কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

লায়লাতুল ক্বদর: সুযোগ হারাবার আগেই জেগে উঠুন!

post title will place here

ভূমিকা: মহাকালের আবর্তে প্রতিবছর আমাদের জীবনে এমন একটি রাত আসে, যা অন্ধকার ছাপিয়ে মুমিনের হৃদয়ে জ্বালিয়ে দেয় পরম প্রাপ্তির প্রদীপ। সেই রাতটি কোনো সাধারণ রাত নয়, বরং তা হচ্ছে ‘লায়লাতুল ক্বদর’ নামক এক মহিমান। নীল আকাশের কার্নিশ বেয়ে আকাশের সীমানা পেরিয়ে ক্বদরের রাত যখন পৃথিবীর বুকে পরম মমতা নিয়ে নেমে আসে, তখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এক অপার্থিব প্রশান্তি আর ফেরেশতাদের রহমতের শীতল পরশ। এটি সেই রজনি, যা মানবজাতির মুক্তির সনদ ‘আল-কুরআন’ নাযিলের মাধ্যমে ধরণিকে করেছে ধন্য। এই একটি রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি আমাদের জন্য এক বিশেষ উপহার, এক স্বর্গীয় বোনাস। কিন্তু ঠিক কোন রাতে লুকিয়ে আছে এই অমূল্য রত্ন? কেনই-বা একে পেতে নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ ১০ দিনের প্রতিটি বিজোড় রাতে হন্যে হয়ে খুঁজতেন? আধ্যাত্মিক প্রশান্তি আর পাপমুক্তির এক নতুন অধ্যায় রচনার জন্য আসুন আজ আমরা জেনে নিই এই মহিমান্বিত রাতের গুরুত্ব এবং আমাদের করণীয়।

লায়লাতুল ক্বদরের অনন্য মহিমা ও ফযীলতসমূহ:

১. কুরআন নাযিলের রাত: আল্লাহ তাআলা এই রাতেই মানবজাতির হেদায়াতের মশাল কুরআনে কারীম অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَة الْقَدْرِ ‘নিশ্চয়ই আমি এটি (কুরআন) ক্বদরের রাতে নাযিল করেছি’ (আল-ক্বদর, ৯৭/১)। কুরআনের পরশ যে পেয়েছে, তাকেই সে করেছে মহিমান্বিত। যে ফেরেশতা কুরআন এনেছেন তিনি হয়েছেন শ্রেষ্ঠ ফেরেশতা, যার উপর নাযিল হয়েছে, তিনি হয়েছেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবী আর যে মাসে এটি এসেছে, তা হয়েছে শ্রেষ্ঠ মাস। ঠিক তেমনি যে রাতে এই মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে, কুরআনের সেই অনন্য সম্মানেই ‘লায়লাতুল ক্বদর’ হয়েছে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এক রজনি। অর্থাৎ কুরআনের পরশই এই রাতকে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে মর্যাদাবান ও বরকতময় করেছে।

২. ভাগ্য নির্ধারণের রাত: এই রাতে আল্লাহ তাআলা আগামী এক বছরের জন্য সৃষ্টিজগতের যাবতীয় তাক্বদীর বা ফয়সালা নির্ধারণ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ ‘এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়, আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে’ (আদ-দুখান, ৪৪/৪)। এই রাতে আগামী এক বছরের হায়াত-মউত, সচ্ছলতা-অভাব, সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্য এবং সম্মান-অসম্মানসহ যাবতীয় বিষয় লিপিবদ্ধ করা হয়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলেছেন,إنَّ اللَّهَ قدَّرَ مقاديرَ الخلائقِ قبلَ أن يخلقَ السَّمواتِ والأرضَ بخمسينَ ألفَ سنةٍ ‘আল্লাহ তাআলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগেই সৃষ্টিজগতের ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন’।[1] তাহলে লায়লাতুল ক্বদরে পুনরায় ভাগ্য নির্ধারণের অর্থ কী?

আসলে এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। মানুষের চিরন্তন ভাগ্যলিপি মূল ডাটাবেজ বা ‘লাওহে মাহফূযে’ সৃষ্টির শুরুতেই সংরক্ষিত হয়েছে। আর লায়লাতুল ক্বদরের রাতে সেই মূল লিপি থেকে আগামী এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট অংশটুকু (রিযিক্ব, হায়াত, মৃত্যু ইত্যাদি) ফেরেশতাদের নথিতে স্থানান্তর করা হয়।[2]

৩. বরকতময় রজনি: ক্বদরের রাতটি অত্যন্ত বরকতময় ও কল্যাণময়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ ‘নিশ্চয়ই আমি এটি (কুরআন) এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি’ (আদ-দুখান, ৪৪/৩)

৪. হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ইবাদত: এই রাতের ইবাদত অন্য যেকোনো সময়ের ১ হাজার মাস (যা প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস) ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ‘লায়লাতুল ক্বদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম’ (আল-ক্বদর, ৯৭/৩)। অর্থাৎ এমন ১ হাজার মাস, যাতে ক্বদরের রাত নেই, তার চেয়েও এই একটি রাতের ইবাদত আল্লাহর কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।

অধিকাংশ মুফাসসির ও ছালেহ আল-উছায়মীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর অশেষ অনুগ্রহ ও দয়ার কারণে এই রাতটিকে এমন মর্যাদা দিয়েছেন যে, এতে কৃত ইবাদত ও নেক আমলের ছওয়াব হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ যদি কোনো মানুষ হাজার মাস ধরে নেক আমল করে, যার মধ্যে লায়লাতুল ক্বদর নেই; তবুও লায়লাতুল ক্বদরে কৃত একটি নেক আমল তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। কারণ এই রাতে রয়েছে অপরিসীম ছওয়াব, মহান প্রতিদান, কল্যাণ ও বরকত। আবার কোনো কোনো মুফাসসির বলেন, আরবরা অনেক সময় বড় কোনো সংখ্যা বা অগণিত পরিমাণ বুঝাতে ‘হাজার’ শব্দটি ব্যবহার করত। আল্লাহ তাআলা এখানে মুমিনদের উৎসাহিত করতে এই আধিক্যের পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন।[3]

৫. ফেরেশতাদের পদচারণা ও রহমত অবতরণ: এই রাতে জিবরীল আলাইহিস সালাম ও অগণিত ফেরেশতা যমীনে নেমে আসেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ ‘সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরীল আলাইহিস সালাম) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কল্যাণময় বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হন’ (আল-ক্বদর, ৯৭/৪)

৬. প্রশান্তি ও নিরাপত্তার রাত: এই রাতটি আদ্যোপান্ত শান্তিময়। অনিষ্টতা ও পাপাচার থেকে মুক্ত থেকে মুমিনরা সারা রাত ইবাদতে মগ্ন থাকেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ‘এই রাতটি পুরোপুরি শান্তিময়, ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত’ (আল-ক্বদর, ৯৭/৫)

৭. এ রাতে শয়তান বের হয় না: রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,لا يَحِلُّ للشَّيطانِ أنْ يَخرُجَ معها يومئذ ‘সেদিন শয়তানের জন্য তার সাথে বের হওয়া অনুমোদিত হয় না’।[4]

লায়লাতুল ক্বদর কখন পালন করবে?

রামাযান মাসের শেষের ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতেই লায়লাতুল ক্বদর হয়ে থাকে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, تَحَرَّوْهَا فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ ‘তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তা (লায়লাতুল ক্বদর) অনুসন্ধান করো’।[5]

লায়লাতুল ক্বদরের আমলসমূহ:

১. ছালাত আদায় করা: আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,من قام ليلةَ القدْرِ إيمانًا واحتسابًا غُفِر له ما تقدَّم من ذنبِه ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং ছওয়াবের আশায় লায়লাতুল ক্বদরে ছালাত আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে’।[6]

২. অন্য সময়ের তুলনায় অধিক ইবাদত করা: আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন,كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ ‘রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযানের শেষ দশকে এমনভাবে ইবাদতে পরিশ্রম করতেন, যা অন্য সময় করতেন না’।[7] তাই আমাদের শত ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর জন্য সময় বের করে অন্য সময়ের থেকে বেশি ইবাদত করা উচিত।

৩. নিজের সাথে স্ত্রী-পরিবারকেও জাগানো: আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন,كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ العَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ ‘নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (রামাযানের) শেষ দশকে প্রবেশ করতেন, তখন তিনি কোমরের কাপড় শক্ত করে বেঁধে নিতেন, সারা রাত ইবাদতে জাগ্রত থাকতেন এবং নিজের পরিবার-পরিজনকে (ইবাদতের জন্য) জাগিয়ে দিতেন’।[8]

৪. ই‘তিকাফ করা: হাদীছে এসেছে, আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, أنَّ النبيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كانَ يَعْتَكِفُ العَشْرَ الأوَاخِرَ مِن رَمَضَانَ ‘নিশ্চয়ই নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযানের শেষ ১০ দিন ই‘তিকাফ করতেন’।[9] লায়লাতুল ক্বদর দ্বারা শুধু রামাযানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলো উদ্দেশ্য। তাই কেউ যদি ই‘তিকাফ করে, তাহলে সে অবশ্যই লায়লাতুল ক্বদরও পেয়ে যাবে।

৫. বিশেষ একটি দু‘আ পাঠ করা: আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি বলবে,اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নী। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাস। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও’।[10]

সতর্কীকরণ: তবে এই মহিমান্বিত রাতকে কেন্দ্র করে রাত্রি জাগরণের নাম দিয়ে সমাজে বিভিন্ন রীতি ও প্রথা প্রচলিত রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে শরীআত বিরোধী। যেমন- (ক) কবরস্থানে গিয়ে সম্মিলিত দু‘আ করা। (খ) আতশবাজি ও আনন্দ-উল্লাস করা। এই পবিত্র রাতকে উৎসবের রাত মনে করে আতশবাজি ফোটানো বা পটকা ফোটানো। (গ) নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করে উদযাপন করা। (ঘ) বিশেষ ছালাত উদ্ভাবন করা, যেমন- ১২ রাকআত, ১০০ রাকআত ইত্যাদি। (ঙ) কেবল জেগে থাকা, ইবাদত না করা। যেমন- গল্প, আড্ডা, গেমস, মোবাইলে উদ্দেশ্যহীন স্ক্রল করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়ানো ইত্যাদি। (চ) মৃতদের রূহ বাড়িতে আসে এই ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করা। (ছ) মীলাদের আয়োজন করা ইত্যাদি।

উপসংহার:

সুযোগ হারাবার আগেই জেগে উঠো হে উম্মত! লায়লাতুল ক্বদর হলো আমাদের ঝরঝরে হয়ে যাওয়া জীবনকে নতুন করে সাজানোর এক স্বর্গীয় সুযোগ। হাজার মাসের ইবাদতের ছওয়াব যদি একটি রাতেই পাওয়া যায়, তবে সেই রাত কি হেলায় হারিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে? হয়তো আপনার একটি রাতের আন্তরিক ইবাদত আর দুফোঁটা চোখের অশ্রুই বদলে দিতে পারে আপনার আগামী বছরের পুরো রূপরেখা। তাই আসুন, এই শ্রেষ্ঠ রজনিতে ঘুমের মোহ ত্যাগ করে আমরা আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিই। জীবনের সব ক্লান্তি আর পাপ মুছে নেওয়ার এই মহাসুযোগ বারবার আসে না। নিজে জেগে উঠুন, জাগিয়ে তুলুন নিজের আত্মাকে এবং লুফে নিন লায়লাতুল ক্বদরের এই বিশেষ উপহার। মহান আল্লাহ আমাদের লায়লাতুল ক্বদরকে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা আর ভাবগাম্ভীর্য সহকারে পালন করার তাওফীক্ব দিন- আমীন!

 হুসাইন আহমাদ আল-ইয়াদী

শিক্ষার্থী, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।


[1]. ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৫৩।

[2]. তাফসীরে সা‘দী, সূরা ক্বদরের তাফসীর দ্রষ্টব্য।

[3]. তাফসীরে কুরতুবী; https://binothaimeen.net/s/GFQqwlVd

[4]. ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৩৬৮৮, হাদীছটি শাহেদের ভিত্তিতে হাসান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/২০১৭।

[6]. ছহীহ মুসলিম, হা/৭৬৯।

[7]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭৫।

[8]. ছহীহ বুখারী, হা/২০২৪।

[9]. ছহীহ মুসলিম, হা/১১৭২।

[10]. তিরমিযী, হা/৩৫১৩।

Magazine