উত্তর: আল্লাহ তাআলা লেখক ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেন সে বছরে যা কিছু সংঘটিত হবে তা লাওহে মাহফূয থেকে নকল (লিপিবদ্ধ) করতে। লায়লাতুল ক্বদরে ‘উম্মুল কিতাব’ থেকে সে বছরের রিযিক, মৃত্যু, জীবন ও বৃষ্টি সবকিছুই লিখে নেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ের ফয়সালা করা হয় (আদ-দুখান, ৪৪/৪)। ক্বদরের রাত্রিতে যে আমলগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা উচিত, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো- ১. দু‘আ করা। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! যদি আমি ক্বদরের রাত পেয়ে যাই, তখন কী দু‘আ করব? তিনি বললেন, ‘তুমি বলো اللهم إنك عفوٌّ تحبُّ العفوَ فاعفُ عنيহে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন’ (তিরমিযী, হা/৩৫১৩)। ২. কিয়ামুল লায়ল ও তাহাজ্জুদ আদায় করা। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় ক্বদরের রাতে (ছালাতে) দাঁড়ায়, তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৯০১; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৬০)। ৩. কুরআন তিলাওয়াত (তাদাব্বুরসহ) করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতগুলো গভীরভাবে চিন্তা করে’ (ছোয়াদ, ৩৮/২৯)। ৪. ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা শেষ রাতে (রাতে জাগ্রত হয়ে) ইস্তিগফার করত’ (আয-যারিয়াত, ৫১/১৮)। রামাযানের শেষ দশকে লায়লাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বিষয়। কেননা নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় লায়লাতুল ক্বদরে (ছালাতে) দাঁড়ায়, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় (ছহীহ বুখারী, হা/১৯০১; ছহীহ মুসলিম, হা/৭৬০)। কিন্তু নির্দিষ্ট করে সাতাশতম রাত বা অন্য কোনো রাতকে কেন্দ্র করে মসজিদে বা অন্য কোনো জায়গায় নারী–পুরুষের একত্র সমাবেশ, সেই রাতকে ছালাত, যিকির ও দারসের মাধ্যমে পালন করা এবং ভোজের (খাবারের আয়োজন) করা, এভাবে পালন করার কোনো প্রমাণ নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, ছাহাবা ও তাবেঈন থেকে নেই। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে যে ব্যক্তি এমন কিছু নতুন সংযোজন করল, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (ছহীহ বুখারী, হা/২৬৯৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। ইরবায ইবনু সারিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে সতর্ক থাকো। কেননা প্রত্যেক নবউদ্ভাবনই বিদআত আর প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা’ (আবূ দাঊদ, হা/ ৪৬০৭)।
প্রশ্নকারী : তাহের বাবু
ফেনী।
