কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে

শিক্ষা-দীক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি ও অগ্রগতি অনেক বেড়েছে। বেড়েছে নারীর ক্ষমতায়ন। অথচ নারীর প্রতি সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের মাত্রা কমেনি এতটুকুও। রাজধানীসহ সারাদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলছে। গত এক বছরে সারাদেশে প্রায় ৪ হাযার নারী নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, আগের চেয়ে আইনের কড়াকড়ি কিছুটা বাড়ানো হলেও কোনভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন থামাতে পারেনি। বরং এ সংখ্যা প্রতি বছর বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য মতে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গত এক বছরে রাজধানীসহ সারাদেশে ৩ হাযার ৯১৮ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। পরিসংখ্যান মতে, ২০১৮ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯৪২টি। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮২ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৮ জনকে। একই সময়ে শ্লীলতাহানীর শিকার হয়েছেন ৭১ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৪৬ জন নারী ও কন্যা। মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, গত ১২ মাসে সারাদেশে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে ১৯ জন। এতে ৩ জনের মৃত্যু ঘটে। অগ্নিদগ্ধ হয়েছে ৭৩ জন যাতে মৃত্যু ঘটে ১৯ জনের। এ সময়ে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ১৪৫টি। নারী ও শিশু পাচার হয়েছে ৪১ জন। পাচারের শিকার নারী ও শিশুর মধ্যে ১৫ জনকে বিভিন্ন পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়।

পরিসংখ্যান মতে, ২০১৮ সালে ৪৮৮ জন নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ৩৯ জনকে। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২১২ জন। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ১০২ জনকে। এ সময়ে গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৮৭ জন। এর মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৫৮ জনকে। এছাড়া নির্যাতনের কারণে ৪ গৃহকর্মী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ১৭১ জনকে। উত্ত্যক্তের কারণে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে ১৪ জন। তথ্যমতে, ২০১৮ সালে বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে ৩০৫ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। এ সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন আরও ১৮ জন। এছাড়া একই সময়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছেন ৪৭ জন এবং ৩৭৭ জন নারী ও কন্যার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশী নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৯ জন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৮১ জন। এছাড়া বিভিন্নভাবে ঘরে বাইরে আরও অনেক নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।


Magazine