কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

গণতন্ত্র, নির্বাচন ও ইসলামপন্থিদের ভবিষ্যৎ পথরেখা

post title will place here

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ وَحْدَهُ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى مَنْ لَّا نَبِيَّ بَعْدَهُ

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৩তম জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যা জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের একটি অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা, হানাহানি, ভোট কারচুপি বা কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটেনি বললেই চলে। তবে ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে মর্মে জামায়াত-এনসিপি জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

উক্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে প্রায় একটানা চার দিনের ছুটি থাকা এবং একটি নির্ধারিত সময়ে সকল যানবাহন, দোকানপাট ও আর্থিক লেনদেন (বিকাশসহ) বন্ধ থাকায় সমগ্র বাংলাদেশে নির্বাচনের একটি বিশেষ পরিবেশ তৈরি হয়। ঢাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য নিজ গ্রামে ফিরে যেতে দেখা যায়। এই ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশে অতীতে কখনো নির্বাচন আয়োজন হয়নি, যা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম একটি সফলতা।

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সারা দেশব্যাপী, বিশেষ করে অনলাইনে একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, জামায়াত ও এনসিপি জোট হয়তো ক্ষমতায় আসছে। কারণ তাদের সাথে অসংখ্য ইসলামী দল যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি; বরং বিএনপি জোট ২১২টি আসন এবং জামায়াত-এনসিপি জোট ৭৭টি আসন লাভ করে। উল্লেখ্য, ৫০টিরও বেশি আসনে জামায়াত-এনসিপি জোট ৫ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।

বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা অন্য কোনো দলের মুখাপেক্ষী থাকবে না, যা অনেকের মনে নতুন করে স্বৈরাচারী শাসনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হওয়ার সন্দেহও দেখা দিয়েছে। যদিও গণভোটে ‘জুলাই সনদ’ জয়যুক্ত হয়েছে, তবুও বিজয়ী দল বিএনপির অনেক বিষয়ে দ্বিমত (Note of Dissent) থাকায় তারা সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নাও করতে পারে। এছাড়া অতীতে বিজয়ী ও পরাজিত দলের মধ্যে যে প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখা গেছে, পুনরায় তার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে—যেমন রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধা বিভাজন, গুপ্তনামে গ্রেফতার বা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৈরাজ্য।

আমরা শুরু থেকেই বলে এসেছি, গণতন্ত্র কখনোই দেশে ন্যায় ও ইনছাফ বা স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। গণতন্ত্রের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নির্বাচনে ইসলামপন্থি দল ও আলেম-উলামাদের মধ্যে যে কাদা ছোড়াছুড়ি, মতবিরোধ ও জোট ভাঙার খেলা দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে যে, ভোটের রাজনীতি আলেমদের সম্মান শুধু নষ্টই করে না, বরং অপমানিতও করে। যেমন—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আসনে বিএনপি জোট, জামায়াত-এনসিপি জোট এবং ইসলামী আন্দোলনের তিনজন আলেম প্রার্থীর বিপরীতে একজন নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এটি আলেম-উলামাদের পারস্পরিক অনৈক্য ও আস্থাহীনতার একটি লজ্জাজনক উদাহরণ।

শুধু তাই নয়, বিএনপি জোটের অন্তর্ভুক্ত ৪ জন আলেম, জামায়াত জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া চরমোনাই পীর ও জামায়াত জোটে থাকা মাওলানা মামুনুল হক, কেউই এই নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেনি। তথা আলেমদের মধ্যে শুধু মনোমালিন্য তৈরি হলো, বিভেদ ও কাদা ছোড়াছুড়ি হলো দিনশেষে বাস্তব মাঠে ফলাফল শূন্য।

গণতান্ত্রিক ভোটের রাজনীতিতে বিপুলভাবে বিজয়ী হওয়ার জন্য একজন ‘কাল্ট ফিগার’ (Cult Figure) বা ক্যারিশম্যাটিক নেতা থাকা অতীব জরুরী, যার অধীনে বিশাল কর্মী বাহিনী সারা দেশে জোয়ার তৈরি করবে। যেমন—আওয়ামী লীগের শেখ মুজিবুর রহমান, বিএনপির জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া কিংবা পাকিস্তানের ইমরান খান। এই ধরনের নেতা ছাড়া পৃথিবীতে কোনো বিপ্লব বা নির্বাচনে সফল হওয়া সম্ভব নয়; যেমনটি সিরিয়ার আহমাদ আল-শারা, আফগানিস্তানের তালেবানদের আমীরুল মুমিনীন কিংবা ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আল-খামেনীর ক্ষেত্রে দেখা যায়। তাদের সফলতার কারণই হচ্ছে অবিসংবাদিত নেতৃত্ব থাকা।

দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের ইসলামপন্থিরা শত মত, দল ও মাযহাবে বিভক্ত। এক দল অন্য দলকে অনেক সময় কুফরী বা শিরকী হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে তাদের মধ্যে কোনো অবিসংবাদিত নেতা তৈরি হওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাশাপাশি, অনেক ইসলামী দলের ফ্রেমিং বা গঠনতন্ত্র এমন যেখানে শূরা-ভিত্তিক ও যোগ্যতা-ভিত্তিক কর্মী ও নেতা এসে থাকে। ফলত, কোনো নেতাই সেখানে দীর্ঘদিন থেকে নিজের ক্যারিশম্যাটিক লিডারশিপকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন—এরকম সুযোগ তৈরি হয় না। এটিও আরেকটি বড় সমস্যা।

ইসলামপন্থি দলগুলোর পক্ষে আরও একটি কারণে ভোটের রাজনীতিতে বিপুলভাবে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব নয়; সেটি হচ্ছে ‘ডিপস্টেট’ বা ছায়া রাষ্ট্র। এই নির্বাচনেও যতটুকু রেজাল্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা শোনা যাচ্ছে, সেটির ক্ষেত্রে সকলে এটিই আলোচনা করছেন যে, এটি ডিপস্টেটের চাওয়া অনুযায়ী হয়েছে বা হয়ে থাকে। ডিপস্টেট সাধারণত দেখে—বিদেশি এম্বাসি এবং বিদেশি রাষ্ট্রগুলো কী চায়? পাশাপাশি দেশের সেনাবাহিনীসহ শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, শক্তিশালী মিডিয়া তারা কী চায়? তথা দেশের পারমানেন্ট বা স্থায়ী স্টেকহোল্ডার কারা, তাদের চিন্তা-চেতনা এবং সিদ্ধান্তের ওপর এটি নির্ভর করে।

আর ইসলামপন্থি দল যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করে, তাদের জন্য এই ধরনের ডিপস্টেটকে ডিল করা অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়। কেননা, যে সমস্ত বিষয়ের মাধ্যমে তাদের আস্থা অর্জন করা যাবে, সে সমস্ত বিষয়গুলোর অনেকাংশই ইসলাম বিরোধী। যেমনটি আমরা এই নির্বাচনেও দেখেছি—যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করেছেন তারাও চেষ্টা করেছেন নিজেদের খোলস থেকে বের হয়ে আসতে এবং সেকুলারিজমের যতগুলো অনুষঙ্গ আছে তার সবগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করতে। হিন্দুদের মন্দির পাহারা দেওয়া থেকে শুরু করে ছওমের সাথে মূর্তিপূজার তুলনা করা—এমনকি ‘ইসলামী শরীআহ আইন বাস্তবায়ন করব না’, ‘মেয়েরা চাইলে বেপর্দায় ঘুরে বেড়াতে পারবে, কাউকে পর্দা করতে বাধ্য করা হবে না’—অসংখ্য এ জাতীয় কথা ইসলামী দলগুলো বলার এবং বুঝানোর চেষ্টা করেছে। কেননা তারা ডিপস্টেটের আস্থা অর্জন করতে চেয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হচ্ছে, এই বিষয়গুলো যখন আমরা ইসলামের নামে বলব, তখন সেটি মূলত দীর্ঘমেয়াদে ইসলাম এবং মুসলিমদের যে নিষ্কলুষ আদর্শ সেটিকে কলুষিত করে।

ফলত, যারা আসলে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে গণতন্ত্রের রাজনীতি করতে চান, তাদের উচিত ইসলামের নামে রাজনীতি না করা। তাদের উচিত স্বাভাবিক মুসলিম হিসেবে ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এবং সাধারণ ন্যায় ও ইনছাফের কথা বলে যতটুকু সম্ভব কল্যাণমূলক রাষ্ট্র করা যায়, সেটির চেষ্টা করা। যেমনটি তুরস্কের এরদোগান অথবা পাকিস্তানের ইমরান খান অথবা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো করে থাকে।

সেক্ষেত্রে ইসলামপন্থি দলগুলোর জন্য সবচেয়ে উত্তম আদর্শ হতে পারে ভারতের আরএসএস এবং বিজেপির রাজনৈতিক মডেল। আরএসএস, শিবসেনা এবং বজরং দলের যে কট্টর হিন্দুত্ববাদ, সেটিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা একটি মডারেট হিন্দুদের দিয়ে রাজনৈতিক দল তৈরি করেছে যার নাম বিজেপি। বিজেপির যারা রাজনীতিবিদ তারা কোনো সাধু-সন্ত বা সন্ন্যাসী নন, বরং তারা স্বাভাবিক হিন্দু। কিন্তু পিছন থেকে আরএসএস (যারা কট্টর হিন্দুত্ববাদী) তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা ও এগিয়ে যাওয়ার সকল সহযোগিতা প্রদান করে।

বাংলাদেশেও যদি ইসলামপন্থি দলগুলো এরকম সাধারণ শিক্ষিত মুসলিমদের কোনো রাজনৈতিক দলকে সামনের দিকে এগিয়ে দেয় (যেমন জুলাইয়ের ছাত্রনেতাদের মাধ্যমে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দল এনসিপি) এবং পিছন থেকে সকল সহযোগিতা করে, তবে এখানে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, ছাত্রদের মধ্য থেকে কেউ না কেউ অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবে এবং তার ‘কাল্ট ফিগার’ তৈরি হবে। যেমন ইতোমধ্যে ওসমান হাদীর একটি কাল্ট ফিগার তৈরি হয়ে গেছে, যিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন। এরকম একজন নেতাকে সামনে রেখে তারা সমগ্র দেশব্যাপী একটি জোয়ার তৈরি করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, যেহেতু তারা সরাসরি ইসলামী দল নয়, তাই তারা ডিপস্টেটের আস্থা অর্জন করতে পারবে। আবার যেহেতু তারা ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত বা ইসলামী দলগুলো তাদের সাপোর্ট দিচ্ছে, সেহেতু তারা ইসলাম বিরোধী কোনো কিছু করবে না এবং ন্যায়-ইনছাফ প্রতিষ্ঠায় আপ্রাণ চেষ্টা করবে।

অন্যদিকে আমাদের পরামর্শ—যারা বিজয়ী হয়েছেন (বিএনপি জোট), তারাও চাইলে জনগণের এই একই চাওয়া পূরণ করার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। জনগণের মধ্যে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে পারে। কেননা জুলাই পরবর্তী সিচুয়েশনে বাংলাদেশের মানুষ আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তি চায়। মানুষ আর ‘মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার’ নামে বিভাজনের ভারতীয় কোনো রাজনৈতিক বয়ান বাংলাদেশে দেখতে চায় না। মানুষ একটি ঐক্যবদ্ধ, সুন্দর, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদামুক্ত ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চায়। যদি বিজয়ী বিএনপি সরকার এই চাওয়া পূরণ করতে পারে, তবে তারাই জনগণের ব্যাপক ভালোবাসা পেয়ে বিজয়ী হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারবে। সুতরাং তাদের কাছে এবং তাদের নেতার কাছে আমরা এই কল্যাণের দাবি ও পরামর্শ রেখে যাচ্ছি।

সর্বোপরি, যারা বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন এবং জানেন যে গণতন্ত্রের মাধ্যমে তা সম্ভব নয়, তাদের কাজ হচ্ছে প্রস্তুতি নেওয়া। যেহেতু গণতন্ত্রের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ইনছাফ প্রতিষ্ঠিত হবে না, সেহেতু যতদিন গণতন্ত্র আছে ততদিন যুলুম থাকবে। আর যুলুম যতদিন থাকবে, মানুষ যুলুমের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেই। ফলে প্রতি ১০, ১৫ বা ২০ বছর পর পর এরকম ‘৩৬শে জুলাই’ বারবার ফিরে আসবে। কিন্তু যখন এরকম সময় ফিরে আসবে, তখন যদি ইসলামপন্থিদের কোনো একক অবিসংবাদিত নেতা না থাকে যার অধীনে বিশাল কর্মীবাহিনী রয়েছে, তবে ২০২৪-এর জুলাই যেভাবে পূর্ণাঙ্গ বিপ্লবে পরিণত হয়নি, সামনের কোনো গণঅভ্যুত্থানকেও বিপ্লবে পরিণত করা সম্ভব হবে না।

সেক্ষেত্রে প্রস্তুতি থাকতে হবে অনেক ব্যাপক। এই প্রস্তুতি শুরু হবে ঈমান বিল গায়েবে ইয়াক্বীনের মাধ্যমে, পরকালে আস্থার মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ন্যায়পরায়ণতার চর্চার মাধ্যমে। ‘আল-আমর বিল মা‘রূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার’-এর চর্চা বাড়ানোর মাধ্যমেই প্রকৃত নেতা তৈরি হয়। সর্বোপরি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান তৈরি এবং একজন অবিসংবাদিত নেতার নেতৃত্বের পিছনে একত্রিত হওয়া প্রয়োজন।

অনেকেই হয়তো মনে করবেন, তাহলে কখন এই গণতন্ত্র বিদায় নিবে এবং কখন ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে? তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই—এখানে হতাশার কিছু নেই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার মূলনীতি অনুযায়ী কোনো আদর্শ, মতবাদ বা সাম্রাজ্য দীর্ঘদিন টিকে থাকে না। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন যে, তিনি মানুষকে যুলুম থেকে বাঁচানোর জন্যই একজনের হাতে ক্ষমতা দীর্ঘদিন রাখেন না বরং তা পরিবর্তন করে দেন। ফলত আমরা দেখেছি ইংল্যান্ড একসময় বিশ্বের সুপারপাওয়ার ছিল তাদের পতন হয়েছে। তারপর রাশিয়ার পতন হয়েছে। এখন আমেরিকা সুপারপাওয়ার আছে। সুতরাং আমেরিকারও একদিন পতন হবে। আর এই গণতান্ত্রিক আদর্শের সবচেয়ে বড় ধারক-বাহক হচ্ছে আমেরিকা। আমেরিকার পতনের সাথে সাথেই গণতন্ত্রের এই মতবাদটি ‘বাই ডিফল্ট’ ও ‘বাই ন্যাচার’ ধসে পড়বে। তখনই মুসলিমদের জন্য সুযোগ থাকবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার।

সেক্ষেত্রে পূর্ব-প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। তাই আমি উদাত্ত আহ্বান জানাব নতুন প্রজন্মকে, যারা পূর্ণাঙ্গ ইসলামের স্বপ্ন দেখে—তাদেরকে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করার। যেন আগামী ১৫, ২০ বা ৩০ বছর পর যখন পুনরায় যুলুমের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠবে, তখন যেন তাদের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান থাকে, অবিসংবাদিত নেতা থাকে এবং তাদের মধ্যে শতভাগ ন্যায় ও ইনছাফের চর্চা থাকে। তাদের যেন ঈমান বিল গায়েব, ইয়াক্বীন ও পরকালে পূর্ণাঙ্গ আস্থা থাকে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের দেশকে কবুল করুন। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে মুশরিকদের পদানত হওয়া এবং তাদের অধঃস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহুম্মা আমীন!Top of Form (প্র. স.)

Magazine