুসলিম, হা/৪২০২)। আর এই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেনকে বায়‘য়ে সালাম বলে। অর্থাৎ মূল্য আগে বস্তু পরে। যা নির্ধারিত সময় ও নির্ধারিত মূল্যের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

-আবু তাহের

মহাদেবপুর, নওগাঁ।


Magazine