কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

বৃদ্ধাশ্রম

শুরুকথা :

শৈশব, কৈশোর ও যৌবন পেরিয়ে মানুষ বার্ধক্যে উপনীত হয়। যার জীবন আছে তার বার্ধক্য আছে। জীবনের এক প্রান্তে এসে পশু-পাখি, গাছপালাও বার্ধক্যে পৌঁছে যায়। মৃত্যু ছাড়া কোন প্রাণীর বার্ধক্য থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ তা‘আলা মানুষের জীবনকে শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্য দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। তিনি মানুষকে মাতা-পিতার মাধ্যমে শিশু হিসাবে জন্ম দেন, তারপর তাকে কৈশোর ও যৌবন পেরিয়ে বার্ধক্যে পৌঁছে দেন। এই ক্রমবিবর্তন মহান আল্লাহ্র একক নির্দেশেই সংঘটিত হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

اللهُ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ مِنْ ضَعْفٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ ضَعْفٍ قُوَّةً ثُمَّ جَعَلَ مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ ضَعْفًا وَشَيْبَةً يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَهُوَ الْعَلِيْمُ الْقَدِيْر.

‘আল্লাহ তিনি, যিনি দুর্বল অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন অতঃপর দুর্বলতার পর শক্তি দান করেন, অতঃপর শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান’ (রূম, ৩০/৫৪)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

هُوَ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوْا أَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُوْنُوْا شُيُوْخًا.

‘তিনি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি দিয়ে, অতঃপর শুক্রবিন্দু দিয়ে, অতঃপর জমাট রক্ত দিয়ে, অতঃপর তোমাদেরকে বের করেন শিশুরূপে, অতঃপর তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর, অতঃপর বার্ধক্যে উপনীত হও’ (গাফির, ৪০/৬৭)। বৃদ্ধ বয়সে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পাওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَمِنكُم مَّن يُرَدُّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْ لَا يَعْلَمَ بَعْدَ عِلْمٍ شَيْئًا

‘তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ পৌঁছে যায় জরাগ্রস্ত অকর্মণ্য বয়সে, ফলে যা কিছু তারা জানত সে সম্পর্কে তারা সজ্ঞান থাকবে না’ (নাহ্ল, ১৬/৭০)

বৃদ্ধ বনাম অবৃদ্ধ :

বার্ধক্য স্বাভাবিক অবস্থা থেকে ভিন্ন একটি অবস্থা। বার্ধক্যে এসে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার স্বভাবজাত গতি হারিয়ে ফেলে।[1] প্রবল শক্তিমান ব্যক্তিটি তার শক্তি হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। কাউকে পরোয়া না করা ব্যক্তিটি অন্যের সাহায্যের মুখোমুখি হয়ে যায়। শিশুকালে শিশুরা যেমন বাবা-মা ও অন্যদের অনুকম্পায় বেড়ে ওঠে, ঠিক তেমনি বৃদ্ধ বয়সে বৃদ্ধরাও সন্তান ও অন্যদের করুণার পাত্র হয়ে ওঠেন। শৈশবের চেয়ে বার্ধক্যের আরো ভয়াবহ দিক হল, শিশুদের দেখলে অন্যরা আকর্ষিত হয়, তার নিষ্পাপতার কারণে সকলেই তার কাছে ভিড়ে, তাকে কোলে তুলে নেয়, তার সাথে মজার মজার কথা বলে, তার চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করে না, কিন্তু বৃদ্ধাবস্থায় হয় এর বিপরীত। বৃদ্ধদের সবচেয়ে নিকটবর্তী হল তাদের নিজেদের লালন করা সন্তানরা। শেষ বয়সে তারা খুব বেশি করে সন্তানদের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় সন্তানদেরকে কাছে না পেলে তারা অত্যন্ত অসহায় হয়ে পড়েন। তারা কিছু চাইলেই যুবক বয়সের মত অর্জন বা বর্জন করতে পারেন না। তাই বৃদ্ধ ও অবৃদ্ধরা কখনোই সমান নয়।

এক বৃদ্ধের আত্ম-স্বীকৃতি :

‘আমার অবস্থা তো হচ্ছে, যা কালো থাকা আমার পসন্দের ছিল তা সাদা হয়ে গেছে, আর যা সাদা থাকা পসন্দের ছিল তা কালো হয়ে গেছে। যা শক্ত থাকা পসন্দের ছিল তা নরম হয়ে গেছে আর যা নরম-কোমল থাকা পসন্দের ছিল তা শক্ত-খসখসে হয়ে গেছে। পথ চলতে গেলে দেখি সাথের লোকেরা আগে চলে যাচ্ছে আর পিছনের লোকেরা আমাকে ধরে ফেলছে। নতুন কথা ভুলে যাই, পুরনো কথা মনে পড়ে। লোকের মাঝে ঝিমুই আর বিছানায় গেলে ঘুম আসে না। যখন দাঁড়াতে চাই ভূমি আমাকে টেনে ধরে রাখে আর যখন বসতে চাই ভূমি যেন দূরে চলে যায়!’

বৃদ্ধাশ্রমের সূচনা ও প্রগতিবাদ :

বৃদ্ধাশ্রমের সূচনা হয়েছে মূলত পাশ্চাত্যের হৃদয়হীন প্রগতিবাদ থেকে। যে প্রগতিবাদ বলে বুড়োদের দিন শেষ, তাদের দিয়ে জাতির আর কিছু হবে না। তাদের ভাষ্য হল, বৃদ্ধদের জীবনের উৎকৃষ্ট ও কর্মক্ষম সময়টি তারা ইতিমধ্যেই পার করেছে, তাদের কাছ থেকে জাতি যা নেয়ার নিয়ে নিয়েছে, এখন তারা অক্ষম, তারা জাতির বোঝা, তাদেরকে এখন ছুড়ে ফেলো। তাদের সেবা করাতে জাতির কোন লাভ নেই, এটা সময়ের অপচয় মাত্র। তাই তাদের বেঁচে থাকার জন্য কিছু একটা কর, কোনমতে বাকি জীবনটা কাটিয়ে বিদায় হয়ে যাক।

যুবকদের স্ত্রী আছে, সন্তান আছে, ভবিষ্যত ক্যারিয়ার আছে। প্রগতির সাথে তাল রাখতে গেলে তাদেরকে সে দিকেই মনোযোগ দিতে হবে। তাদের কাছে প্রযুক্তি আছে, স্মার্ট ফোন আছে, দামী আইপ্যাড আছে। তাদের বন্ধুমহল আছে, তাদের সাথে আড্ডা দিতে হবে। ক্লাব আছে, গালফ্রেন্ড আছে। এককথায় ভোগবাদের সবই হাতের নাগালে। বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঘরে রেখে সেবা করার, খোঁজ-খবর নেয়ার সময় কোথায়? এই হল প্রগতিবাদের মূল থিউরী। তাহলে মানুষের জন্য প্রগতিবাদ নাকি প্রগতিবাদের জন্য মানুষ! ফলে তাদের কাছে বৃদ্ধ মাতা-পিতা হয়ে ওঠে আবর্জনার মত।

প্রগতিবাদের শেষ পরিণতি :

এই তথাকথিত শিল্প-বিপস্নব ও এগিয়ে যাওয়ার ভ্রান্ত নীতি মানুষের মূল্যবোধকে নির্মমভাবে জবাই করছে। এই প্রগতিবাদের অপরিপক্ক নীতি মানুষকে চূড়ান্ত ভোগবাদী বানিয়ে ছাড়ছে, মা-বাবাকে ছেড়ে সুখী হওয়ার বিকৃত প্রচেষ্টা সামাজিক পরিকাঠামোকে তছনছ করে দিচ্ছে, বউকে নিয়ে প্রচলিত স্মার্ট হওয়ার ভুয়া চেষ্টা পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে, শৈশবে বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসায় ভরা মনগুলো ভরে যাচ্ছে সংকীর্ণতা ও ছোটলোকী দিয়ে। পাশ্চাত্যের যান্ত্রিক প্রগতিবাদ এভাবে মানুষের কোমল মনগুলোকে যান্ত্রিক এবং চেহারাগুলোকে মানবতাহীন রোবটে পরিণত করছে। ফলে জন্মদাতা বৃদ্ধ মাতা-পিতারা এখন সস্তানহারা হয়ে, ঘর-বাড়ী ছাড়া হয়ে অত্যন্ত যাতনায় দিনাতিপাত করছে বৃদ্ধাশ্রমে।

পিতা-মাতাকে নিয়ে ইসলামের সাধারণ নির্দেশনা :

সৃষ্টিকর্তা হিসাবে যেমন আল্লাহ তা‘আলার সাথে কারো শরীক নেই, জন্মদাতা হিসাবেও তেমন বাবা-মায়ের সাথে কারো শরীক নেই। ‘আল্লাহ তা‘আলা সকল মানুষকে তাদের মায়েদের পেট থেকে এ ধরায় বের করে এনেছেন, তখন তারা কিছুই বুঝতো না। অতঃপর তাদেরকে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি এবং অন্তরের ধারণক্ষমতা দিয়েছেন’।[2] মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের পরতে পরতে আল্লাহ্র ইবাদতের পরে পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوْا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا.

‘তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত কর না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর’ (ইসরা, ১৭/২৩)। বানু ইসরাঈলের নিকট থেকেও আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইবাদতের পর পিতা-মাতার সাথে ইহসান করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন (বাক্বারাহ, ২/৮৩)। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পথভ্রষ্ট পিতাকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তোমার উপর শান্তি হোক, আমি আমার পালনকর্তার কাছে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি মেহেরবান’ (মারইয়াম, ১৯/৪৭)। তিনি আরো বলেন, ‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা করে দিন। সে তো পথভ্রষ্টদের অন্যতম’ (শু‘আরা, ২৬/৮৬)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরকের পরই পিতা-মাতার অবাধ্যতাকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,

أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَكْبَرِ الكَبَائِرِ قَالُوْا بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ الإِشْرَاكُ بِاللهِ وَعُقُوْقُ الوَالِدَيْنِ.

‘সাবধান! আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় পাপের ব্যাপারে জানাবো না? তারা বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহ্র রাসূল। তিনি বললেন, আল্লাহ্র সাথে শিরক করা আর পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া’।[3] জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ لِيْ مَالًا وَوَلَدًا وَإِنَّ أَبِيْ يُرِيْدُ أَنْ يَجْتَاحَ مَالِيْ فَقَالَ أَنْتَ وَمَالُكَ لِأَبِيْكَ.

‘এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! নিশ্চয়ই আমার সম্পদ ও সন্তান আছে। আর আমার বাবা আমার সম্পদ ধ্বংস করতে চান। অতঃপর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার বাবার জন্য’।[4]

মু‘আবিয়া ইবনু জাহিমা সালামী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমার পিতা জাহিমা রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি যুদ্ধে গমন করতে ইচ্ছা করেছি। এখন আপনার নিকট মতামত জিজ্ঞেস করতে এসেছি। তিনি বললেন, তোমার মাতা (জীবিত) আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার খেদমতে লেগে থাক। কেননা জান্নাত তার দু’পায়ের নিচে’।’[5]

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ جِئْتُ أُبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَتَرَكْتُ أَبَوَيَّ يَبْكِيَانِ فَقَالَ ارْجِعْ عَلَيْهِمَا فَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا.

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আমি হিজরত করে (আপনার সাথে যুদ্ধে গমনের জন্য) আপনার হাতে বায়‘আত করতে এসেছি। কিন্তু আমার মাতা-পিতা নারায বিধায় কাঁদছেন। তিনি বললেন, তুমি তোমার পিতা-মাতার নিকট ফিরে যাও। যেভাবে তাদেরকে কাঁদিয়েছ সেভাবে তাদেরকে হাসিয়ে তোল’।

বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে নিয়ে ইসলামের বিশেষ নির্দেশনা :

পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের কঠোর নির্দেশ দেয়ার পরও ইসলাম থেমে থাকেনি; পিতা-মাতা বৃদ্ধ অবস্থায় উপনীত হলে তাদের জন্য সর্বোচ্চ অনুকম্পা প্রদর্শনের কথা বলেছে। তাদের সাথে শক্ত ভাষায় কথা বলতে নিষেধ করেছে। অত্যন্ত বিনীতভাবে তাদের সেবা করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيْمًا - وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيْرًا.

‘তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বল না, তাদেরকে ধমক দিও না এবং তাদের সাথে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বল। তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বল, 

‘হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন’ (ইসরা, ১৭/২৪)। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

رَغِمَ أَنْفُ ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُ ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُ قِيْلَ مَنْ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ عِنْدَ الْكِبَرِ أَحَدَهُمَا أَوْ كِلَيْهِمَا فَلَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ.

‘নাক ধুলিমলিন হোক, আবারও নাক ধুলিমলিন হোক, আবারও নাক ধুলিমলিন হোক। জিজ্ঞেস করা হল, কোন ব্যক্তির, হে আল্লাহ্র রাসূল? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেল অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না’।

শেষকথা :

সন্তান বেঁচে থাকলে এবং সুস্থ-সবল থাকলে তাদের উপর পিতা-মাতার সেবা করা আবশ্যক, বৃদ্ধাশ্রম তো দূরের কথা। বাবা-মায়ের কোলে বেড়ে ওঠে বড় হয়ে বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা তাদের সাথে চরম বেঈমানী। তবে কোন বৃদ্ধ পিতা-মাতা যদি নিঃসন্তান হন অথবা কোন কারণে তাদের সন্তান জীবিত না থাকে এবং খুব কাছের কোন আত্মীয়-স্বজনও না থাকে; এমতাবস্থায় সরকার তাদেরকে সম্মানজনকভাবে ভরণপোষণের দায়িতব গ্রহণ করবে এবং তাদের যথাযথ অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে। আল্লাহ আমাদেরকে পিতা-মাতার যথার্থ সেবা করার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!

 

[1]. প্রতিটি মানব কোষে অজস্র (নির্দিষ্ট সংখ্যক) ডি,এন,এ (DNA) রয়েছে, আর তারই একটা ছোট্ট অংশকে বলা হয় জিন (Gene)। এই জিনগুলোই আমাদের বংশগতির ধারক ও বাহক। আর এই জিনজনিত কারণকেই এখনো বৃদ্ধ হবার প্রধান কারণ হিসাবে তাত্ত্বিকভাবে ধরে নেয়া হয়। -উইকিপিডিয়া (বাংলা)।

[2]. সূরা নাহ্ল, ১৬/৭৮।

[3]. ছহীহ বুখারী, হা/৬২৭৩।

[4]. ইবনু মাজাহ, হা/২২৯১।

[5]. নাসাঈ, হা/৩১০

[6]. আবুদাঊদ, হা/২৫২৮।

[7]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৫১।

 

Magazine